প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০
৮ কোটি বিতরণে ৫৩ কোটি টাকা খরচ: গরিবের ভাগ্যে 'ছিটেফোঁটা', আমলাতন্ত্রের পৌষ মাস!

‘মহাজাগতিক তামাশা’
|আরো খবর
- দেশপ্রেমিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে ক্ষমতাপ্রেমীরা পালানোর সুযোগ পাবে না একইদিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন জাতির সাথে তামাশার শামিল
- নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার না এনে রোড ম্যাপ ঘোষণা জাতির সাথে তামাশার শামিল : শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন
- জাতির মুক্তির সনদ ১১ দফা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাগণের সাক্ষাৎ না দেয়ার তামাশা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা
‘মহাজাগতিক তামাশা’ শব্দবন্ধটি ইদানীং এ দেশের বাজেট প্রণয়ন আর প্রকল্প প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে বড্ড বেশি হালকা শোনায়। জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারানো ৩০০টি পরিবারের দীর্ঘশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর যে অবিশ্বাস্য ‘লুটপাটের খসড়া’ তৈরি করেছে, তা কেবল বেদনাদায়ক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতিহীনতার এক চরম বিকৃতি। অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অথচ, সেই সামান্য টাকা বিতরণ করার নাম করে কর্মকর্তাদের বিলাসবহুল অফিস, গাড়ি কেনা, ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ আর তথাকথিত ‘পরামর্শক’ পোষার পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা! অর্থাৎ, প্রকল্পের মোট বাজেটের মাত্র ১৩ শতাংশ ছুঁতে পারবে গরিবের শূন্য হাত, আর বাকি ৮৭ শতাংশ টাকাই গিলে খাবে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জাঁকিয়ে বসা একদল শ্বেতহস্তী। একে আর যাই হোক, জনকল্যাণমূলক কাজ বলা যায় না; এটি মূলত বিপন্ন মানুষের নাম ভাঙিয়ে একদল সুবিধাভোগীর ভাগ্য বদলের রাষ্ট্রীয় উৎসব।
গণমাধ্যমের কল্যাণে যখন জানা যায়, ৩০০ জন ভাগ্যাহত মানুষের তালিকা তৈরি করে তাদের হাতে অনুদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরামর্শক খাতেই ব্যয় হবে সাড়ে ১১ কোটি টাকা—যা মূল অনুদানের চেয়েও বেশি—তখন মেরুদণ্ডহীন আমলাতন্ত্রের নগ্ন লোভ দেখে স্তব্ধ হতে হয়। কোন মহাজ্ঞানের জন্য এই সাড়ে ১১ কোটি টাকার পরামর্শক লাগে? কোন অলৌকিক প্রযুক্তি গিলতে করদাতাদের লাখ লাখ টাকা উড়িয়ে কর্মকর্তাদের বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়? এটি আসলে সরকারি তহবিলের প্রকাশ্য লুণ্ঠন। বিদেশি দাতা সংস্থা GIZ (GIZ)-এর কারিগরি শর্তের দোহাই দিয়ে এই লুটপাটের নকশাকে জায়েজ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা তীব্র ধিক্কার পাওয়ার যোগ্য। বিদেশি সংস্থা শর্ত দিলেই কি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অর্থের অমর্যাদা করে এমন আত্মঘাতী ও গণবিরোধী প্রকল্প চোখ বন্ধ করে গিলে নিতে হবে? দাতা সংস্থার ছদ্মবেশে এই পরজীবী চরিত্র রাষ্ট্র আর কতকাল বরদাশত করবে?
আমাদের দেশের প্রকল্পগুলোতে এই 'পুকুরচুরি' বা অসামঞ্জস্য ব্যয় নতুন কোনো ব্যাধি নয়। এর আগেও আমরা খিচুড়ি রান্না শিখতে বা পুকুর খনন দেখতে সরকারি বাবুদের প্রমোদ ভ্রমণের মহোৎসব দেখেছি। কিন্তু জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মতো অতি প্রান্তিক ও নিঃস্ব মানুষের ভাগ্য নিয়ে এমন নিষ্ঠুর মশকারা সমস্ত নাগরিক বিবেককে চাবুক মারে। পরিকল্পনা কমিশন এই অর্থহীন ও বিলাসী ব্যয়ের প্রস্তাবে আপত্তি তুলে যে কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছে, তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও মৌলিক রোগ নিরাময় করে না। প্রশ্ন হলো—শুধু প্রস্তাব সংশোধন বা টাকা কাটছাঁট করলেই কি দায় শেষ হয়ে যায়? দেশের অর্থনৈতিক সংকটের এই চরম মুহূর্তে যারা এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও গণবিরোধী প্রকল্প তৈরি করার ধৃষ্টতা দেখান, তাদের কেন জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনা হবে না?
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক ক্রান্তিকাল পার করছে, যেখানে প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। আমলাতন্ত্রের এই বিলাসী মানসিকতা এবং প্রকল্পকে ‘ব্যক্তিগত আখের গোছানোর মেশিন’ হিসেবে দেখার প্রবণতা যদি এখনই কঠোর হস্তে দমন করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন রাষ্ট্রযন্ত্রকে গ্রাস করবে। আমরা আশা করি, government এই ধরণের নির্লজ্জ মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন যেন আমলাদের প্রমোদ ভ্রমণের সস্তা উসিলা না হয়—এটাই সময়ের জোরালো দাবি।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ
প্রতিবেদক: অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি,সিনিয়র সাব-এডিটর, ও কলামিস্ট, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।








