প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

ফরিদগঞ্জের কৃতী সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাদ জুমা ফরিদগঞ্জের মদনেরগাঁও গ্রামের মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
|আরো খবর
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার সময় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু ওসমান চৌধুরী। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড পান। ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি পদোন্নতি পেয়ে মেজর হন। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে যখন ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ 'অপারেশন সার্চ লাইট' শুরু হয়, সেই খবর আবু ওসমান চৌধুরী পান কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে বসে। সে সময় তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের চতুর্থ উইংয়ের কমান্ডার হিসেবে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে ছিলেন।
পরদিন সকালে তিনি কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছান এবং বিদ্রোহ ঘোষণা করে একদল সৈনিককে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। পরে তাঁকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়।
১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হলে আবু ওসমান চৌধুরী এক প্লাটুন সৈন্য নিয়ে মন্ত্রিপরিষদকে গার্ড অব অনার দেন।
তাঁর স্ত্রী নাজিয়া খানমও সে সময় রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে খাবার ও পানীয়, টাকাপয়সা পৌঁছে দেয়া এবং প্রয়োজনে ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা, অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ পাহারা দেয়ার মতো কাজ করেছেন সাহসিকতার সঙ্গে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবু ওসমান চৌধুরীকে লেফটেনেন্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। পরে তাঁকে আর্মি সার্ভিস কোরের (এএসসি) পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে আবু ওসমান চৌধুরীকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








