বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫

গীটার, গান ও অভিনয়ে মঞ্চের পরিচিত মুখ রাজীব চৌধুরী

সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
গীটারের ছয় তারে দুই যুগের পথচলা

চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে যারা দীর্ঘদিন ধরে নীরবে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, রাজীব চৌধুরী তাদেরই একজন। গীটারের ছয় তারে সুর তোলা, গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলানো কিংবা মঞ্চনাটকে নানা চরিত্রে অভিনয়—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। প্রায় দু যুগ ধরে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংস্কৃতিক ও ব্যান্ড অনুষ্ঠানে শিল্পী হিসেবে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০৩ সালে ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুরু হয় তার সংস্কৃতি অঙ্গনের পথচলা। তবে গীটারের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালে। সংগীত গুরু প্রয়াত শীতল ঘোষালের ছেলে তন্ময় ঘোষাল তমালের কাছে তার গীটার শেখার হাতেখড়ি। পরবর্তীতে ঢাকার বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ও গীটারিস্ট মো. শামীমের কাছে গীটার শেখেন তিনি। দীর্ঘ অনুশীলন ও চর্চার মধ্য দিয়ে একসময় গীটারে দক্ষতা অর্জন করেন রাজীব।

গীটার হাতে প্রথম মঞ্চে ওঠার স্মৃতিও তার কাছে বেশ বিশেষ। চাঁদপুরের পুরাণ বাজারের ‘হার্টটাচ’ ব্যান্ডের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথমবার মঞ্চে গীটার বাজান তিনি। সেই যে শুরু, এরপর আর থেমে থাকেননি। একের পর এক মঞ্চে গীটার হাতে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন রাজীব। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে চাঁদপুর প্যারাডাইস ব্যান্ড, কুয়াশা ব্যান্ড, চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন, রঙের ঢোলসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ব্যান্ড সংগঠনের অনুষ্ঠানে গীটার বাজিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবেও নিয়মিত গীটার পরিবেশন করে আসছেন।

রাজীব চৌধুরীর পরিচয় শুধু গীটারবাদকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গীটার বাজানোর পাশাপাশি প্রায় দু দশক ধরে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডশিল্পী হিসেবে গানও পরিবেশন করে আসছেন তিনি। গীটার ও কণ্ঠের সমন্বয়ে মঞ্চে তার পরিবেশনা পায় এক আলাদা মাত্রা।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়ের মঞ্চেও রয়েছে রাজীবের পদচারণা। চাঁদপুরের অনুপম নাট্যগোষ্ঠী, স্বদেশ সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ব্যানারে বিভিন্ন সময়ে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ে তার হাতেখড়ি বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক আকরাম খানের কাছে।

মঞ্চে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে নিজের এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন রাজীব চৌধুরী। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এক আসমান খোয়াব’, ‘ভাঙন’, ‘অতলস্পর্শী অনুভব’, ‘সুন্দর আলীর বায়োস্কোপ’, ‘একটি স্বাধীনতা’, ‘সরষের ভেতর ভূত’ ও ‘মহিষাসুর বধ’।

দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পথচলায় গীটারিস্ট হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন রাজীব। ২০১১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে এবং ২০১৫ সালে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে রাজীব চৌধুরীর পথচলা একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চর্চার সাক্ষী। মঞ্চ, ব্যান্ড, গীটার ও নাটক—নানা মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থেকে তিনি চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

১৯৮৬ সালে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারের নিতাইগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন রাজীব চৌধুরী। তার বাবা জহিরুল হক এবং মা রওশন আরা বেগম। ব্যক্তিজীবনে রাজীব চৌধুরী বিবাহিত এবং এক পুত্র সন্তানের জনক। পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতিকে ভালোবেসে এখনো ছুটে চলেছেন মঞ্চ থেকে মঞ্চে। গীটারের ছয় তারে সুর আর কণ্ঠে গান নিয়ে তার এই পথচলা আরও দীর্ঘ হোক—এমনটাই প্রত্যাশা তার সহযাত্রী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়