প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২১:৪২
রূপসায় সরকারি সম্পত্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

বহুতল ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করেই সরকারি সম্পত্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কয়েকশো গজের মধ্যে গত ক'মাস ধরেই ভবন নির্মাণ চলমান রয়েছে। এদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরকারি সম্পত্তিতে ভবন করার ঘটনায় উচ্ছেদের নোটিস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।
|আরো খবর
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ৫ তলা এ ভবনটির কারণে প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনটি করতে কয়েক দফা গোপন সমঝোতা হয়েছে। যাতে রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের লোকও জড়িত।
জানা যায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশো গজ দূরে প্রকাশ্যে রূপসা বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ কাজ করছে খোকন দেবনাথ নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ী। এর আগে দেবনাথ ফার্মেসী নামে একটি দোকান থাকলেও সরকারি সম্পত্তির ওপর ওই দোকানের সাথে সংযুক্ত করে ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন ওই ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ১৪০নং রূপসা মৌজার ১নং খতিয়ানে ৩২৪২ দাগে সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন এই খাস সম্পত্তি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্যে খোকন দেবনাথ ও তার স্ত্রী পৃথকভাবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা সরজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি সম্পত্তি ছাড়া নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিতে আবেদনকারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্যে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সরকারের বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে খোকন দেবনাথ সরকারি মালিকানাধীন খাস জমি দখল করে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ক'জন বাসিন্দা প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবনটি নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করা হয়নি, পাইলিং করা হয়নি। ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়া হয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। গোপন সমাঝোতা ব্যতীত ভূমি কার্যালয়ের পাশে সরকারি সম্পত্তিতে এতো বড়ো বিল্ডিং কীভাবে নির্মাণ হচ্ছে? স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে গোপন সমঝোতা না থাকলে এভাবে ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। তড়িঘড়ি করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে বা ভূমিকম্পের কারণে যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড়ো ধরনের প্রাণহানি হতে পারে।
দোকান নির্মাণকারী খোকন দেবনাথ বলেন, এখানে আমি এক শতাংশ সম্পত্তি ক্রয়মূলে মালিক হয়েছি। আগেরও আমার একটি দোকান রয়েছে, তার সাথে সংযোজন করে এখন ভবন নির্মাণ করছি। বহুতল ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সয়েল টেস্ট করিনি ঠিক, তবে অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি দিয়ে কাজ করছি। সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপসা উত্তর ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে নিমাণাধীন ভবনের মালিক খোকন দেবনাথকে একাধিকার নিষেধ করলেও তিনি কর্ণপাত করেন নি। সরকারি ভূমিতে নির্মাণাধীন অবকাঠামো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৩৪নং স্মারক মূলে আবেদন পাঠিয়েছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান বুধবার (৬ মে ২০২৬) জানান, খোকন দেবনাথ আবেদন করেন সরকারি খাস জমির পাশে পূর্বের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মেরামত করা প্রয়োজন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা মাপ জরিপ করে খোকন দেবনাথের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে কাজ করার জন্যে অনুমতি দিয়েছি। সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি যে, তিনি সরকারি সম্পত্তি (খাস জমি) দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন, একই সাথে পাকা ভবন নির্মাণ আইন উপেক্ষা করে কাজ করছেন। সরকারি সম্পত্তিতে দখলকৃত স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে এসি-ল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছি সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্যে। ইতোমধ্যেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করেছি।







