শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩০

মা ইলিশ রক্ষায় কঠোরতার দাবি

চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে নামছেন জেলেরা

উজ্জ্বল হোসাইন।।
চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে নামছেন জেলেরা
দিনে-দুপুরে মেঘনায় ইলিশ শিকারের দৃশ্য।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও প্রকাশ্যে তা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার। নদী উপকূলে টহল জোরদারের দাবি থাকলেও চাঁদপুর সদর উপজেলার সীমানা থেকে মতলব উপজেলার উত্তরাংশ পর্যন্ত অসাধু জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়ছে। বিশেষ করে পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল, চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডের বিপরীত পাশের ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা এবং মতলবের জহিরাবাদ সংলগ্ন নদীতে ইলিশ শিকারের এই অপতৎপরতা সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে সরজমিনে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও জেলেরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে জাল ফেলছেন, আবার কোথাও ১০ থেকে ১৫টি ট্রলার দলবেঁধে দ্রুতগতিতে মুগাদি ও রাজরাজেশ্বর এলাকা পার হয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীতে নেমে পড়ছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রকাশ্যে এমন মাছ শিকারের চিত্র সরকারি পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে নদী থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক শিথিলতা দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর ও মতলবের সংযোগস্থল এবং চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডের বিপরীত অংশে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও জেলেদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। অনুসন্ধানে চাঁদপুর মোলহেড থেকে উত্তরে মতলবের জহিরাবাদ পর্যন্ত নদীপথে কোনো নৌ-পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের টহল টিমের দেখা মেলেনি। তবে নির্দিষ্ট একটি সময়ে টহল চোখে না পড়লেও সার্বিক নজরদারির অভাব স্পষ্ট বলে দাবি করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে জানান, প্রশাসনের অলক্ষ্যে কিংবা কোনো কোনো পয়েন্টে সুযোগ নিয়ে এখন নদীতে অসাধু জেলেদের তৎপরতা অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি।

নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ নিধন হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য খাতের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিছু অসাধু ব্যক্তির ক্ষণিক লাভের জন্য যদি ডিম ছাড়ার মৌসুম ব্যাহত হয়, তবে পরবর্তী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, আইন মেনে যেসব প্রকৃত জেলে মৎস্য শিকার থেকে বিরত রয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক বলে মনে করছেন তাঁরা।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী ইলিশের সবচেয়ে বড় বিচরণক্ষেত্র। স্থানীয়দের মতে, শুধু কাগজে-কলমে বা নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না; বরং মোলহেড, মোহনা, মুগাদি ও জহিরাবাদ সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দিন ও রাতে সমানভাবে স্পিডবোট টহল, ড্রোন বা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

এখন সচেতন মহলের একটাই প্রশ্ন—মা ইলিশ রক্ষার এই সরকারি কর্মসূচি কি কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাবে, নাকি পদ্মা-মেঘনায় এর কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে? মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান চাঁদপুরের সর্বস্তরের মানুষ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়