প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৬
শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে অনিশ্চয়তা!

শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন না হওয়ায় এ রুটের ফেরিতে যানবাহন দিন দিন কমে যাচ্ছে। মেঘনা নদীর ঈদগাহ ফেরিঘাট এলাকা জুড়ে ভাঙ্গা রাস্তা বহুদিন থেকে বিরাজমান। উপর্যুপরি সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় ফেরিঘাটমুখী সড়ক উন্নয়ন থমকে আছে।
|আরো খবর
প্রকল্পের জন্যে নির্ধারিত ৯৫ দশমিক ৮৫ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ৪৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতেই ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় পুরো বরাদ্দকৃত ৪৩১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফলে বাকি ৪৬ দশমিক ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সড়ক নির্মাণ কাজে। অর্থসংকট পুরো প্রকল্প কার্যত থমকে আছে।
২০১৯-২০ অর্থ বছরে অনুমোদিত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কথা ছিলো। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে, যা যান চলাচলের জন্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনের তৈরি প্রাক্কলন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাত্র অর্ধেকের কিছু বেশি জমি অধিগ্রহণেই পুরো অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পাপরাইল এলাকার বাসিন্দারা জানান, জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়ায় ঘর সংস্কার কিংবা মেরামত করতেও প্রশাসনিক বাধা রয়েছে। অথচ তারা এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। দিন যত যাচ্ছে, জমির দাম তত বাড়ছে, ফলে নতুন জায়গায় বসতি গড়ার সামর্থ্যও হারাচ্ছেন তারা।
পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা জানান, এই ভাঙা রাস্তার কারণে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাচ্ছে এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শরীয়তপুর অংশে এলেই চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দর এর মধ্যে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে দেরি হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে।
জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, ১৯টি এলএ কেসের মধ্যে মাত্র ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণে নতুন করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রকল্প ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত নয়। বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের নির্মাণকাজও থমকে গেছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রাক্কলন সঠিক ছিল কি না এবং কোনো অসংগতি আছে কি না তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। অন্যদিকে সওজ বিভাগ জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃদরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








