প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১১
ফরিদগঞ্জে বিএনপি নেতৃত্বহীন থাকলে এমনটি তো চলতেই থাকবে

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে মেলার মতো বসানো অস্থায়ী দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দু গ্রুপের কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে এক গ্রুপ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র এমপির সমর্থক এবং অপর গ্রুপ ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের বেপারী বাজার সংলগ্ন সন্তোষপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্তোষপুর দরবার শরীফের বার্ষিক ইছালে সওয়াব উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সন্তোষপুর দরবার শরীফ এলাকায় মেলার মতো ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। ওই দোকানগুলো থেকে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও স্বতন্ত্র এমপির সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে বিএনপি সমর্থক আলম বেপারী, রাজু বেপারী, রিয়াজ বেপারী ও রুবেল বেপারী আহত হন। আহতদের মধ্যে আলম বেপারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ও অন্যরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। আহতরা জানান, স্বতন্ত্র এমপির সমর্থক আলী আকবর তাদের লোকজনসহ এই হামলা চালায় তাদের ওপর। ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আহত ব্যক্তিদেরকে চিকিৎসার জন্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ফরিদগঞ্জে চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ন হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সকল কমিটি স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার বিপরীতে ফরিদগঞ্জ বিএনপির হাল ধরার জন্যে কাউকে এখনও দায়িত্ব দেয়া হয় নি। যার ফলে একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা সদরস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতি এবং সোমবার রাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। আরো ঘটনা যে ঘটবে না সেটা গ্যারান্টি দিয়ে কেউ বলতে পারবে না। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় বিএনপি কিংবা জেলা বিএনপির কোনো করণীয় দ্রুতই সম্পাদন করা বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী তথা বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছে, আর বিএনপি প্রার্থী হেরেছে। এতে বিএনপি তো বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। ফরিদগঞ্জের বিএনপিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে কাউকে না কাউকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্বিত পদক্ষেপ কেবলই আত্মঘাতী, দলের জন্যে ক্ষতিকর বলেই প্রমাণিত হতে থাকবে বলে আমাদের ধারণা।




