প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬
পথের দূরত্ব

২০১৫ সাল। অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছি। সাহিত্য জগতে বিচরণ করতে নিয়মিত পত্রিকা পড়া শুরু করি। এমনই এক বুধবার পত্রিকার শিরোনামে চোখ বুলাচ্ছি। ‘আজ সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর-এর মাসিক সাহিত্য আসর’। সিদ্ধান্ত নিলাম আজ যেতেই হবে। মা অভয় দিলেন।
বিপত্তি বাধলো ভাড়া নিয়ে। বাবাহীন সংসারে সেই সময়ে একশত টাকা হাজার টাকার সমান। পত্রিকা বিক্রি করে ত্রিশ টাকা হলো। মা পঞ্চাশ টাকা দিলেন।
লেখার উদ্দেশ্যে স্কুল থেকে হাফ ক্লাসের পর চলে আসলাম।
লিখতে বসলাম প্রবন্ধ। ‘সাহ্ত্যি জ্ঞানের ভাণ্ডার’।
আসরের আজান কানে ভেসে আসতেই লেখা বন্ধ করলাম। ও মাই গড! আসর ৫টায়। এখন ৪টা বেজে গেছে! ৭/৮ পৃষ্ঠা লিখে ফেললাম দুই ঘণ্টায়।
না খেয়েই রওনা দিলাম আঁতুড়ঘরের উদ্দেশ্যে।
কুড়ি মিনিট মতো লেট করে ফেললাম।
অজানা ভয়ে ভয়ে ঢুকে গেলাম।
এক সময় লেখা পাঠের আহ্বান করলেন সঞ্চালক। কাঁপতে কাঁপতে আর তোঁতলাতে তোঁতলাতে পড়া শেষ করলাম। তালির আওয়াজে বুকে আনন্দে প্লাবণ বয়ে গেলো।
একে একে প্রত্যেকের লেখার আলোচনা-সমলোচনা শেষ হলো। আসর শেষের আগে আমার লেখা নিয়ে আধঘণ্টা কথা বললেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত স্যার। নবীন লেখক বলে আমার লেখায় সরাসরি ঢুকলেন না। লেখার মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমলোচনা করেনি। তাই একটু মনোক্ষুণ্ন হয়েছি। তবুও তিনি তখন যে কথাগুলো বলেছেন তা আমার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি বললেন, ইয়াছিন যে বিষয়টা নিয়ে এত বড় লেখা এনেছে সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তিনি আরো বললেন, এখানে সে কি লিখেছে সেটা মুখ্য বিষয় নয়। সে যে একা ফরিদগঞ্জ থেকে এসেছে, সেই সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ। লেখালেখি করো ভালো কথা। পড়াশোনা করো। নয়তো মানুষ বলবে, ইয়াছিন লেখালেখি করে কিন্তু পড়াশোনা করে না। এরা সাহিত্যের জন্য মঙ্গল হবে না। মাঝে মধ্যে আসবেÑএমনটাই প্রত্যাশা করি।
যাই হোক, কবি দেলোয়ার হোসাইন, সৌম্য সালেক, পীযূষ ক্লান্তি বড়ুয়া স্যারদের স্নেহ ও ভালোবাসায় আজকের গল্পকার ইয়াছিন দেওয়ানে পরিণত হয়েছি।
বর্তমানে সাহিত্য একাডেমী সাধারণ সদস্য এমন কেউ নেই যে আমাকে ভালোবাসেন না। এই ভালোবাসা নিয়ে আজন্ম বেঁচে থাকতে চাই।





