শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৩

তেল নিয়ে তেলেসমাতি!

মোটরসাইকেলের অবিশ্বাস্য দীর্ঘলাইন সামলাতে দিশেহারা কর্তৃপক্ষ

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল।।
মোটরসাইকেলের অবিশ্বাস্য দীর্ঘলাইন সামলাতে দিশেহারা কর্তৃপক্ষ

'মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তিতে ঘুম হারাম হচ্ছে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রের। যুদ্ধের গোলাবারুদের শব্দ আমাদের কানে না পৌঁছলেও জ্বালানি তেলের সংকট আমাদেরকে দিশেহারা করে তুলেছে। সরকার বিভিন্নভাবে তেলের সংকট নেই বলে উপস্থাপন করলেও পাম্পগুলো দেখে মনে হচ্ছে ভিন্ন চিত্র। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখে মনে হচ্ছে তেলের সংকট মহামারী আকার ধারণ করেছে'। এসব মন্তব্য সচেতন জনগণের। সম্প্রতি পাম্পগুলোতে তেল আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যানবাহন। পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ফিলিং স্টেশন মালিকদের। কেউ কেউ বাড়তি ঝামেলা এড়াতে তেল সরবরাহ করছেন ধীর গতিতে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোতে ডিপোগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, বর্তমানেও সেই পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবেই সংকট নিরসন হচ্ছে না।

জানা গেছে, বিগত সময়গুলোতে ডিপো থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার তেল পেয়ে ফিলিং স্টেশনগুলো সেই তেল বিক্রি করতে ৪/৫ দিন সময় লাগতো। বর্তমানে একই পরিমাণের তেল বিক্রি করতে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘন্টা সময় লাগছে। তারপরও শত শত মোটরসাইকেল তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে। দু থেকে তিনদিন পর পর ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবেই কমছে না যানবাহনের দীর্ঘ লাইন! জেলার যে কোনো ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে হান্নান ফিলিং স্টেশনের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। এখানে সবসময় তেলের জন্যে যানবাহনের দীর্ঘলাইন লেগেই থাকে। অনেকেই জানান, ইতঃপূর্বে এতো মোটরসাইকেল উপজেলাজুড়ে কখনো দেখা মেলেনি। জরিপ করে দেখা যায়, তেল নিতে আসা বেশির ভাগ মোটরসাইকেল জেলা ও উপজেলার বাইরের। হান্নান ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে কুমিল্লা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চাটখিল, রামগঞ্জ এলাকার বাইকারদের। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ডিপোগুলো থেকে ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি নিয়মিত সাব-ডিলারদের কাছে তেল সরবরাহ করা হতো। সাব ডিলারগণ ব্রিক ফিল্ড, পানির পাম্প, বিভিন্ন যানবাহনে তেল সরবরাহ করে আসছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেলের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন সাব ডিলার। কিন্তু বর্তমানে সাব ডিলার থেকে তেল না পেয়ে বোতল ও ড্রাম নিয়ে ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের প্রশ্ন : সাব ডিলারদের তেল কোথায় যাচ্ছে? এদিকে মোটরসাইকেল চালকদের একদিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। অনেকেই চাহিদার তুলনায় অধিক তেল সংগ্রহ করে মজুদ করে রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হান্নান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আ. হান্নান বলেন, আমরা আগে যে পরিমাণ তেল ডিপো থেকে পেতাম, বর্তমানেও সেই পরিমাণ পাচ্ছি। কিন্তু আগে আমরা বিক্রি করতে ৪/৫ দিন সময় লাগতো, এখন ৬/৭ ঘন্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি তেলের সংকট সমাধানে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়