প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৮
ভাবনার অন্তরালে...
চালাক মানে বুদ্ধিমান, আর চালাকি মানে প্রতারণা। বুদ্ধিমান হলে খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করা সম্ভব।
অনেক সময় জ্ঞানও মাথা নোয়ায় বুদ্ধিমানের কাছে। বলবেন, জ্ঞানী না হলে বুদ্ধিমান হওয়া অসম্ভব; বলতে চাই, জ্ঞানী মানুষের যতটা না-পাওয়া থাকে, বুদ্ধিমান মানুষের দিকটা এমন নয়। চালাক বা বুদ্ধিমান মানুষেরা যে কোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে মোটামুটি সক্ষম। অতিচালাকের কথা বলছি না, তাদের তো সবসময় গলায় দড়ি। বুদ্ধিমানরা জানে কাউকে না ঠকিয়ে কী করে ভালো থাকতে হয়।
জ্ঞান হলো মস্তিষ্কে কেবল অর্জন করা আর তার আলোয় নিজেকে এবং অন্যদের আলোকিত করা। জ্ঞানী হলেই যে আপনি ভুল পথে হাঁটবেন না, এমনটাও ভাববার কারণ নেই।
অসংখ্য শিক্ষিত মানুষকে দেখছি ‘জীবনে কী পেলাম’—এমন আক্ষেপ নিয়ে বেঁচে থাকতে।
বুদ্ধিমান বা চালাক মানুষেরা অধিকতর সুখী। তারা মেধার সাথে বুদ্ধি প্রয়োগ করে; তাদের প্রতিটি কর্মপরিকল্পনায় থাকে গঠনমূলক রূপরেখা।
তারা সবাই যে খুব বেশি লেখাপড়া জানে এমনটা নয়, বুদ্ধিমান হতে হলে খুব বেশি লেখাপড়া বা শিক্ষার প্রয়োজন নেই।
তাদেরকে অনেকে চালাক ভাবে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই—যদি না তার চালাকিতে কারো কোনো সর্বনাশ হয়। আমরা বলি, ‘সে আমার সাথে একটা চালাকি করেছে’, তার মানে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এটা আদর্শের পরিপন্থী। এককথায় চালাকি মানেই কারো না কারো কোনো ক্ষতি হওয়া। বুদ্ধিমান চালাকেরা কারো ক্ষতি না করেই ভালো থাকতে জানে।
জ্ঞানীর চঞ্চলতা কম, নীরবতা বেশি, বিচক্ষণতা বেশি, ধৈর্য বেশি। তারা হাতে হাতে ফলাফল খোঁজে না, একটা সময়ে অঙ্কের সমাধান করতে জানে।
তারা প্রয়োজনে নীরব, প্রয়োজনে বধির, আবার প্রয়োজনে দু-চারটি বাক্য ব্যয় করে।
পৃথিবীতে যত আবিষ্কার, যত রচনা—সব জ্ঞানী ব্যক্তির হাত ধরে এসেছে। তারা নির্দেশক, তারা উপস্থাপক, আবার তারা নিরুত্তাপ। অতিজ্ঞানী হয় সব ভুলুণ্ঠিত করে ফেলে, না হয় কল্যাণ করে।
মানুষের ভালো থাকার জন্য জ্ঞান এবং বুদ্ধি দুটোই প্রয়োজন। দুটোর সংমিশ্রণে যাবতীয় কল্যাণ বয়ে আনা সম্ভব।
চালাক এবং চালাকি দুটো আলাদা দিক। চালাক মানে বুদ্ধিমান, চালাকি মানে প্রতারণা।
খেয়াল করবেন, মানুষ ছাড়াও এ জগতে বুদ্ধিদীপ্ত প্রাণী আছে; তারা তাদের বুদ্ধি দিয়ে যেমন নিজেকে রক্ষা করে, কোনো কোনো সময় বিপদগ্রস্ত মানুষকেও রক্ষা করে।
এই আলোচনা করলাম এই জন্য যে, একেবারে সরলরেখার মতো সরল হয়ে বেঁচে থাকা অনেকটা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মতো।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন :
সচ্ছল অর্থ উপার্জন
নিরেট ভালোবাসা
কৃতজ্ঞতাবোধ
সহমর্মিতা
স্বাস্থ্যসচেতনতা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা এবং সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য।
এর ঘাটতি হলেই মানুষ অসুখী, দরিদ্র এবং প্রকৃত অভাবী হয়। যে ক্ষতি নিজে সৃষ্টি করে, তার দায় নিজেকেই মূল্য দিয়ে চুকিয়ে যেতে হয়।
মানুষের প্রকৃত দারিদ্র্য ফুটে ওঠে তার আচরণে ও জ্ঞানে।
একটি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ আছে—
“জন্ম হোক যথাতথা
কর্ম হোক ভালো”
ভালো থাকবেন সবাই, নমস্কার।
তাং ৩০-০৮-২০২৬ খ্রি.








