রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০

জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশায় হার্দিক অভিনন্দন!

অনলাইন ডেস্ক
জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশায় হার্দিক অভিনন্দন!

বহু জল্পনা-কল্পনাকে দ্রবীভূত করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বায়বীয় প্রচারণাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আজ জাতি তুলে ধরেছে বিশ্বের সামনে। এ নির্বাচনে রায়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির হাজার বছরের সেরা অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধ কিছুটা হলেও ফিরে পেলো তার আত্মগৌরব। পৃথিবী জানলো, বাংলাদেশ মাথা নোয়ায় না, বাঙালিও মাথা নোয়ায় না। মনের মধ্যে পুষে রাখা চেতনাকে সময়মত বাঙালি প্রজ্বলিত করে তুলতে পারে। নির্বাচনে এ জয় তাই বাংলাদেশের জয়, লাল-সবুজ পতাকার জয়। আগের দিন সন্ধ্যা ও রাতের কিছু কিছু অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে বাদ দিলে বলা যায়, নির্বাচন মোটের উপর গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যদিও প্রদত্ত ভোটের শতকরা হারে কিছুটা অতৃপ্তি থেকে যায়, তবুও বলতে হয়, জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ফলাফল গণনায় অতিরিক্ত সময় লাগার বয়ান দিলেও বাস্তবে তত সময় লাগেনি। ভোররাতের মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দেখা দেশবাসী পেয়ে যায়। চাঁদপুরের কচুয়া, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ দিরাই-শাল্লাসহ কয়েকটি জায়গায় দেখা যায়, বিজিত প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে মেনে নিয়ে অভিনন্দিত করেছেন। এ চর্চা আমাদের প্রাণে প্রশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে। এ দৃশ্য দেশজুড়ে প্রত্যক্ষ করতে পারলে বলা যেত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। হয়তো ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবর্তন আমরা উপভোগ করতে পারবো।

নির্বাচন কাক্সিক্ষত গ্রহণযোগ্যতায় সম্পন্ন হলেও এবার প্রতীক্ষা সরকার গঠনের। প্রায় আঠারো মাসের প্রতীক্ষায় পাওয়া নির্বাচিত সরকার যেদিন যাত্রা শুরু করবে সেদিনই আমাদের শঙ্কার অবসান হবে। কেননা কাপে আর ঠোঁটে এখনও অনেক ব্যবধান। আমরা অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় থাকবো শপথ গ্রহণের। যারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন তাদের জন্যে আমাদের হার্দিক অভিনন্দন। আমরা জানি, বিজয়ের এ পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না কখনও। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিজয়ের ফসলকে ঘরে তুলতে হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ বিজয় একটা মহান আমানত। জনগণ তাদের বিশ্বাস ও আস্থাকে আমানত রেখেছে বিএনপি’র কাছে। সুতরাং জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েই সরকার পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনের আগে পক্ষ-বিপক্ষ থাকলেও সরকার গঠিত হওয়ার পর সবাই তার জনগণ। সবাই তখন আপন, কেউই পর নয়। এই দর্শনকে মাথায় রেখেই বিজয়ী দলকে সরকার পরিচালনা করতে হবে। বিজয়ী দলের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখা, জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা, ঘাটে ঘাটে হতে শুরু করে সর্বত্র দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট হওয়া। এর পাশাপাশি আরও একটা বড়ো দায়িত্ব সরকারের মাথায় বর্তেছে। তা হলো রাজপথে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থী সমাজকে পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সমাজের হৃত সম্মানকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে দেওয়া।

বড়ো বড়ো স্বপ্ন আমরা দেখি না। আর কোনো মেগা প্রকল্পেরও প্রয়োজন আপাতত আমাদের নেই। গত চুয়ান্ন বছরে যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা ধরে রেখে জনগণকে স্বস্তিতে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিলেই নূতন সরকারকে মানুষ মাথায় করে রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা সেই সুদিনের পথ চেয়ে বাঁচি, জীবনকে যাপনের উপলক্ষ খুঁজি। নূতন সরকার কর্মে-কল্যাণে ইতিহাসকে জয় করুক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়