প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০
পাট জাগ দিতে বিড়ম্বনায় কৃষক

এ বছর চাঁদপুরে পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৫১ হেক্টর। বর্তমানে কর্তন হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর। পাট কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাঁদপুরের কৃষকরা। কোথাও খাল-বিল ও ডোবায় বৃষ্টির পানি জমে আছে, তবে সেখানকার বাসিন্দারা পাটচাষী নন। আবার যেখানে পাটচাষিরা রয়েছেন, সেখানে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও জাগ দেওয়ার উপযোগী স্থান না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। ফলে সময়মতো পাট জাগ দিতে না পারায় আঁশের মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর, কল্যাণপুর, আশিকাটি, বালিয়া, চান্দ্রা ও তরপুরচণ্ডী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা জমি থেকে পাট কেটে আঁটি বেঁধে রাখছেন। এরপর পাট জাগ দেওয়ার জন্যে খাল, ডোবা, পুকুর কিংবা নিচু জমিতে পানির সন্ধান করছেন। কিন্তু অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকদের দূরে গিয়ে পানিতে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি শ্রমিক খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষক লিটন মোল্লা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতসহ শুরু থেকেই নানা খরচ হয়। এখন পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্যে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অপরিষ্কার বা অল্প পানিতে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে পাটের আঁশের রং ও মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক কৃষক বলেন, পাটের ভালো ফলন পেলেও জাগ দেওয়ার সমস্যার কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত। জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না থাকলে পাটের আঁশ ভালোভাবে ছাড়ানো যায় না; আবার অতিরিক্ত সময় জমিয়ে রাখলেও পাটের গুণগত মান নষ্ট হয়।
কৃষকদের দাবি, গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল ও জলাশয়গুলো দখল ও ভরাটের কারণে প্রতিবছর পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকট বাড়ছে। কৃষকদের সুবিধার্থে এসব জলাশয় সংরক্ষণ ও খনন করা জরুরি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার জন্যে বিকল্প প্রযুক্তি বা পদ্ধতির ব্যবস্থা করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, পাটের ভালো মান নিশ্চিত করতে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাঁদপুরে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে পাট গবেষণাকেন্দ্রও কাজ করছে।







