রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭

ফরিদগঞ্জে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
ফরিদগঞ্জে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ

ঘর স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির অসহায় আব্দুল মতিন তালুকদারের পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাংচুর ও ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) দিনগত রাত ১২টার দিকে মতিন তালুকদারের আপন ছোট ভাই আব্দুল হান্নান তালুকদার, তার ছেলে জিহান তালুকদার ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে অতর্কিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সরেজমিন হামলার শিকার পরিবার, বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত হান্নান তালুকদার ও তার পরিবারের কাউকে কথা বলার জন্যে পাওয়া যায়নি। তাদের বসতঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই বাড়ির মোক্তার তালুকদার ও তার স্ত্রী পুষ্পা বেগম বলেন, আমাদের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা এই প্রথম। মতিন তালুকদারের বসতঘরে হামলার আওয়াজ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। পরে বাড়ির সামনের মসজিদে গিয়ে মাইকিং করলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মতিন তালুকদারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, হঠাৎ করে হান্নান, তার ছেলে চাঁদপুর থেকে লোকজন এনে রাতের অন্ধকারে আমাদেরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। ঘরে ব্যাপক ভাংচুর করে। আলমিরায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও জিনিসপত্র নিয়ে যায়। আমাকে, ছেলেকে ও আমার স্বামীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে আহত করে। বাড়ির লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসে এবং মসজিদের মাইকে এলান করার পর এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। তখন তাদের ভাড়া করে আনা ডাকাত প্রকৃতির লোকজন পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, তারা যাওয়ার সময় আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। তার আহত স্বামী মতিন তালুকদারের মাথার পেছনে রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তার স্বামী বিষয়টি থানায় অবহিত করেন এবং পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যায়।

হামলার শিকার মতিন তালুকদার বলেন, ভাইদের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। তিনি প্রায় ৩০ বছর প্রবাসে ছিলেন। ওই সময়ে তিনি নৈতিকতার স্থান থেকে ভাইদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার ভাইয়েরা তখন ছোট ছিলো। কিন্তু তার বাবা তাদেরকে সম্পত্তি বন্টন করে দেননি। কিন্তু তারা যে যতোটুকু অংশ পাবেন ওইভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। তবে হান্নান তার সম্পত্তি বিক্রি করেও আমার সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে। তার বর্তমান ঘরটি সরিয়ে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার জন্যে বলা হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমার পরিবারের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে। আমার ছেলে চাচার সাথে এই বিষয়ে আড়াল করে তার চাচাকে ঘর স্থানান্তরে সহযোগিতা করবেন বলে কথা দেয়। কিন্তু হান্নান, তার ছেলে জিহান বিষয়টি অন্যভাবে নিয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা চালায়।

মতিন তালুকদারদের বাড়ির বাসিন্দা কাউছার তালুকদার। তিনি ঢাকায় রঙের কাজ করেন। ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে আওয়াজ শুনে খালি গায়ে বের হয়ে দেখি, বহিরাগত অপরিচিত লোক সাইমনকে প্রচুর মারধর করে। আমি নিজে মার খেয়ে তাকে প্রাণে রক্ষা করেছি।

ওই এলাকার পণ্ডিত বাড়ির ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, রাতে মাইকিং শুনে তিনি এগিয়ে আসেন। তখন তিনি দেখেন অজ্ঞাতনামা বেশ ক'জন সিএনজি যোগে চলে যাচ্ছেন। তখন তিনি তাদেরকে প্রতিরোধ করতে গেলে হান্নানের ছেলে এসে তার পায়ে পড়ে এবং বলে, চাচা তারা আমার লোক। যে কারণে তাদেরকে আর প্রতিরোধ করতে পারিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির খান বলেন, মতিন তালুকদারদের সম্পত্তি সঠিকভাবে বন্টন হয়নি। তাদের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বহুবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাদের ভাইদের মধ্যে একতা না থাকায় আজ পর্যন্ত বিরোধগুলো সমাধান হয়নি। ওইদিন রাতের ঘটনার বিষয়ে আমি জেনেছি। মতিন তালুকদার বিয়ষটি থানায় জানিয়েছেন। অফিসার এসে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। হান্নানকে নিয়ে অফিসারের সাথে কথা বলার জন্যে বলা হয়। কিন্তু হান্নান পুলিশের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। আমি এইটুকুই জানি। ওইদিন রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, মসজিদে মাইকিং করা না হলে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিলো বলে জানান ইউপি সদস্য।

এদিকে এসব বিষয়ে কথা বলতে হান্নানের ঘরে গেলে তাকে ও পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়