প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২৮
ম্যারাডোনা-মেসিময় আর্জেন্টিনা: মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া

সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট লেখক মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে রচনা করেছেন একটি ছোট্ট লেখা, যাতে আর্জেন্টিনার বন্দনাই প্রকাশ পেয়েছে। নিচে হুবহু পত্রস্থ করা হলো লেখাটি--
|আরো খবর
ফুটবল। ফুটবল। চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা ।কলকল ধ্বনিতে সর্বত্র ফুটবল উন্মাদনা । প্রিয় দলকে নিয়ে বাহাস প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের।
চুলচেরা বিশ্লেষণে নিজ নিজ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে উচ্ছ্বসিত আশা ভরসা। পরিসংখানে গর্বের আনন্দ অনুভূতিতে শিহরণ। আমিও ব্যতিক্রম নই। অবশ্য,
কুরবানি ঈদের শপিংয়ের সময় ছেলে উমেদ আজহার ইয়ানুর ভূঁইয়া আর্জেন্টিনার জার্সি ক্রয়ের মাধ্যমে
আনন্দ ভর করে বিশ্বকাপের আমেজে।
বরাবরই, ফুটবল বিশ্বকাপের বাঁশির হুঁইসেলে-স্মৃতিভরা মাঠে জড়ো হয় ফেলে আসা দিনলিপি।
প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে প্রথম জানি, বিশ্ব ফুটবল খেলোয়াড় কিংবদন্তি 'পেলে'কে। কালো মানিক খ্যাত গোল গোল কবিতার শব্দমালা শৈশবের স্মৃতির
ক্যানভাসে অক্ষত।আমার বাবা মরহুম উমেদ আলী ভূঁইয়া ছিলেন ফুটবলপ্রিয়। এলাকায় ২/৩টির মধ্যে আমাদের একটি টিভি।ফুটবল খেলা হলে আমাদের ঘর ও উঠোন হয়ে যেতো মাঠ, গ্যালারী।জড়ো হতো
ফুটবলপ্রেমীরা। চা, মুড়ি, চানাচুর, পান, ...ট দিয়ে আপ্যায়িত করাতেন বাবা। গোল, ফাউল, হ্যান্ডবল, কর্নার, ফ্রি কিকে আহ্ কী নিস্তব্ধতা! উত্তেজনা!! বাবার পাশে
বসে খেলা দেখতাম। কী মধুর স্মৃতি। ম্যারাডোনা ম্যারাডোনা সে কী চিৎকার। পেলের পরে ম্যারাডোনার নাম জানি।ফুটবল খেলা ভালোবাসার খেলা। একক সিদ্ধান্তের খেলা। ভালোবাসা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা তাঁর আত্মাজীবনীতে লিখেছেন, জীবনের ব্যাপারে যেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ফুটবল মাঠে খেলার সময়ও
একইভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটা অনেকটা দুজনের মাঝে একজনকে বাছাই করে নেওয়ার মতো।বাবার প্রিয় দলের ভালোবাসা আমার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয় নি। আমিও আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে যাই।
১৯৮৬ সালের পরবর্তী দীর্ঘ বছর বিশ্বজয়ী ট্রফি বঞ্চিত হলেও সমর্থন হারায়নি আর্জেন্টিনা।ক্লাব, লীগ, চারবছর অন্তর অন্তর বিশ্বকাপে হৃদয় ছোঁয়া খেলার নৈপুণ্য কসরতে টইটম্বুর সমর্থনে আর্জেন্টিনা।আবর্তিত হলো আরেক নিপুণ শৈল্পিক খেলোয়াড় --লিওনেল মেসি। যাঁর জাদুকরি পায়ের ছন্দ আনন্দে ফুটবলের রণকৌশলে ২০২২ সালে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ী হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনা।
কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের ভাষায়, ফুটবল সব সময় আলাদা। এটা দলীয় খেলা। এককভাবে কখনো খেলা যায় না।দলীয় সমন্বয়ের মাঝে একটা জাদুকরি ঐক্যতান সৃষ্টির মাঝেই এ খেলার সৌন্দর্য নিহিত।
আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত দক্ষতা, গোলরক্ষক মার্টিনেজ,
পুরো মাঠ বিচরণের
প্রাণশক্তি মেসির সাথে নবীন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের গ্রাফচিত্র কলাকুশলীদের ঐক্যতানে
২০২৬ সালেও আর্জেন্টিনার জয় যাত্রা অব্যাহত থাকবে এটাই প্রত্যাশা।
নিঃসন্দেহে ফুটবল হচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা।
যে খেলায় মেতে আছেন বিশ্বের সকল ধর্ম বর্ণ গোত্র ও পেশার মানুষ।ভাবের আদান-প্রদান, সংস্কৃতি বিনিময়ে ভূমণ্ডলের ভৌগোলিক সীমানার একমাত্র মানচিত্র ফুটবল।উরুগুয়ের লেখক এদোয়ার্দো গানিয়ানের ভাষায় "একটি খেলার মাঠ হচ্ছে পৃথিবীর আয়না।" এবারও, আকাশের আলপনায় চকচকে সাদা নীল ফ্রেমের আয়নায় দেখবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা।








