প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০৩
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-১২
আমাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিলো
-------মো. কামরুল ইসলাম সোহেল গাজী

সাবেক ছাত্রনেতা, কারা নির্যাতিত যুব নেতা, চাঁদপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, চাঁদপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম সোহেল গাজী বলেছেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি আমার সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘদিনের আমার কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসীর অনুরোধে আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছি।
|আরো খবর
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে নিম্নে তার কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো--
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঁদপুর পৌরসভায় কোত্থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
সোহেল গাজী : মূলত রাজনীতি হলো জনগণের সেবা করার একটি প্লাটফর্ম। কিন্তু এই প্লাটফর্মে থেকে সর্বসাধারণের সকল ক্ষেত্রে সেবা করার সুযোগ থাকে না। সেখানে জনগণের সেবা করার ক্ষেত্রটি সীমাবদ্ধ থাকে। তাই বৃহৎ আকারে জনগণের সেবা করার জন্যে প্রয়োজন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে সেবামূলক অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পৌরসভা। তাই জনগণের সেবা করার ইচ্ছে পোষণ করে আমার ওয়ার্ডবাসীর অনুরোধে আমি চাঁদপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
সোহেল গাজী : আমি পূর্বেই বলেছি ছাত্রজীবনে সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করেছি। একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইচ্ছে করলে বা অর্থ, সম্পদ, প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলেই আপনি প্রার্থী হতে পারবেন না। জনগণের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার পক্ষে সাড়া থাকতে হবে। তাহলেই আপনি সফলকাম হতে পারবেন। অতএব আমার এলাকাবাসীর বা ওয়ার্ডবাসীর অনুরোধে এবার আমি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছি। আমার জীবনে এই প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
সোহেল গাজী : স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে একটি নির্দলীয় নির্বাচন। কিন্তু নিশ্চয়ই আপনার জানা রয়েছে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ সকল নির্বাচনেও কোনো না কোনোভাবে দলের সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের একজন কর্মীই শুধু নই, দেশের বৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল চাঁদপুর পৌর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অতএব আমার এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনে অবশ্যই দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
সোহেল গাজী : দেখুন, আমার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা পরিচিতি এই জেলাতে কম নয়। আমি যে দলের রাজনীতি করি, সেই দলের রাজনীতি করতে গিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিগত ১৭ বছরে ২৭টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছি। আমাকে ডান্ডা বেড়ি পরানো হয়েছে। আমি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি। আমাকে ক্রসফায়ার দেয়ার পূর্বে মিডিয়ার জন্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে যে, আমি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছি । আমাকে ক্রসফায়ারে নেয়ার পূর্বে একজন মুসলমান হিসেবে কালেমাসহ দোয়া দরুদ পড়িয়ে সকল কিছু প্রস্তুত করা হয়। ঠিক গুলি করার এক মিনিট পূর্বে আমাকে র্যাবের কমান্ডার বলেন, আল্লাহ তোমার হায়াত রেখেছেন, এজন্যে আর মরতে হলো না। এ ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন পূর্বে । পরে জানতে পেরেছি, এটি আল্লাহর রহমতে আমার বাবার প্রচেষ্টায় রক্ষা পেয়েছি। কারণ, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য। এ কথাগুলো এজন্যেই বললাম যে, আমার পরিচিতি শহরবাসীর জানা রয়েছে। নির্বাচন করে পরিচিতি করার প্রয়োজন আমার নেই। বিজয়ী হওয়ার জন্যে আমি নির্বাচন করবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
সোহেল গাজী : যে কোনো নির্বাচনে যে কোনো প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার জন্যে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। সেটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয় নয়। তবে হ্যাঁ, আমি গণসংযোগ ১৭ বছর পূর্ব থেকেই করে আসছি । কারণ বিগত সরকার জনগণের সবচেয়ে বড়ো মূল্যবান যে অধিকার তাদের মতামতের অধিকারটি কেড়ে নিয়েছিলো, জনগণের এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা বিগত ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। জনগণ আমাদের পাশে ছিলো। আর আমার ওয়ার্ডবাসীর সাথে আমি সারাদিনই আছি। অতএব গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
সোহেল গাজী : বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের এই অধিকারটুকু কেড়ে নিয়েছে। তাদের ইচ্ছেমতো জনগণের পছন্দের বাইরে গিয়ে দলীয়করণ করেছে। এটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা জনগণের বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার। অতএব এ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের গোপন রায়ের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ করে দিবে ইনশাল্লাহ।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
সোহেল গাজী : আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো কাজ করতে চাই না। বাস্তবে কাজের মাধ্যমে আমি তা প্রমাণ করতে চাই। তবে একটি প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, চাঁদপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড হবে সারাদেশে মডেল। এ ৪নং ওয়ার্ডে আমি থাকলে ইনশাআল্লাহ এটি হচ্ছে আমার প্রধান এবং প্রথম প্রতিশ্রুতি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।
সোহেল গাজী : বিগত সতেরো বছর যে দাবি আদায়ের আন্দোলন করেছি, সেগুলো পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। তন্মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে রাস্তাঘাটসহ এক কথায় জনস্বার্থে সকল উন্নয়ন করাই আমার মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় চাঁদপুরের নেতাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ছিলো মো. কামরুল ইসলাম সোহেল গাজী। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসের প্রতিধ্বনি ছিলেন তিনি। যে কারণে তরুণ ও যুব সমাজের কাছে খুব জনপ্রিয় কামরুল ইসলাম সোহেল গাজী। তিনি একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা সোনা মিয়া গাজী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য। ২০০৮ সালে ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে পা রাখেন। তিনি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে সর্বপ্রথম ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের জাফরাবাদ ইউনিটের একজন সদস্য হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে চাঁদপুর পৌর যুবদলের ৪নং ওয়ার্ডের যুবদলের সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে বা গণতান্ত্রিক পন্থায় উক্ত ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তিনি ২০১৯ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদল চাঁদপুর পৌর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
কামরুল ইসলাম সোহেল গাজী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে ২৭টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়ে ফেরারি জীবন যাপন করেন। তিনি ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়ে বছরের অধিক সময়ে জেল হাজতে ছিলেন। জেল হাজতে থাকা অবস্থায় প্রতিবারই তাকে ডান্ডা বেড়ি পরিয়ে রাখা হতো।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








