রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১

হুজুর (দ.) ভূমিষ্ট হলেন কীভাবে?

অনলাইন ডেস্ক
হুজুর (দ.) ভূমিষ্ট হলেন কীভাবে?

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সুতরাং নবী করিম  (দঃ)-এঁর  ব্যতিক্রমধর্মী বেলাদাত শরীফ   সম্পর্কে কোনো     ঈমানদারের  মনে   আর সন্দেহ  থাকতে     পারে না। কিতাবে প্রমাণ  পাওয়া  গেলে  মানতে  অসুবিধা  কোথায়? আসলে  এক ধরনের জ্ঞানপাপীরা   সবসময়ই নবী করিম (দঃ)-কে সাধারণ মানুষের    সাথে   তুলনা     করতে        আনন্দবোধ করে!    যেমন- আনন্দবোধ   করতো          মক্কার   কাফিরগণ।         তারা    বলতো- “মুহাম্মদ (দঃ)   তো   আমাদের   মতই একজন মানুষ।”  এ ধরনের   উক্তি কাফেররাই    করে, কোনো মোমেন করতে   পারে না। নবীজী বিনয়মূলক বলতে পারেন, “আমি তোমাদের ন্যায় একজন  মানুষ।”   কিন্তু উম্মত একথা  বলতে পারবে    না    যে, তিনি আমাদের মতই একজন মানুষ।

সারকথা হলো, সাধারণ সন্তানগণের ভূমিষ্ট হওয়ার ধরণ এক রকমের। অন্যান্য  নবীগণ (আলাইহিমুস  সালাম)’র  ভূমিষ্ট  হওয়ার  ধরণ আরেক রকমের এবং  আমাদের  নবী   করিম (দঃ)-এঁর ভূমিষ্ঠ হওয়ার ধরণ অন্যান্য নবীগণ থেকেও ভিন্ন।

সাধারণত ডাক্তারগণ  বর্তমানকালে  নরমাল   ও সিজারিয়ান-এই  দুই পদ্ধতিতেই সন্তান ভূমিষ্ট করাতে সক্ষম।  সৃষ্টিকর্তার  কুদরত কি  এতই       অক্ষম  হয়ে  গেলো? (নাউজুবিল্লাহ!)     নবীগণের জন্ম-মৃত্যু   ও জীবনপদ্ধতি   সাধারণ    মানুষের     চেয়ে     উন্নত ধরণের হওয়াই   যুক্তিযুক্ত। সবকিছুই    যদি      সাধারণ মানুষের ন্যায় হতো, তবে তাঁদেরকে মহামানব বলা হতো না। আল্লামা শরফুদ্দীন বুছিরী, যিনি  নবীজী’র  শানে কছিদায়ে বুরদা   লিখে দুরারোগ্য প্যারালাইসিস  থেকে     আশ্চর্যজনকভাবে  মুক্তিলাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর কাসিদায় বলেছেনঃ-

”মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি     ওয়াসাল্লাম) মানবজাতি হয়েও  কোনো মানুষের মতোই নন। যেমন ইয়াকুত পাথর হয়েও অন্য কোনো পাথরের মতো নয় (কাসিদায়ে বুরদা শরীফ)।

নবীজির হাকীকত পরিচয় দিয়ে জনৈক উর্দু কবি বলেছেনঃ- অর্থাৎঃ-”হে  প্রিয়  রাসুল!  আপনি তো খোদা  নন যে  - খোদা    বলবো। আপনিই বলে  দিন - আপনাকে কি নামে  আখ্যায়িত করবো? কেননা, উর্দ্ধজগতেও আপনার মতো কেউ নেই এবং জমিনেও আপনার  মতো কেউ   নেই।”           অর্থাৎ          আপনার  উদাহরণ আপনিই। ”নূরের ফেরেশতা যে সীমায় গেলে জ্বলে পুড়ে যায়, সেখানে আপনি নিরাপদে বিচরণ করেছেন।”

বুঝা গেলো- তিনি মাটির  দেহধারী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন নূরানী মহামানব।

(চলবে) সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়