প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৬
গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও শাহরাস্তি মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক

প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে শাহরাস্তি উপজেলার মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন। সাধারণ গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্যে চাপ সৃষ্টি করলে বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে চলে যান।
|আরো খবর
জানা গেছে, ২০০৮ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে যাত্রা শুরু করে উপজেলার ভোলদীঘি বাজারে অবস্থিত মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি। একযুগ সমিতির কার্যক্রম ঠিকঠাক থাকলেও ২০২১ সালে এসে থমকে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। সাড়ে ৩শ' গ্রাহকের জমানো প্রায় কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন।
ভোলদীঘি গ্রামের ভুক্তভোগী জাকির হোসেন জানান, নিজের এবং পরিবারের ২১ লাখ টাকা সঞ্চয় রাখেন সমিতিতে। টাকা চাইতে গেলে দেই-দিচ্ছি বলে এক পর্যায়ে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান বিল্লাল হোসেন। একই পরিস্থিতির শিকার এ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল হক, খাদিজা বেগম ও জাহানারা বেগম। পরিবারের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।
বিল্লাল হোসেনের এমন প্রতারণার শিকার জাহাঙ্গীর আলম, আমেনা বেগম ও ঝর্ণা বেগম। যে কোনো মূল্যে এখন তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরত পেতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন।
অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সমিতির সভাপতি দুলাল পাটোয়ারী এ সমিতির গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের আত্মগোপনের কথা স্বীকার করে বলেন, বিল্লাল পালিয়ে যাওয়ার পরে গ্রাহকরা আমার (সভাপতির) বিরুদ্ধে আদালতে ৪টি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুটি মামলা চলমান আর সমিতির টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকায় বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা চলমান রয়েছে। বিল্লাল হোসেন ফেরত আসা পর্যন্ত এ টাকার বিষয়ে কোনো সমাধান দেখছেন না তিনি।
এদিকে মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি উপজেলা সমবায় কার্যালয় কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন থাকার পরও গ্রাহকদের সাথে যে প্রতারণা করা হয়েছে তার কিছুই জানেন না সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকের কাছে জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থাগ্রহণের কথা জানান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব খান।
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে এই সমিতি সরকারের তালিকায় অকার্যকর হিসেবে রয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।







