বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪

২১ বছরেও নিজস্ব ভবন ও ডাম্পিং স্টেশন পায়নি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা

প্রবীর চক্রবর্তী
২১ বছরেও নিজস্ব ভবন ও ডাম্পিং স্টেশন পায়নি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা
ছবি ক্যাপশন : ২১ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জায়গায় সংকুচিত অবস্থায় চলছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম।

প্রতিদিন পৌরবাসীর নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনসহ নানাবিধ নাগরিক সেবা দিলেও ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদগঞ্জ পৌরসভার আজ পর্যন্ত নিজস্ব কোনো ভবন নেই। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর অতিবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব জায়গা সংস্থান করতে না পারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে ‘ক’ শ্রেণির এই পৌরসভাটির দাপ্তরিক কার্যক্রম।

পৌর কর্তৃপক্ষ ৫০ শতক জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি পৌরসভার জন্য সরকারি খাস সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আবারো নিজস্ব ভবনের স্বপ্ন দেখছেন পৌরবাসী।

জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার অন্যতম জনবহুল উপজেলা সদর তথা গুরুত্বপূর্ণ ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে প্রথম শ্রেণিতে (এ-গ্রেড) উন্নীত হয়। বর্তমানে ১৯.৭৫ বর্গমাইল আয়তনের এই পৌরসভায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার ৭৮৮ জন লোক বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রাতের বেলায় চলাচলের জন্য স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলমান। তবে এই দৃশ্যমান উন্নয়নের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে পৌরসভার দুটি মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী সংকট। স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ও ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার নাগরিক সেবা ও পরিবেশ খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় সংগৃহীত বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের আবর্জনা শহরের প্রবেশমুখের মহাসড়ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের পাশে ফেলছেন। ফলে সেখান থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ছড়াচ্ছে মশা-মাছির উপদ্রব ও নানা সংক্রামক ব্যাধি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বর্জ্য সংকটের স্থায়ী নিরসনে একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি কেনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সুযোগ-সুবিধাসংবলিত প্রশাসনিক ভবন থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। প্রতিষ্ঠার ২১ বছরেও নিজস্ব কোনো স্থায়ী ভবন তৈরি হয়নি। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ জিউসি টাইপের ভবনে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রশাসনিক কাজ।

ভবনটি স্যাঁতস্যাঁতে, অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাদাগাদি করে কাজ করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন

ফরিদগঞ্জ পৌর নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মোশারেফ হোসেন ও সদস্য সচিব ইমাম হোসেন বলেন, “প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত পৌরসভার নিজস্ব ভবনের পাশাপাশি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

পৌরসভা কার্যালয়ের নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির ওপর থাকা বর্তমান অস্থায়ী কার্যালয়টি পৌরসভার অনুকূলে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর ফাইলটি আটকেই ছিল। চলতি বছর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক কর্তৃক পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরকে এ বিষয়ে দ্রুত মতামত ও ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদপত্র পাঠানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর সুরাহা মilenী।

জনগণের দাবি—আমলাতান্ত্রিক দেয়াল ভেঙে সরকার যেন দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাটি পৌরসভার নামে স্থায়ী বরাদ্দ দেয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের পদক্ষেপ নেয়। তা না হলে এই অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত নগর উন্নয়ন অধরাই থেকে যাবে

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খাঁন বলেন, “একাধিকবার মন্ত্রণালয় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখনও চেষ্টা অব্যাহত আছে। তা ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জায়গাও খোঁজা হচ্ছে।”

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, “ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব ভবন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা খোঁজা হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব ভবনের বিকল্প চিন্তা থেকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জায়গার বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একটি স্থায়ী ভবন হলে পৌরবাসীর সেবার মান বাড়বে।”

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়