বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১

নেতৃত্বশূন্য ফরিদগঞ্জ বিএনপি

ক্ষমতাসীন হয়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই!

নুরুল ইসলাম ফরহাদ
ক্ষমতাসীন হয়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই!

কমিটি এবং অভিভাবকহীন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি! ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও করা হয়নি, নতুন কমিটিও গঠন করা হয়নি। যে কমিটির কাজ নেই সে কমিটিকে অকার্যকর বলছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। বিনা কমিটিতে অনেকটা বিশৃঙ্খলভাবে চলছে উপজেলা বিএনপি। ঠিক কবে অভিভাবকহীন ছিলো উপজেলা বিএনপি, সাধারণ নেতা-কর্মীদের তা জানা নেই। শুধু বিএনপিই নয়, ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে উপজেলা ও পৌর যুবদল এবং উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিও।

২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম আদিষ্ট হয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিসহ সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আব্দুল হান্নান (বর্তমানে সংসদ সদস্য)কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একাধিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বিএনপি নেতা ডা. আবুল কালাম আজাদ, মো. মঞ্জিল হোসেন, আমানত গাজী ও মো. ফারুক আহমেদ খানকে। একইদিনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে বহিষ্কার করা হয়। একইদিনে বহিষ্কার করা হয় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবকে।

বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্ত ও কার্যক্রম স্থগতি করা এবং নতুন কমিটি ঘোষণা না দেয়া বা কাউন্সিল না করার কারণে কার্যত নেতৃত্বের শূন্যতায় পড়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। উপজেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন সংকটে আগে কখনও পড়েনি বিএনপি--এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৯ সালে। সে কমিটির সভাপতি ছিলেন শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মজিবুর রহমান দুলাল--এমনটাই জানালেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান।

এদিকে তিন মাস ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কার্যক্রম নেই উপজেলা জুড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত মামলা হামলা, বাধা-বিপত্তির পরও বিএনপির কমিটি এবং কার্যক্রম ছিলো। অথচ এখন তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত ফরিদগঞ্জে দলের কার্যক্রম নেই, নেই কমিটি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা এবং বিস্ময় প্রকাশ করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিটি বা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিএনপি একটি বৃহৎ দল। ফরিদগঞ্জে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দলের চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই এখানে কমিটি দেবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, বর্তমানে ফরিদগঞ্জের বিএনপি অভিভাবকহীন। সাংগঠনিক ভিত শক্ত করার জন্যে এবং কার্যক্রমে গতি আনার জন্যে অনতিবিলম্বে কমিটি করা হোক।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা দলের বিরুদ্ধে ছিলাম না; আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি এবং সফল হয়েছি। আমি আশা করি দল আমাদেরকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। আমরা সবাই মিলে ফরিদগঞ্জ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে চাই।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, যদি উপজেলা বিএনপি অভিভাবকশূন্য থাকে, তাহলে কার্যক্রমও থাকবে না। আর কার্যক্রম না থাকলে নেতা-কর্মীও আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে পারে। দলের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, যখনই কমিটি দেয়া হয়, যেন ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়। যারা দলের বিপদের সময় রাজপথে ছিলেন তাদের যদি উপেক্ষা করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে আর ত্যাগী নেতা-কর্মী পাওয়া যাবে না।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যাক্ষ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিআইপি মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল এবং চলমান রাখার জন্যে অবশ্যই নেতৃত্বের প্রয়োজন। আর এর সুফল পাওয়ার জন্যে আরো বেশি প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব। ভুল নেতৃত্ব আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারে তার প্রমাণ আমরা ২০২৬-এর নির্বাচনে দেখতে পেয়েছি। ফরিদগঞ্জ হলো বিএনপির দুর্গ। কঠিন প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা এখানে ধানের শীষকে হারাতে দেইনি। অথচ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সুসময়ে এসে ধানের শীষ হেরে গেলো। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই। আমার প্রত্যাশা থাকবে সকল দ্বন্দ্ব নিরসন করে উপজেলা বিএনপির সব পক্ষকে এক ছাতার নিচে আনতে এখই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। সেই সাথে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যাতে সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে শক্তিশালী করে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনতে পারে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নানকে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি বিধায় তাঁদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়