মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০২:৫৭

স্বপন সেনগুপ্ত ছিলেন শিল্পী সৃষ্টির কারিগর: জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. সলিম উল্ল্যা সেলিম

পলাশ দে
স্বপন সেনগুপ্ত ছিলেন শিল্পী সৃষ্টির কারিগর: জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. সলিম উল্ল্যা সেলিম
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সংগীত নিকেতন এর প্রয়াত অধ্যক্ষ সঙ্গীতজ্ঞ স্বপন সেনগুপ্তের স্মরণসভা আয়োজনের দৃশ্য। ছবি পলাশ দে।

"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম"—এই আবেগঘন স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কিংবদন্তি সংগীত গুরু স্বপন সেনগুপ্তের স্মরণ সভাশ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৮ মে ২০২৬, রোজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কোড়ালিয়া রোডের সাহাবাড়িস্থ 'সংগীত নিকেতন' নিজস্ব ভবনের চন্দ্রকান্ত সাহা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কিংবদন্তি এই সংগীত সাধকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ বিচিত্রা সাহার সভাপতিত্বে এবং বিমল দে-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম এডভোকেট সলিম উল্ল্যা সেলিম।

মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে সংস্কৃতির বিকল্প নেই

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট সলিম উল্ল্যা সেলিম বলেন:

"আমি নিজেও একসময় সংগীত নিকেতনের সাথে জড়িত ছিলাম। বর্তমান সময়ে আমাদের এক প্রজন্ম মাদক এর গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে, আর অন্য একটি প্রজন্মকে ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিপথগামী করছে। এই পরিস্থিতি থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে সংস্কৃতির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সংগীত নিকেতন'-কে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। স্বপন সেনগুপ্তকে একজন মহান মানুষ ও 'শিল্পী সৃষ্টির কারিগর' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গানের মাধ্যমে তাঁর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান। তিনি যোগ করেন, ছবি আঁকা, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মতো মাধ্যমগুলোর মধ্য দিয়েই একটি শিশুর মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে।

গুণীজনদের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্মরণ সভায় স্বপন সেনগুপ্তের বর্ণাঢ্য জীবন ও সংগীত জগতের অবদান নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

এডভোকেট সেলিম আকবর, পরশ মালাকার, কল্পনা সরকার (কল্পনা দি), অজিত সাহা।

চিত্রশিল্পী লিটন ভূঁইয়া, রফিকুল ইসলাম মিন্টু, কৃষ্ণা সাহা, সত্য চক্রবর্তী।

মোস্তফা খান, শংকর আচার্য, বাবুল চক্রবর্তী, মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, মাহমুদ হাসান খান।

চাঁদপুর মহাশ্মশানের সভাপতি খোকন লাল পোদ্দার।

সংগীতশিল্পী দিলীপ দাস, নৃত্য শিক্ষিকা অপু সাহা (অপুদি), সাংস্কৃতিক কর্মী পলাশ দে।

সংগীতশিল্পী রিয়া চক্রবর্তী, পলাশ সেনগুপ্ত, নীলিমা ঘোষ, মনির হোসেন মান্না এবং পল্লব সেনগুপ্ত।

স্মরণ সভার দ্বিতীয় পর্বে সংগীত নিকেতনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিকসংগীত অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বক্তারা অবহেলিত সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে এবং স্বপন সেনগুপ্তের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর জোর দেন।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়