প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৩
ফিরে পাওয়া সেই সোনালি দিন: দীর্ঘ সময়ের পর পরীক্ষার হলে যখন স্বস্তির নিশ্বাস

|আরো খবর
ডিজিটাল জালিয়াতির নতুন চ্যালেঞ্জ
এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকে বলা যেতে পারে 'প্রযুক্তিগত অপরাধের আধুনিক রূপ'। কুড়িগ্রাম থেকে দিনাজপুর, নওগাঁ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ—চক্রগুলো পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিশাল আর্থিক চুক্তি করেছিল। তাদের অস্ত্র ছিল বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ব্লুটুথ ডিভাইস ও অতি ক্ষুদ্র ইয়ারপিস। কিন্তু এবারের বিশেষত্ব হলো প্রশাসনের 'প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক' বা আগাম আঘাত।
অতীতে সাধারণত পরীক্ষা চলাকালীন জালিয়াতি ধরা পড়ত, কিন্তু এবার ৮ জানুয়ারি থেকেই রংপুর ও রাজশাহীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের খাঁচায় পোরা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় দেড় শতাধিক গ্রেপ্তার এটাই প্রমাণ করে যে, এবারের গোয়েন্দা নজরদারি ছিল নিচ্ছিদ্র।
চাঁদপুরের সেই ‘সুশান নীরবতা’ ও এক শিক্ষকের আবেগ
এবারের পরীক্ষার সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ এবং মানবিক দিকটি উঠে এসেছে চাঁদপুর থেকে। জেলা প্রশাসনের ইস্পাতকঠিন নজরদারির ফলে কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছিল এক ‘ঐশ্বরিক নীরবতা’। পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন প্রবীণ সহকারী অধ্যাপক যে মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, "চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগে পরীক্ষার হলগুলো আবার পরীক্ষার হলের মতো দেখব, তা ছিল অকল্পনীয়।" গত দেড় দশকে নিয়োগ পরীক্ষার ডিউটি করতে গিয়ে যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের যেতে হয়েছে, এবার তার অবসান ঘটেছে।
নিরাপত্তার নতুন ব্যাকরণ
জালিয়াতি রুখতে প্রশাসন এবার যে ‘মডেল’ দাঁড় করিয়েছে, তা গবেষণার দাবি রাখে। পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখা, টর্চলাইট দিয়ে পরীক্ষা, কিংবা মেটাল ডিটেক্টরের নিবিড় তল্লাশি—প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল নিখুঁত।
শিক্ষার মান ও আস্থার পুনর্গঠন
পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে যখন অসদুপায় সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়, তখন শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। কিন্তু ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারির এই নজিরবিহীন কঠোরতা আমাদের নতুন বার্তা দিচ্ছে।
পরিশেষে, ৯ জানুয়ারির এই নিয়োগ পরীক্ষা কেবল একটি সফল আয়োজন নয়, এটি দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এক নৈতিক ঘোষণা।
লেখক : মো. জাকির হোসেন, শিক্ষক নেতা, বাকশিস,চাঁদপুর জেলা।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








