রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৬

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত এমপি এম এ হান্নান

বিএনপি আমাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি শপথ নেবো না

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
বিএনপি আমাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি শপথ নেবো না
ফরিদগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী নানান বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব এমএ হান্নান।

সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী নানান বিষয় নিয়ে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ হান্নান।

তিনি বলেন, কেউ যেন অতি উৎসাহে এমন কোনো কাজ না করেন, যাতে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও

মাদকসেবীদের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। আইনভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—এ ক্ষেত্রে আমি জিরো টলারেন্সে। আমি আমার নীতিতে অটল থাকবো। এতোদিন যে কথা দিয়েছি এখন কথা রাখার পালা। আমার প্রতিটি পদক্ষেপ হবে জনকল্যাণে এবং এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে। ভোট শেষ সকল ভেদাভেদ শেষ। সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করবো। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সকলকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে, মানুষের জন্যে কল্যাণকর রাজনীতি করতে হবে। সন্ত্রাসী বা অন্যায়কারী যেই হোক না কেন, সে যদি আমি হই বা আমার সন্তানও হয়, তার জন্যে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই আমি আমার ছেলের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলকে শান্ত থাকা এবং ধৈর্য ধরার জন্যে অনুরোধ করেছি। আমি ইতোমধ্যেই যেসব ঘটনা ঘটেছে সেসব বিষয়ে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেছি। তাকে সঠিক তদন্ত শেষে সঠিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে অনুরোধ করেছি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এম এ হান্নান আরো বলেন, আমার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবো না।

এম এ হান্নান দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ অতীতে তাঁর দলীয় মনোনয়ন বাতিল করাতে ভূমিকা রেখেছিলো এবং এবারও একই ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে। তবে ফরিদগঞ্জের জনগণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থনে তিনি জনগণের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করিনি। নির্বাচন করেছি একটি জনবিচ্ছিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত পক্ষ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও অপপ্রচারে জড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পুনরায় অনুরোধ জানান।

নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার জন্মের পর এই প্রথম দেখা মতে ফরিদগঞ্জে একটি স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে আবারও সকল ভোটার, প্রশাসন, সাংবাদিক, নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ফরিদগঞ্জ আসন থেকে নবনির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব এমএ হান্নান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে নির্বাচিত করায় দলমত নির্বিশেষে ফরিদগঞ্জবাসী, স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও তাঁর নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরপরই ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু শারিরিক অসুস্থতা ও হৃদযন্ত্রে রিং বসানোর কারণে তিনি তাৎক্ষণিক গণসংযোগ করতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সফিউল আলম বাশার মুকুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমানত গাজী, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, এমএ হান্নানের পুত্র আব্দুল্লাহ্ ইবনে হান্নান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মঞ্জুর, সদস্য সচিব আবু ইউসুফ শাওন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়