প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৪
চাঁদপুরের নতুন অভিভাবক আহমেদ জিয়াউর রহমান!
----------যার ঝুলিতে আছে ‘শুদ্ধাচার পদক’ ও বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রি

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। আজ রোববার (২৯ মার্চ, ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আহমেদ জিয়াউর রহমান-কে চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমান জেলা প্রশাসকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
|আরো খবর
মেধাবী শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ আহমেদ জিয়াউর রহমান বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের একজন অত্যন্ত চৌকস কর্মকর্তা। তার শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল সাফল্যে মোড়ানো। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মেধার ভিত্তিতে সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিদেশ (অস্ট্রেলিয়া/যুক্তরাজ্য) থেকে পাবলিক পলিসি ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে উচ্চতর মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রশিক্ষণ তাকে আধুনিক ও জনবান্ধব প্রশাসন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলেছে।
কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতার ব্যাপ্তি চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ-এ উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে তার বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।
অর্জিত বিশেষ পদক ও সম্মাননা প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে সততা ও উদ্ভাবনী কর্মতৎপরতার জন্য তিনি একাধিক জাতীয় ও বিভাগীয় পদক অর্জন করেছেন:
জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার (Integrity Award): দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির জন্য তিনি এই সম্মানজনক পদক লাভ করেন।
ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড: সরকারি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ পদক পেয়েছেন।
বিশেষ স্বীকৃতি: করোনাকালীন সংকট মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাহসিকতাপূর্ণ ও মানবিক ভূমিকার জন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
চাঁদপুর নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ ও নাগরিক প্রত্যাশা নদীবিধৌত ও ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরে নতুন জেলা প্রশাসকের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে:
১. মেঘনার অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করা।
২. মা ইলিশ ও জাটকা নিধন রোধে কঠোর তদারকি।
৩. যানজট নিরসন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন।
৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
একজন অভিজ্ঞ, উচ্চশিক্ষিত ও পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আহমেদ জিয়াউর রহমান চাঁদপুরের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জেলার সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জন্য প্রশাসন উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তিনি আপসহীন থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








