শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২২

একটাই পৃথিবী, একটাই সুযোগ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অতীত, বর্তমান ও আমাদের করণীয়

তৌফিক সুলতান
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অতীত, বর্তমান ও আমাদের করণীয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পালনীয় দিন নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ১৯৭২ সালের ৫ জুন সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘মানব পরিবেশ সম্মেলন’-এর স্মরণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে বেছে নেয়। পরের বছর, ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো ‘একটাই পৃথিবী’ স্লোগান নিয়ে দিবসটি পালিত হয়। বর্তমানে ১৪৩টিরও বেশি দেশ প্রতি বছর এই দিবসে অংশগ্রহণ করে, যা একে পরিণত করেছে বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশবাদী প্ল্যাটফর্মে।

ইতিহাসের পটভূমি : স্টকহোম থেকে বর্তমান

স্টকহোম সম্মেলনের সবচেয়ে বড়ো অর্জন ছিলো জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (টঘঊচ)-এর প্রতিষ্ঠা। এই সংস্থাই বৈশ্বিক পরিবেশ নীতি নির্ধারণ ও সমন্বয়ের কাজ করে থাকে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের সাথে পরিবেশ রক্ষার সম্পর্ক তুলে ধরেন, যা আজও উন্নয়নশীল বিশ্বের বক্তব্যের ভিত্তি।

হোস্ট কান্ট্রি ও থিমের কৌশলগত গুরুত্ব

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতি বছর ভিন্ন কোনো দেশ স্বাগতিকের দায়িত্ব পালন করে। যেমন ২০২৩ সালে আয়োজক ছিলো কোট ডি’আইভরি (আইভরি কোস্ট) এবং থিম ছিলো ‘প্লাস্টিক দূষণের সমাধান’ ; ২০২৪ সালে সৌদি আরব আয়োজক হিসেবে ‘ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ প্রতিরোধ ও খরা সহনশীলতা’ প্রতিপাদ্যে জোর দেয়। প্রতিবছরের এই থিম নির্ধারিত হয় বৈশ্বিক সংকটের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষিত : পলিথিন নিষিদ্ধের সাহসী ইতিহাস

বাংলাদেশের জন্যে দিবসটি গর্বের। ২০০২ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে কেনিয়া, রুয়ান্ডাসহ ৬০টিরও বেশি দেশ অনুসরণ করে। বর্তমানে দিবসটি উপলক্ষে বন অধিদপ্তর, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান’-এর উদ্বোধন করে, যা দেশের বনায়ন কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি।

তথ্য-পরিসংখ্যানে বাস্তবতা

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মাত্র ৯ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হয়। আবার, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, পরিবেশ রক্ষা আজ আর বিলাসিতা নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন।

করণীয় : স্বতন্ত্র উদ্যোগ থেকে যৌথ আন্দোলন

দিনটি শুধু সেমিনার বা গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘বৃত্তাকার অর্থনীতি’ গ্রহণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন, বার্ষিক ‘আর্থ আওয়ার’-এর মতো ব্যক্তিগত কার্বন পদচিহ্ন হ্রাস এবং সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ--এই ত্রিমুখী পথই পারে একটি টেকসই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবী আমাদের একমাত্র ঠিকানা, একে বাসযোগ্য রাখার দায় সম্মিলিত।

তৌফিক সুলতান : প্রভাষক, ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ (বি জে এস এম মডেল কলেজ) মনোহরদী, নরসিংদী।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়েল্ফশন মানবকল্যাণ সংঘ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়