প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৪:৫৭
ফরিদগঞ্জে ভবন হেলেপড়া নিয়ে সংকটে তিনপক্ষ
ভবন খালি করে অর্থকষ্টে দেলোয়ার হোসেন

ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার একটি ভবন আরেকটি ভবনে হেলে পড়ার অভিযোগ নিয়ে তিনপক্ষ সংকটে পড়েছে। দু ভবনের দু মালিক এবং তৃতীয় পক্ষ পৌর কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ মার্চ ২০২৬ পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের কেরোয়া এলাকায় মিরপুর সড়কের সাবেক প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ৪তলা ভবনটি পাশের আরেক প্রবাসী আক্তার হোসেনের তিনতলা ভবনে হেলে পড়েছে বলে মৌখিক অভিযোগের ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
|আরো খবর
অভিযোগ পেয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া জনসাধারণের নিরাপত্তার খাতিরে উভয় ভবন খালি করার নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উৎপল পোদ্দারকে প্রধান করে ৪সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
কমিটি পরবর্তীতে সরেজমিন তদন্ত করে হেলে পড়ার বিষয়টি কারিগরি দিক থেকে নিশ্চিত হতে বুয়েট বা চুয়েট থেকে টিম নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। পৌর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বুয়েট ও চুয়েট কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন।
এদিকে হেলেপড়ার অভিযোগের ঘটনার পর দেড় মাস পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় দু ভবনের মালিক পক্ষ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভবন মালিক সাবেক প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার প্রতিবেশী জমি সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে আমার ভবনটি হেলে পড়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। চারতলা এই ভবন দিয়েই আমার সংসার চলে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আমি আমার ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়েছি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আক্তার হোসেন নিদের্শনা মানেননি। তার ভাড়াটিয়ারা বহাল তবিয়তে রয়েছে। এক দেশে দুই আইন হলে আমরা যাবো কোথায়? আমি নিশ্চিত আমার ভবন হেলে পড়েনি। আমি উপরের ভবনগুলো উঠানোর সময় কার্নিস বাড়িয়ে করেছি। ফলে হেলে পড়েছে বলে মনে হয়। আসলে তা নয়। আমি এই ঝামেলা থেকে মুক্তি চাই। এই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যেই ভবনে ভাড়াটিয়া উঠানোর আবেদন করেছি। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো সাড়া পাইনি। এভাবে চললে আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। এক সময়ে আক্তার হোসেনের সাথে আমার ভালো সর্ম্পক ছিলো। তখন ভবনটি এভাবে থাকলেও তিনি কিছু বলেননি। গত কয়েক বছর ধরে তার সাথে রাস্তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কারণে তিনি কোনো কিছুতে না পেরে আমাকে এভাবে ফাঁসালো।
অন্যদিকে হেলেপড়া নিয়ে অভিযোগকারী প্রবাসী আক্তার হোসেন বলেন, আমি প্রবাসী। সেখানেই আমার আয় রোজগার। আমি গত ১৮ এপ্রিল প্রবাসে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনের তদন্ত নিয়ে টালবাহানা করার কারণে আমিও বিপদে রয়েছি। একদিকে আমার ভবনের চিন্তা, অন্যদিকে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার চিন্তা। এছাড়া ভবন খালি করা লাগবে না বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন। তাই আমি ভবন খালি করিনি।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, ঘটনাটি পবিত্র ঈদুল ফিতরের পুর্ব মুর্হূতের । ঈদের পরে আমরা তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। হেলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত কিনা সেই বিষয়ে কারিগরি বিষয়ে বুয়েট বা চুয়েটের সাথে কথা বলার জন্যে তদন্ত টিম নিদের্শনা দিয়েছে। আমরা সেই মোতাবেক চিঠি চালাচালি করছি। কিন্তু এই বুয়েট বা চুয়েটের টিমের খরচ মিটাবে কে এটাই প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, তদন্ত কমিটি কারিগরি দিক আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের জন্যে বুয়েট বা চুয়েটের শরণাপন্ন হতে বলেছেন। আমরা সেই মোতাবেক বুয়েট ও চুয়েটে চিঠি দিয়েছি। শুধু ফিজিক্যাল পর্যবেক্ষণে যে পরিমাণ খরচের কথা জেনেছি, তা কীভাবে সংগ্রহ করা হবে তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। পৌরসভা এমনিতেই অর্থ সংকটে রয়েছে।








