প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩
চাঁদপুর কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের জের
২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হচ্ছে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের কার্পেটিং ও রক্ষাপ্রদ কাজ

গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে অবশেষে স্বস্তি ফিরছে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে। ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ’ এবং এর ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। এরই প্রেক্ষিতে চাঁদপুর সদরের বাগাদী চৌরাস্তা থেকে ফরিদগঞ্জ বাজার পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৯ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং, রক্ষাপ্রদ কাজ, মজবুতিকরণ ও সাইন-সিগন্যাল স্থাপনের মেগা সংস্কার কাজ খুব দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন হলে অবসান ঘটবে এই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ।
|আরো খবর
সংবাদ প্রকাশের পরেই নড়েচড়ে বসলো কর্তৃপক্ষ
গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে এই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ’ পত্রিকায়। সংবাদটি প্রকাশের পর তা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন ‘চাঁদপুর কণ্ঠ ২৪’ ফেসবুক পেজে একটি সচিত্র ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সচিত্র প্রতিবেদনটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরে আসে। গণমাধ্যমের এই শক্তিশালী ভূমিকার প্রেক্ষিতেই সড়ক বিভাগ অতি দ্রুত এ সড়কটি সংস্কার ও প্রয়োজনীয় কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
চলমান বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব, কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শুরুর বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান জানান, তারা চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ফেসবুক পেজের সচিত্র সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেন। তিনি বলেন, আমরা সংবাদটি দেখেছি এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে খুব দ্রুত অর্থাৎ আগামী ক'দিনের মধ্যেই এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। মূলত চলমান বৃষ্টির কারণে কাজটি শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সড়কটির কার্পেটিং অত্যন্ত মানসম্মত ও সুন্দরভাবে করা হবে। একই সাথে সড়কে থাকা প্রায় ১৩টি স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) বিশেষ রঙে রাঙানো হবে, যেন রাতে, সকালে কিংবা যে কোনো সময় চালকরা দূর থেকে তা সহজে দেখতে পারেন এবং दुर्घटना এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রকল্পে যা যা থাকছে :
জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে ক'টি বিশেষ দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তা হলো--
মানসম্মত কার্পেটিং : সম্পূর্ণ ১৯ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং নতুন ও টেকসইভাবে করা হবে। মজবুতিকরণ ও রক্ষাপ্রদ কাজ : সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রয়োজনীয় মজবুতিকরণ ও সুরক্ষামূলক (রক্ষাপ্রদ) কাজ করা হবে। সাইন-সিগন্যাল ও স্পিড ব্রেকার রং : সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৩টি স্পিড ব্রেকার রিফ্লেক্টিভ রঙে রাঙানোসহ আধুনিক সাইন-সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে আসবে গতি : বাগাদী চৌরাস্তা থেকে ফরিদগঞ্জ বাজার হয়ে যাওয়া এই সড়কটি মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চাঁদপুর থেকে ফরিদগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা এবং বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে যাতায়াত করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করছেন, সড়কটির আধুনিক সংস্কার সম্পন্ন হলে কেবল যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে। পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও চাঙ্গা হবে। সড়কটি যেন সবসময় চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ থাকে, সেজন্যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে বলে জানা গেছে। ডিসিকে/ এমজেডএইচ








