প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩
পাঠক ফোরামের কবিতা
ইকরা আহম্মেদ মানবের প্রাণ
যন্ত্রণার মাঝেও বাঁচার আকুতিই বুঝি,
ছুটিয়ে নিয়ে যায় এপার থেকে ওপার।
মরণের বাণী সঙ্গ করে,
বাঁচার আশা বারেবার।
সাদা কাগজে লেখা রহস্যময়ী নাম,
এ যেনো শেষ ভরসা, বেঁচে থাকার বিধান।বহুমূল্য জীবন বাঁচাতে হাহাকার,
কিন্তু হায় মূল্যই কেনো জানি বেমানান।
অভিজাত্যের শক্তিতে,
সর্বলোক কি পারে জীবন রক্ষিতে?
ঠিক একারণেই বুঝি গভীর রাতের শেষ প্রান্তরে,
দুই হাত তুলে আকাশের পানে;
নিঃশব্দ সুর বেজে ওঠে
‘হে প্রভু, রাখো আমায় প্রাণে।’
কতকের নিকট প্রার্থনাই শেষ ভরসা,
কিছুজনের কাছে বিশ্বাসই তার আস্থা।ভাঙ্গা প্রাণ জোড়া লাগাতে,
সান্ত্বনাই যেনো ভালো।
তাই বুঝি এই দুর্বিপাকেও,
অন্ধকারও খোঁজে আলো।জীবনের ভারে ক্লান্ত পথচলা,
তবুও থেমে নেই কালবেলা।
শেষ ভরসাই যদি হয় বেঁচে থাকা,
তবু জীবনই শেখায়-হেরে যেও না একা।
যন্ত্রণারই শেষে আছে শান্তির বাগান,
বেঁচে থাকার নামই বুঝি-মানবের প্রাণ?মুহাম্মদ কাউছার আলম রবি পাহাড়, রেল আর বন্ধুত্বের কাব্য
রেলপথের ওই ক্লান্তিহীন আর আরামপ্রদ চলা,
জানালা দিয়ে বন্ধু-সখার মিষ্টি কথা বলা।
চারপাশে তার সবুজ মায়া, রেললাইনের ধার,
পাকা খেজুরের থোকা থোকা রূপের বাহার।গাছে গাছে বিলেতি গাব, রক্ত ফলের মেলা,
পাকা আম আর কলার কাঁদি, বুনো পাখির খেলা।
চন্দ্রনাথের সজিনা পাতা, বানরদের ওই আনাগোনা,
প্রকৃতির এই আড়ালে ভাই, খাঁটি মানিক সোনা।হঠাৎ দেখা সুপ্ত ঝর্ণা, অপার তাহার রূপ,
শীতল জলে স্নান-জলকেলি, কাটল মনের চুপ।
সহকর্মীদের হুল্লোড় আর হাসিমুখের মেলা,
ভুলেই গেলাম আমরা সবাই জগত-সংসার খেলা।রেলওয়ে সেই হাশেম চাচার আতিথেয়তা ভরা,
অমন মানুষ অনন্য ভাই, এ যুগে মেলা ভার।
উপজাতি আর সনাতনীদের সাথে হলো চেনা,
অন্ধবিশ্বাসের আঁধার ভেঙে সত্য সুন্দরের দেনা।ধীরে ধীরে পথ চলা, পাহাড়-উঁচু বুক,
অবশেষে জয় করলাম চন্দ্রনাথের মুখ!
মেঘের দেশে উড়িয়ে ধ্বজা, চূড়ায় যখন দাঁড়াই,
অমলিন সেই স্মৃতির মাঝে নিজেকে আজ হারাই।
ক্ষুদীরাম দাস নিজেদের কুড়াল-ঘাতসবুজ ঢেকেছে ধরণীর মুখ, ছিল অরণ্য রাজ,
শীতল ছায়ায় ছিল প্রকৃতির যত কাজ।
প্রাণভরে নিতো শ্বাস বাতাসেরা শুদ্ধতায়,
জীবনের মূলমন্ত্র ছিল এই পাতায় পাতায়।লোভের কুড়াল পড়িল সেথায়, চলিল আঘাত,
সভ্যতার নামে হল বনভূমি নিপাত।
কাটিল সকল গাছ, জন্মভূমি শূন্য হল,
ভবিষ্যৎ গেল কেঁদে, বর্তমানের ছল।এই ধ্বংসের খেলা, এ কেবলই ভুল কাজ,
এ যেন নিজের পায়ে কুড়াল হানার আওয়াজ।
যে হাতে গড়তে পারতো শান্তির শীতল নীড়,
সেই হাতে কাটি নিজেরে, আমরা কেমন বীর?আকাশ কাঁদে আজ, বৃষ্টি ঝরে না আর,
মাটি ফাটে রোদতাপে, নেই কোনো প্রতিকার।
নদী শুকিয়ে গেল, পাখি হারালো আশ্রয়,
কোথায় পালাবো মোরা, যখন প্রকৃতি রুষ্ট হয়?বাতাস বিষাক্ত হলো, ফুসফুসে জমে ভয়,
খাদ্য ফুরাবে দ্রুত, পৃথিবী হবে ক্ষয়।
যে বাঁচাতো মোদের, তারেই করেছি খুন,
এ অপরাধের ভারে হবে জীবন বিলীন।এখনও সময় আছে, ফিরে চলো সেই পথে,
প্রকৃতিকে বাঁধি ভালোবাসার নতুন রথে।
ভুল জেনেও কেন করি ধ্বংসের আয়োজন?
নিজের বিনাশে কেন এত তীব্র প্রয়োজন?







