প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫৬
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে চাঁদপুরে র্যালি, মেলা ও সেমিনার
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করা
-------------- সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে র্যালি, মেলার উদ্বোধন, প্যানেল আইনজীবীদের পুরস্কার বিতরণ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
'সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্য নিয়ে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমর ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল পৌনে ৯টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি শুরু হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার। র্যালিটি জেলা জজ আদালতের সামনে থেকে বের হয়ে চক্ষু হাসপাতালের সামনে গিয়ে ঘুরে পুনরায় জেলা জজ আদালতে এসে শেষ হয়। র্যালিশেষে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজসহ অতিথিরা মেলা পরিদর্শন করেন ও সেমিনারে অংশ নেন।
সেমিনার অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার বলেন, সরকারি খরচে অসহায় লোকদের বিচারিক সহায়তা দেওয়া হয়—এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে। আইনি সহায়তার বাস্তবিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রার্থীকে পরামর্শ দেওয়া, বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আপস- নিষ্পত্তি করা সম্ভব—এসব বিষয় সম্পর্কে আরও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। মূলত অসহায় বিচারপ্রার্থীদের এসব বিষয় ব্যাপকভাবে জানানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থায় চাঁদপুরে যারা জড়িত রয়েছেন, তারা স্থানীয়ভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে এসব সুবিধার কথা অসহায় বিচারপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। আশা করি, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সরকারের এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো, তা আজ অনেকাংশে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীত করায় কার্যক্রমের পরিসর বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রমর মূল লক্ষ্য হচ্ছে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করা। এখন শুধু মামলা পরিচালনা নয়, বরং আইনগত পরামর্শ প্রদান, কাউন্সেলিং এবং বিচারপূর্ব পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ ন্যায়বিচার পাওয়া এবং আইনের আশ্রয় লাভ করা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও অনেক সময় সাধারণ মানুষ আইনি জ্ঞান ও দিকনির্দেশনার অভাবে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
সভাপতি বলেন, অনেকেই আদালত সম্পর্কে ভীতি বা ভুল ধারণা পোষণ করেন। তারা মনে করেন, আদালতে গেলে সময় বেশি লাগবে এবং ব্যয় বহন করা কঠিন হবে। এই ধারণা দূর করতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে, যাতে মানুষ জানতে পারে যে, সরকারিভাবে তারা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ পেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব।
তিনি সকলকে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, কেউ আইনি সমস্যায় পড়লে লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, কাউন্সেলিং ও সহযোগিতা প্রদান করা হয়। নতুন আইনের ফলে এসব সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সিভিল জজ ও চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আব্দুল আলীম।

ক্যাপশন: জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চাঁদপুরের আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উজালা রানী চাকমা, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসানসহ অতিথিরা।
জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সিনিয়র সিভিল জজ শম্পা ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ল্যান্ড সার্ভেয়ার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) শরাফ উদ্দিন আহমেদ, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাকির হোসেন ফয়সাল, জেলা জজ আদালতের জিপি অ্যাড. এ জেড রফিকুল হাসান রীপন, পিপি অ্যাড. কোহিনূর রশিদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী রেহানা ইয়াসমিন কচি, অ্যাড. নুরুল হক কমল, আইনগত সহায়তা ও উপকারভোগী মাহমুদা বেগম, ইয়াসমিন বেগম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী হিসেবে রেহানা ইয়াসমিন কচি ও অ্যাড. নুরুল হক কমলকে অতিথিরা ক্রেস্ট ও ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের বিচারক, প্যানেল আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








