মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টারের অবদানের মূল্যায়ন চাই

অনলাইন ডেস্ক
মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টারের অবদানের মূল্যায়ন চাই

মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, ঢাকা কলাবাগান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ও খতিব এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ওলামা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মরহুম মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টারের শিক্ষা, কর্মজীবন ও আদর্শ আজও তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি জীবন থেকে অবসরগ্রহণের সময় তিনি তাঁর কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনাও পাননি। তাঁদের অভিযোগ, সে সময় ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির তৎকালীন সভাপতি শহীদুল্লাহ মাস্টারের উদ্যোগে কোনো বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের বড়ো ছেলে ও আরেক সন্তান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রাজনৈতিক কারণে এমনটি ঘটেছিলো বলে তারা মনে করেন। পরিবার আরও জানায়, যে ৮৪নং আমুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মরহুম মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই বিদ্যালয়ের এসএমসি বা স্থানীয় উদ্যোগেও তাঁর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতার নামও যথাযথভাবে সংরক্ষিত নেই বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব বিষয়ে পরিবারের কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানান তাঁর সন্তানরা। তাঁদের ভাষ্য, মরহুম মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টার সবসময় বলতেন, “এই পৃথিবীতে কোনো কিছু পাওয়ার আশায় কাজ করবে না। যা করবে একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টির জন্যে এবং পরকালের কল্যাণের উদ্দেশ্যে করবে। দুনিয়ার সম্মান-অসম্মান ক্ষণস্থায়ী। মাটির মানুষ মাটি হয়েই থাকবে—চেষ্টা করবে যেন মাটি হয়েই আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে পারো।” পরিবারের মতে, এই আদর্শ ও শিক্ষাই তাঁদের সবচেয়ে বড়ো উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা।

মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টার মতলব উত্তরের প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব যে ছিলেন, গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উপরোল্লিখিত বিবরণটি পড়ে তাঁর প্রতি দেখানো অসম্মান ও অবমূল্যায়নে সংবেদনশীল, বিবেকবান পাঠকমাত্রই ব্যথিত না হয়ে পারেন না। আমরা মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টার সম্পর্কে ভালো করে জেনে মরণোত্তর যথার্থ মূল্যায়নে তাঁর জন্যে কী কী করা যায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়ার জন্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। মাওলানা জহিরুল ইসলাম মাস্টারের জন্যে অন্তত স্মরণ সভা, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিদ্যালয়ে তাঁর নাম সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং পরিবারকে স্মারকরূপে কিছু দিয়ে সম্মানিত করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়