প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪
মৎস্য দপ্তরের বিশেষ কম্বিং অপারেশন চলমান সত্ত্বেও
পদ্মা-মেঘনায় চলছে নির্বিচারে মাছের পোনা নিধন

|আরো খবর
মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর-এর উদ্যোগে চলছে বিশেষ কম্বিং অপারেশন। চলমান এই কার্যক্রমের মধ্যেও থেমে নেই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন।
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি দিন-রাত নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বাইলা, চিংড়ি, শিলং, রিটা, আইড়সহ নানা প্রজাতির পোনা ধরছে অসাধু জেলেদের দিয়ে। আর নিধন করা পোনা প্রতিদিন গ্রামেগঞ্জ ও শহরের অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে।
জানা যায়, নদীতে অধিকাংশ মাছই শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদীগুলো। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নদী ছেঁকে ফেলছে এবং নির্বিচারে নিধন করছে এসব মাছের পোনা।
জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দীজাল, মশারী জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নেমে পড়ছে নদীতে। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, উঠে আসছে উপকারী বিভিন্ন জলজ প্রাণী। নিধন করা পোনা চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার, সফরমালী, লালপুর, বড়স্টেশন, পুরাণবাজার, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা, আখনেরহাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেয় জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত অগণিত জেলে মাছের পোনা নিধন করে থাকে। জানুয়ারি মাসের শুরুতে নদীতে প্রচুর কুয়াশা ও শীত পড়ায় এবার নদ নদীতে রেণুপোনা বেশি দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরাণবাজার রনাগোয়াল এলাকায় বাইলার গুঁড়া বা সাগরের পোনার নামে বিভিন্ন মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পেছনে প্রতিদিন ৩৫টি নৌকা দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ বেচাকেনা হয়। এই চক্রের নেতৃত্বে চলে পোনা নিধন কার্যক্রম।
এরা প্রকাশ্যে বলে, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অফিসকে ম্যানেজ করে তারা এ কাজ করছে। এভাবে নির্বিচারে পোনা নিধন করার কারণে নদ-নদীতে হ্রাস পাচ্ছে মাছের উৎপাদন। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুরাণবাজার রনাগোয়াল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। গুঁড়া মাছ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ-পুলিশকে হাত করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন তারা।
জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে কমছে মাছের উৎপাদন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েছে। তবে আমরা বিষয়টি অবগত আছি, গত ক'দিন পূর্বেও মশারী জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাইলা মাছসহ নদ-নদীতে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধনের মহোৎসব চলছে চাঁদপুরের পুরাণবাজার রনাগোয়াল, বড় স্টেশন, বহরিয়া, হরিণা এলাকায়। এই পোনার সাথে নষ্ট হচ্ছে অন্য প্রজাতির মাছের পোনা।
৩৫টি নৌকা দিয়ে প্রতিদিন ৫০/৬০ মণ বালিয়া (বাইলা) পোনা বেচাকেনা হয় রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পেছনে। প্রতিদিন এই পোনা মাছ বিক্রির হাট বসছে। এই পোনা মাছের আমদানি বেশি হলে তারা প্লাস্টিকের ড্রামে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চালান করছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এদিকে নজর নেই প্রশাসনের। এই বালিয়ার পোনা নিধন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
DCK/MZH








