প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩
পাঠক ফোরামের কবিতা

আসাদুজ্জামান খান মুকুল
এসো হে বৈশাখএসো হে বৈশাখ, এসো আবাহনের অগ্নি-মন্ত্রে!
তোমাকে জানাই স্বাগতম, হে অদম্য শক্তির অবিনাশী আধার।
তুমি এসেছ নির্ভীক বীরের দুর্জয় সংকল্পে,
সংগ্রামের রক্তিম চেতনায় প্রদীপ্ত তোমার ললাট।
তব দৌর্দণ্ড প্রতাপে প্রকম্পিত চরাচর,
উঁচু-নিচু ভেদাভেদ চূর্ণ করো প্রলয়-তাণ্ডবে সমতালে।
পরোয়া করোনি ধরণীর কোনো মদমত্ত সম্রাটে,
তুচ্ছ করেছ গিরিশৃঙ্গ কিংবা মহীরুহের দর্প।
তোমার রুদ্ররুষে কাঁপে নিখিল বিশ্ব থরথর,
তুমি যেন রণাঙ্গনের এক অপরাজেয় বিদ্রোহী সত্তা!
তোমার তেজস্বী দহনে ভস্ম হয় হৃদয়ের গ্লানি ও শঙ্কা,
ছিঁড়ে যায় ভীরুতার সহস্র শৃঙ্খল।
তোমার এ দুর্বার গতিধারা আমায় শেখায়Ñ
সম্মুখের গিরি-লঙ্ঘন করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবার মহামন্ত্র।
এসো হে বৈশাখ, রণবীর সাজে এসো!
তোমার শঙ্খধ্বনিতে জাগ্রত করো লড়াকু পরাণ।হানজালা দীপু
বৈশাখী মেলামেঘনার চরে বসলো মেলা,
মনে খুশির ঢল,
কাঁচের লকেট, বাঁশের বাঁশি,
কিনছে খুকুর দল।উঠলো মেলায় মুরকিমুড়ি,
খেলনাপাতি, ফুলের ঝুড়ি,
আরোও আছে রেশমি চুরি,
সুতোয় বাঁধা লাটাই ঘুড়ি।পুতির মালা গহনাগাঁটি,
হাতের বুনান শীতল পাটি,
আছে কাসার থালা বাসন,
প্রয়োজনীয় কুরানি-দা-বটি।মাটির তৈরি পাতিল, হাঁড়ি,
ঢাকের মতো মাটির গাড়ি,
আলতা, স্নো, তাঁতের শাড়ি।
বায়স্কোপ রং বাহারি।বেচা-কেনার আমেজ দেখে,
কেটে গেলো বেলা,
বৈশাখের প্রথন দিনই,
বসে এই মেলা।
এম আর এম শোভন
নববর্ষের সকালঅস্থির পৃথিবী, অভিশপ্ত মানুষ
অসভ্য জাতি, জ্ঞানহীন সভ্যতা
ভুল করেছে মানুষ
ভুলের মধ্যে আছে মানব ইতিহাস
মানুষ তোমরা হিংস্র
অন্য প্রজাতিকে কর ধ্বংস
তোমাদেরকে কে দিয়েছে এই অধিকার
প্রশ্ন রাখলাম সৃষ্টিকর্তার কাছে
একটি বোমার আঘাতে
শুধু মানব সভ্যতাই হয় না ধ্বংস
ধ্বংস হয়ে যায় অন্য প্রাণীদেরও স্বপ্ন
দিগন্তজুড়ে ক্লান্তির ছায়া,
মানুষগুলো হাঁটে শুধুÑ
নিজের ভেতর নিজেই হারায়।
আকাশ নীল, তবু চোখে ধূসর,
স্বপ্নগুলো পুড়ে যায় ধোঁয়ায়,
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখে
অভিমানী কান্নার ছোঁয়া।
মানুষ এখন আয়নার মতোÑ
ভাঙে, জোড়া লাগে, আবার ভাঙে,
নিজের স্বার্থে গড়ে দেয় দেয়াল,
ভালোবাসা থাকে শুধু ফাঁকে।
বন্ধুত্ব আজ হিসেব কষে,
মানবতার শবযাত্রা যেন
নিত্যদিনের খবরের পাতায়।
এমন একটি সকালের অপেক্ষায়
যে সকালে শুনবে পৃথিবী
হিংস্রতা ধ্বংস হবে না মানবতা
আর যদি সেটি হয়বাংলা নববর্ষের সকাল।
তানজিদ কোতয়াল
বৃক্ষ আমার বন্ধুসবুজ পাতর, ছায়ার ঠাঁই,
রোদে গরমে আশ্রয় পাই।
ফল দেয়, ফুল ও ফোটে,
আমার প্রাণকে রাখে তৃপ্তিতে।নিঃশব্দে সে দেয় যত কিছু,
তবুও চায় না কোনো কৃতজ্ঞতা।
কেটে ফেলো না এই বন্ধুদের,
রক্ষা করো এই নিস্বার্থদের।
বৃক্ষ বাঁচাও ,জীবন বাঁচাও,
সবুজের মাঝে শান্তি খুঁজে পাও।
রবিউল আলম
প্রকৃতি ও বিধির খেলাওহে সৌরজগৎ, তুমি মোর স্মরণে;
তুমি সূর্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখো কেমনে?
তুমি উদয় করোই বা কার হুকুমে?
অস্ত যায় দৈনন্দিন আপন নিয়মে।
সমুদ্রের প্লাবনকে রাইখো স্মরণে,
পৃথিবী মানুষকে ভুলে যায় মরণে;
মানুষ আসে যায় প্রকৃতির ধরনে,
প্রকৃতি সব করে বিধাতার স্মরণে।
যে রব প্রতিভা দিয়েছে তোমার জন্মে,
সে রবকে মনে রাইখো প্রতিটা কর্মে।
তুমি পৃথিবীতে এসেছো মায়ের গর্ভে,
বেঁচে থেকো বাবার ক্লান্ত ঘামের জন্যে;
স্মরণে রেখো দুজনকে প্রতিটি কর্মে,
যারা নিজেকে ভাবেনি তোমার মঙ্গলে।







