প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬
সহসা দৃশ্যমান হচ্ছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের অবকাঠামো
প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপন কাজ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি

দীর্ঘ ৮ বছর ধরে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে থমকে থাকা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অবশেষে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের প্রথম ধাপ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায় সূচনা হয়েছে।
|আরো খবর
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এরপর শুরু হবে বহুল প্রত্যাশিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপনা নির্মাণ।
রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন তথা অবকাঠামো নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার আলোচনা করে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, প্রকল্পের জন্যে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ দৃশ্যমান হলে শুধু এই জেলার মানুষই নয়, আশপাশের একাধিক জেলার বাসিন্দারাও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপও অনেকাংশে কমবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণর প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপরই পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ড্যাব চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজল।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








