রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯

ট্রাফিক তাহলে ঘুমেই (!) থাকে-

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাফিক তাহলে ঘুমেই (!) থাকে-

‘ফের সড়কে চলছে আইদি পরিবহনের নিবন্ধনহীন বাস’-এটি গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় প্রতাশিত একটি সংবাদের শিরোনাম। এ সংবাদটির বিবরণীতে কামরুজ্জামান টুটুল লিখেছেন, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ক’দিন বন্ধ ছিলো নিবন্ধনবিহীন আইদি পরিবহনের একটি বাসের চলাচল। সম্প্রতি ফের চলতে শুরু করেছে নিবন্ধনবিহীন আইদি পরিবহনের ওই বাসটি। এ তথ্য সংশ্লিষ্টদের। তবে আইদি পরিবহন সূত্র দাবি করেছে, তাদের নিবন্ধনবিহীন কোনো গাড়ি সড়কে চলছে না। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, আমাদের নজরে আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে স্পেশাল বাস বোগদাদ ট্রান্সপোর্ট আর আইদি পরিবহন চলাচল করে আসছে। বাসগুলোর বেপরোয়া গতির বিষয় সবার জানা। কিন্তু এ সড়কে নিবন্ধনবিহীন যাত্রীবাহী বাস চলাচল সকলকে ভাবিয়ে তুলছে। শুরুতেই এটি নিয়ন্ত্রণ না করলে এই সড়কে অন্যরা নিবন্ধনহীন বাস চলাচলে উৎসাহ পাবে। সরজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরমুখী নিবন্ধনহীন আইদি পরিবহনের একটি বাস বাকিলা বাজারে যাত্রী উঠানামা করতে দেখা গেছে। এর সামনে পিছনে কোনো নাম্বার প্লেট নেই। সরকারিভাবে গাড়ির নিবন্ধন কার্যক্রম থাকার পরে চাঁদপুর ও কুমিল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের উপর দিয়ে সড়কে কীভাবে নিবন্ধনহীন গাড়ি চলাচল করে তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। আবার অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, আইদি পরিবহনের একটি নয়, নিবন্ধনহীন দুটি গাড়ি এ সড়কে চলাচল করছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইদি পরিবহনের দায়িত্বশীল একজন জানান, আমাদের আইদি পরিবহনের কোনো নিবন্ধনহীন গাড়ি সড়কে চলছে না। চাঁদপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা প্রবীর দাস জানান, নিবন্ধনহীন কোনো গাড়ি সড়কে চলাচল করলে এবং তা আমাদের নজরে পড়লে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। চাঁদপুর শহরের স্বর্ণখোলা বাস টার্মিনাল ও কুমিল্লা শহরের জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাসগুলো চাঁদপুর ও কুমিল্লার মধ্যবর্তী ৬৭ কিলোমিটার পথ প্রতিদিন পাড়ি দেয়। এর মধ্যে নিবন্ধনহীন তথা রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস চলাচল করে একেবারে স্পষ্ট দিবালোকে ট্রাফিক পুলিশসহ আরো কারো কারো চোখ ফাঁকি দিয়ে-সেটা কি ভাবা যায়? কেউ তখনই ধর্তব্য অপরাধও ধরে না, যখন সে দেখেও না দেখার ভান করে। এর পেছনে কিন্তু থাকে। সেটি কী সেটা বুঝিয়ে বলার জন্যে খোলসা করে কিছু বলতে হয় না। সড়কের আরো কিছু অনিয়ম দেখে আমরা অকপটে বলতেই পারি, বস্তুত জনবল সঙ্কটের জন্যে নয়, নৈতিক মনোবলের অভাবেই চাঁদপুর ও কুমিল্লার ট্রাফিক পুলিশের সকলে চোখ থাকতেও অন্ধ হয়ে থাকে। এরা রাত ছাড়াও দিনেও রহস্যজনক কারণে নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে। কেউ কেউ কুম্ভকর্ণের ঘুমেও আচ্ছন্ন থাকে। কথা হলো, তাদের এ ঘুম ভাঙ্গাবার দায়িত্ব কার?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়