প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৭
পুলিশ প্রটোকলে থাকে কি প্রচ্ছন্ন তোষণ, সেজন্যেই?

“আমাকে পুলিশের প্রটোকল দেয়া লাগবে না, আমি পুলিশ প্রটোকল নেবো না। এমন কি আমি সরকারি কোনো গাড়ি ও ফ্ল্যাট নেবো না।” এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য দিলেন চঁাদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক । বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন। তিনি তঁার বক্তব্যে আরো বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে আমার আপন বলতে কেউ নেই। কোনো অন্যায় আবদার আমার কাছে চলবে না, ন্যায় আবদার করলে আমরা আছি। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেনের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় মো. মমিনুল হক এমপি আরো বলেন, হাজীগঞ্জে সড়কের পাশে যারা বালুর ব্যবসা করেন, তাদের সড়কের পাশের ৫০/৬০ ফুট ছেড়ে দিতে হবে। ওভারলোড বালু পরিবহন, ত্রিপলবিহীন বালু পরিবহন করা যাবে না। রেজিস্ট্রি অফিসে উপকারভোগীরা সরকারি ফি জমা দেবে, জমি রেজিস্ট্রি করবে। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকতে পারবে না। এক মাসের মধ্যে আমরা মধ্যস্বত্বভোগী বন্ধ করবো। সরকারি জমি খুঁজে বের করে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু করবো। মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতায় কাজ করবো।হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে কোনো ভূমি দখলকারী, পেশাদার সালিসদার (সালিস) থাকতে পারবে না। যেখানে পেশাদার সালিস থাকবে সেখানে আপনারা মুরুব্বীগণ যাবেন না, তবেই দেখবেন পেশাদার সালিস দূর হয়ে যাবে। আমাদের দুই উপজেলার ছোট ছোট হাটবাজারগুলোতে আর ইজারা রাখা হবে না। এ সকল বাজারে যারা তাদের কৃষি পণ্য নিয়ে আসেন, তারা কেনো খাজনা দেবেন?
রাজনীতিতে ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক একজন পোড়-খাওয়া মানুষ। তিনি একজন নামকরা ব্যবসায়ী। নিজের আয়ের অনেক বড়ো একটা অংশ তিনি বিএনপির রাজনীতির পেছনে ব্যয় করেছেন। সময় দিয়েছেন নির্দ্বিধায়। জেলা বিএনপির সভাপতির পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তিনি দেখেছেন, পুলিশ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার পুলিশ কীভাবে স্থানীয় এমপিকে চাহিদার চেয়েও বেশি প্রটোকল দিয়ে তোষণ করেছে, আর তার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের ওপর কী না করেছে। তোষণের প্রভাবে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে এমপির নীরবতা কিংবা ব্যর্থতায় নিজ দলীয় লোকজনও এমপির আশীর্বাদপুষ্ট লোকজন দ্বারা পুলিশের প্রশ্রয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চয়ই নবনির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক পুলিশ প্রটোকলে তোষণের গন্ধ আন্দাজ করছেন, সেজন্যে তিনি সে প্রটোকল এড়াতে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। এমপিকে প্রটোকল না দিয়ে পুলিশ যাতে সে সময়টাতে জনগণকে সেবা দিতে পারে সে বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। এটা মহৎ ভাবনা। বাস্তবতা হলো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে যথাযথ দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে এমপি কেনো, যে কোনো জনপ্রতিনিধি উপকারভোগী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যে ভালোবাসা পায়, সেটা পুলিশ প্রটোকলের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আমরা মনে করি, চঁাদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার নবনির্বাচিত এমপি প্রাগুক্ত বাস্তবতায় বিশ্বাসী। তঁার জন্যে নিরন্তর শুভ কামনা।







