বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৭

লামচরী ও বালুচরে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

তাপস চন্দ্র সরকার।।
লামচরী ও বালুচরে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা, ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান এবং ধনাগোদা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী ও বালুচরে উদযাপিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬। বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে ধনাগোদা নদীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

দেবীকে বিদায় জানানোর ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের চোখে ছিলো আনন্দাশ্রু, মনে ছিলো গভীর ব্যাকুলতা আর হৃদয়জুড়ে ছিলো আগামী বছর আবারও মায়ের আগমনের আকুল প্রতীক্ষা। শরতের স্নিগ্ধ আবহে আবহমান বাংলার এই উৎসবটি কেবল পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছিলো সকল ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক অনন্য মিলনমেলায়।

পূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে লামচরী ও বালুচরের পূজা মণ্ডপগুলোতে ছিলো ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় ও উৎসবমুখর পরিবেশ। সকালে বিজয়া দশমীর বিহিত পূজাশেষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা অংশ নেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়। একে অপরকে লাল সিঁদুরে রাঙিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেবী দুর্গার কাছে পরিবার তথা বিশ্ববাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তবে সিঁদুর খেলার আনন্দের মাঝেও বিদায়ের বিষণ্ন সুর বেজে ওঠে ভক্তদের হৃদয়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস—দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস, মমতা ও সকল অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। তাই বিসর্জনের অন্তিম মুহূর্তে ভক্তদের একটাই আকুল প্রার্থনা ছিলো, মায়ের অশেষ কৃপায় পৃথিবী থেকে চিরতরে দূর হোক সব হিংসা-অশান্তি, ফিরে আসুক কল্যাণ ও মানবিকতা।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গভীর রাতে ভক্তদের জয়ধ্বনি আর ধূপ-আরতির মধ্য দিয়ে ধনাগোদা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। বিসর্জনের ক্ষণে চারদিকে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। বিদায়ের করুণ সুরের মাঝেও ভক্তদের মনে জাগ্রত থাকে এ বিশ্বাস—আগামী শরতে মা আবারো ধরণীতে ফিরে আসবেন আনন্দের বার্তা নিয়ে।

এদিকে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাঁরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আনসার বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়