প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০
ব্রিজটি মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

মতলব পৌরসভার বোয়ালিয়া-মতলব সড়কের জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেছে। এতে নলুয়া, উপাদী, বহরী ও শান্তিনগরসহ ৫-৭টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঈদমুখী বাজারে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মতলব সদর থেকে উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বোয়ালিয়া বাজার সংলগ্ন এই ব্রিজটি গত কয়েক বছর ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিলো। সোমবার (৩ মার্চ ২০২৬) রাতে ব্রিজের বড়ো একটি অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন, মাহিন ও ফয়সাল আহমেদসহ অনেকে বলেন, আমাদের এলাকায় দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজার ও ডাকঘরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে এই ব্রিজটি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কের এই ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় কলেজ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা দারুণ সমস্যায় পড়েছেন। এটি দ্রুত মেরামত করা জরুরি। বহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বোয়ালিয়া বাজারের পশ্চিম দিকের এই ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী ছিলো। সোমবার রাতে ব্রিজের মাঝখানের অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনস্বার্থে ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারে আমরা পৌর প্রশাসক ও এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে এম ইশমাম বলেন, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়েছি। জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতলব-বোয়ালিয়া সড়কে বিদ্যমান একটি ভালো ব্রিজ কিন্তু হঠাৎ ভেঙ্গে যায় নি। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকা ব্রিজটিরই বড়ো অংশ সোমবার রাতে ভেঙ্গে পড়েছে। পৌরসভা কিংবা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এ ব্যাপারে বহু আগেই ব্যবস্থাগ্রহণ করাটা অতি আবশ্যক ছিলো। সে আবশ্যকতা বোধ না করায় এখন যে ‘সময়ের এক ফোঁড়ের চেয়ে অসময়ের দশ ফোঁড়ে’র ন্যায় অর্থ যেমন বেশি খরচ হবে, তেমনি সময়ও বেশি ব্যয় হবে-এটা স্বাভাবিক ধারণা। এ ধারণার বিপরীতে দ্রুত কিছু করাটাই চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সফল হোক-এটা ভুক্তভোগী মাত্রই প্রত্যাশা করে। তার বাইরে যে কথা সেটা হচ্ছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা ছিলেন বা আছেন, তারা কি ব্রিজটির জরাজীর্ণতা নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে সময়মত কিছু জানিয়েছিলেন লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে? এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা সচেতন ছিলেন, তাদের মধ্যে ব্রিজটির জরাজীর্ণতার প্রেক্ষিতে আবেদন-নিবেদন জানানোসহ দৃশ্যমান কিছু করার তাগিদ কি অনুভূত হয় নি? ভাগ্যিস, শুষ্ক মৌসুম চলছে। বর্ষাকাল হলে তো এ ব্রিজ ভাঙ্গা নিয়ে বড়ো অঘটন ও দুর্যোগ ঘটে যেতে পারতো। বস্তুত জনপ্রতিনিধি ও জনগণ সচেতন না হলে কোনো এলাকারই সমস্যার সমাধান সহজে সম্ভব হয় না। তবে ভোগান্তিটা নিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।





