শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৪

মাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!

লক্ষ্মীপুর দোকানঘরস্থ পুকুরে দুর্বৃত্তের বিষ প্রয়োগে ভেসে উঠলো ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ

স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুর দোকানঘরস্থ পুকুরে দুর্বৃত্তের বিষ প্রয়োগে ভেসে উঠলো ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে

মাছগুলো ধ্বংস করেছে একটি চক্র। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে ইউনিয়নের পশ্চিম রামদাসদী দোকানঘর সংলগ্ন গুচ্ছ গ্রামের সাথে থাকা পুকুরটিতে দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ মরে ভেসে উঠে।

৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ভুক্তভোগী মো. সুমন খান বলেন, শত্রুতা থাকলে আমার সাথে আছে। কিন্তু মাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা। যে তরতাজা মাছের

জীবনগুলো ধ্বংস করছে, দুনিয়াতেই আল্লাহ এর বিচার করে দেখাবে। এ সময় ভুক্তভোগী সুমন খান আরো বলেন, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাত ৯/১০ টায় পুকুর পাড়ে যাই মাছ দেখতে। হঠাৎ গিয়ে দেখি, মাছগুলো হঠাৎ ধপাইতেছে। পুকুরের আশেপাশে ছোট বড় কয়েক হাজার মাছ মরে ভেসে উঠে। আমি ডাকচিৎকার দিলে বাজারের ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় শত শত নারী পুরুষ এসে দেখে, আমার পুকুরের মাছ সব মরে যাচ্ছে। শত্রুতা আছে, আমার সাথে আছে । কিন্তু মাছের সাথে কেনো? মাছগুলো তোদের কী ক্ষতি করলো, তোরা এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেললি! সুমন খান আরো বলেন, আমার সাথে আরো দু'জন মাছ চাষে শেয়ার আছ। তারা সহই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ ও ধার-দেনা করে পুকুরে মাছ চাষ করি। যখন মাছ চাষ করবো, তখন আমার নিকটতম ক'জনকে মাছ চাষের জন্যে বললে তারা না করে দেন। তারা চায় আমার টাকার ওপর খরচ বহন করে তারা মাছ চাষে যুক্ত থাকতে। টাকা ব্যয় ছাড়া ব্যবসা করা যায় না। তখন আমি তাদেরকে বলি, এ পুকুরটি প্রায় ২ একরের কাছাকাছি। এতো বড়ো পুকুরে মাছ চাষ করতে হলে লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন আছে। তখন তারা মোটা অংকের টাকা লাগবে বলে আর মাছ চাষে জড়িত হয় নি। তাই এলাকারই দু'জন কে সাথে নিয়ে আমরা ৩ জন মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হই। আজ এক বছর হলো মাছ চাষ করে আসছি। ঐ লোকগুলো তখন থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বলে বেড়ায়, আমরাও মাছ চাষ করবো না, সুমন

খানকেও মাছ চাষ করতে দেবো না। তাই আমার মনের ধারণানুযায়ী তারাই পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেলে। তবে

মাছগুলো মারার জন্যে আমার ধারণা, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলো। তাই ঐদিন সুযোগকে কাজ লাগিয়ে ছিলো। দূরের কেউ না, আমার কাছের শত্রু পক্ষই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সুমন খান আরো জানান, পুকুরে রুই, তেলাপিয়া, কার্প, কালীবাউস, আইড়, বিগহেড, গুইলশা ট্যাংরা সহ প্রায় বহু প্রজাতির মাছ ছেড়েছি।

সে চাষকৃত মাছগুলো ডিমও ছেড়েছে।

পোনাগুলোও বিষ খেয়ে মরে ভেসে উঠে। একেকটা মাছ দেড় থেকে ২ কেজির ওজনে হচ্ছিল।আমার সব শেষ, লাখ লাখ টাকা ঋণ করে মাছ চাষ করে আসছি। এখন তো আমি ঋণগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে আমার দাবি, আমাদের এ ক্ষতি পোষাতে সকলের কাছে সহযোগিতা চাই। সুষ্ঠু তদন্তদের মাধ্যমে অপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনা এনে আমরা পুনরায় মাছ চাষ করতে চাই। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়