প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩৯
নাব্যতা সংকট ও ডুবোচর: ভরা মৌসুমেও চাঁদপুরের জেলেদের হাহাকার

ইলিশের ভরা মৌসুমেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। নদীতে একের পর এক ডুবোচর ও নতুন চর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ এবং চলাচলের পথ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। ফলে চাঁদপুরের ঐতিহাসিক বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (মাছঘাট) ইলিশের সরবরাহ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে, যা চরম হতাশায় ফেলেছে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের।
|আরো খবর
জেলেদের অভিযোগ, বছরের এই সময়ে পদ্মা-মেঘনার মোহনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এবার দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নৌকার জ্বালানি ও শ্রমিকদের দৈনন্দিন খরচ তোলার মতো মাছও মিলছে না।
মৎস্য গবেষকদের মতে, প্রজনন ও খাদ্যের খোঁজে সাগর থেকে নদীতে উঠে আসার সময় ইলিশ সাধারণত গভীর পানির রুট বেছে নেয়। কিন্তু মেঘনা ও পদ্মার বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় গভীরতা কমে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। এতে ইলিশ গভীর পানিতে ঘুরতে বাধ্য হয়ে গতিপথ বদলে ফেলছে। এছাড়া নদীর নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি অভয়াশ্রমে অবৈধ কারেন্ট জাল ও 'চায়না দুয়ারি'র অবাধ ব্যবহার, নদী দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও নদীভিত্তিক ইলিশের প্রাপ্যতা কমে গেছে।
পদ্মা-মেঘনার এই আকালের প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রূপালি ইলিশের বাজার চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে। ঘাটে এখন আর আগের মতো হাঁকডাক ও বেচাকেনার ব্যস্ততা নেই; অলস সময় পার করছেন আড়তদার ও শ্রমিকরা। ঘাটে যে সামান্য পরিমাণ ইলিশ আসছে, তার সিংহভাগই বাইরের উপকূলীয় অঞ্চল (যেমন—ভোলার চরফ্যাশন বা পাথরঘাটা) থেকে ট্রলারে করে আনা। ফলে পদ্মা-মেঘনার স্থানীয় ইলিশের তীব্র সংকট তৈরি হয়ে বাজারে আগুন লেগেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের একদম বাইরে চলে গেছে।
ইলিশের সংকটের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) নদী কেন্দ্র, চাঁদপুরের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অবিলম্বে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং ডুবোচরের জট ছাড়াতে না পারলে এই সংকট সামনে আরও ঘনীভূত হতে পারে।
স্থানীয় ড্রেজিং ব্যবস্থা জোরদার করা, নদীর নাব্যতা সংকট দূর করা এবং অবৈধ জাল বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে চাঁদপুরের মেঘনায় আবারও ইলিশের প্রাচুর্য ফিরবে এবং মাছঘাট তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








