প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৭
অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় শ্রীঘরে

চলন বলনে জমিদারি ভাব, কথাবার্তা আচার আচারণেও ফুটে উঠে আভিজাত্যের পরিচয়, কিন্তু বাস্তবে সে প্রতারক। এনজিও, প্রাইভেট বিভিন্ন সংস্থা যেখান থেকেই পেরেছেন সুযোগ বুঝে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যুবকদের প্রবাসে পাঠানোর কথা বলে হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিবেশী, স্বজন যার সাথেই সুসম্পর্ক ছিলো, তাদের সাথেই প্রতারণা করে প্রায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে এই প্রতারক মমতাজ বেগম পারুল (৪০)-এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ৮২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মমতাজ বেগম পারুলকে গ্রেপ্তার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। সে ওই গ্রামের মুন্সি বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। পরে তাকে রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
|আরো খবর
ভুক্তভোগী ও স্কুল শিক্ষিকা শাহানাজ বেগম পিনু আক্তার জানান, গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় জমি কিনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৮২ লাখ টাকা নেয় মমতাজ বেগম পারুল। এক পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হলে বিগত ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘদিন শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালে আদালত তাকে টাকা পরিশোধ করার রায় দেয়। আদালত থেকে দু মাসের সময় নিয়ে মমতাজ টালবাহানা করতে থাকে। অবশেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতারণার শিকার তাছলিমা বেগম নামে এক নারী জানান, তাকে গাব্দেরগাঁও এলাকায় ১৭ শতক জমি কিনে দেবে বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৩০হাজার টাকা নিয়েছে মমতাজ বেগম পারুল। শুধু তাই নয়, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আমার ব্যবহৃত প্রায় ১৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলার ফাতেমা বেগম জানান, আমিও পারুল কর্তৃক প্রতারণার শিকার। আমাকে জমি কিনে দেবে বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছে। এছাড়া বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আমার ব্যবহৃত প্রায় ৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
কড়ৈতলী এলাকার ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ২০১২ সালে আমার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। সেই টাকা আজ-কাল ফেরত দেই-দিচ্ছি বলে আমাকে হয়রানি করছে।
পূর্ব বড়ালি এলাকার হাজেরা বেগম জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না মমতাজ। এ ব্যাপারে তিনিও মামলা দায়ের করেছেন।
কালির বাজার এলাকার জেসমিন বেগম জানান, আমার সাথে সখ্যতা গড়ে ২০২৩ সালে ৮২ হাজার টাকা ধার নিয়ে দেই দিচ্ছি করে অদ্যাবধি দিচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফার্মেসির মালিক কিরণ জানান, পরিচয়ের সূত্র ধরে আমার নামে একটি এনজিও থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ঐ টাকা আজও পরিশোধ করছে না। এছাড়া আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত প্রায় ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে মততাজ বেগম পারুলকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়ছে।








