বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০১

কচুয়ায় ওসির মানবিক উদ্যোগে জোড়া লাগলো নওমুসলিম রিয়ার সংসার

কচুয়া প্রতিনিধি।।
কচুয়ায় ওসির মানবিক উদ্যোগে জোড়া লাগলো নওমুসলিম রিয়ার সংসার
ছবি ক্যাপশন: কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম।

শাশুড়ির সাথে ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমানে ভাঙতে বসেছিল একটি নবদম্পতির সংসার। অবশেষে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলামের মানবিক হস্তক্ষেপে সমাধান হলো সেই সংকটের। ওসির এই উদ্যোগে আবার নতুন করে সংসার জীবন শুরু করার সুযোগ পেলেন নওমুসলিম রিয়া আক্তার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ওসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে কচুয়া উপজেলার ৮ নম্বর কাদলা ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে রাব্বিকে। বিয়ের পর সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে রাব্বি বিদেশে পাড়ি জমান। তবে রাব্বি প্রবাসে যাওয়ার পরই শুরু হয় টানাপোড়েন। অভিযোগ ওঠে, রাব্বির অগোচরেই তার মা ও চাচা পারস্পরিক যোগসাজশে রিয়াকে তালাক দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হলে তা কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অভিযুক্ত শাশুড়ি ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে থানা কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে আনা হয়। ওসি আজিজুল ইসলাম ভুক্তভোগী রিয়া আক্তার ও তার শাশুড়ির বক্তব্য শোনেন এবং পারস্পরিক অমিলগুলো দূর করার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর শাশুড়ি ও পুত্রবধূ নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন এবং বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে একসঙ্গে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নতুন জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভুক্তভোগী রিয়া আক্তার বলেন, "একজন মানবিক ওসির দূরদর্শী উদ্যোগে আমার ভাঙতে বসা সংসার রক্ষা পেলো। আমি যেন আবার নতুন একটি জীবন ফিরে পেলাম।" এ বিষয়ে কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম জানান, "একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে পুনরেকত্রিত করতে পেরে নিজের কাছে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তারা যেন ভবিষ্যতে সুখী ও শান্তিময় জীবন যাপন করতে পারে, সেই দোয়াই করি।"

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সংবেদনশীল ঘটনাটির সুন্দর সুরাহা হওয়ায় ওসি আজিজুল ইসলামের মানবিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। বর্তমানে এটি সমগ্র কচুয়াজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়