বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৯:২৪

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

চাঁদপুর কণ্ঠ ডেস্ক :
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

চাঁদপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন (বানিপা)-এর উদ্যোগে “জলবায়ু সংকট ও নিরাপদ পানির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের করণীয় ও টেকসই সমাধান” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নদী ও জলাশয় দূষণ, বন্যা, খরা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. ওয়াহেদ

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে নদী ও জলাশয় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। উন্নত বিশ্বের পরিবেশ দূষণকারী শিল্প ধীরে ধীরে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যা দেশের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। তিনি কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পানির অপচয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো: আব্দুল মুঈদ। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)-এর বৈশ্বিক ও জাতীয় তথ্য তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের আওতায় রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে আর্সেনিক দূষণ, জীবাণুযুক্ত সংরক্ষিত পানি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা নিরাপদ পানির সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এখন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ড. প্রকৌশলী মো: আবুল কাসেম, ড. মো: নাইম হোসেন, প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ এবং আকলিমা খাতুন। বক্তারা ওয়াসাসহ সকল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। আন্তর্জাতিক সংস্থা CMN Digylearn Sdn. Bhd.-এর সিইও মো. নূর বিন মো. তাহির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরিবেশ দূষণ ও পানির অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সেমিনারের মূল সুপারিশসমূহ:

  • শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য শোধন (ETP) বাধ্যতামূলক করা এবং নদী দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা।
  • ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী ও পৃষ্ঠের পানির (Surface Water) ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
  • গ্রাম ও শহরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
  • জলবায়ু সহনশীল পানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষিতে পানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
  • আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল একটি নিরাপদ, সুস্থ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়