প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৮
বাগাদীতে সম্পত্তি রক্ষার্থে আদালতে মামলা
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গ্রামে সম্পত্তি রক্ষার্থে সামিয়া আক্তার নামে এক নারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চাঁদপুরে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাগাদী গ্রামের মান্নান পাটোয়ারীর মেয়ে সামিয়া আক্তার বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন তার আপন ভাই মোশারেফ হোসেন ও রাকিব হোসেন (উভয়ের পিতা মান্নান পাটোয়ারী)। অপর আসামি হলেন মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ও শাখা প্রধান, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চাঁদপুর শাখা।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলা এলাকার হাল ১০৭নং বাগাদী মৌজার বিএস ২০৩নং খতিয়ানভুক্ত জমির মধ্যে ১ আনা হিস্যায় মোট ১.৩৬ একর ভূমির আ. আজিজ পাটোয়ারী ৪.৫ হিস্যায় মোট ০.৬১২০ একর এবং অজুফা খাতুন ২.২৫ হিস্যায় মোট ০.৩০৬০ একর—এই দুজন মিলিয়ে মোট ০.৯১৮০ একর ভূমির মালিক ও দখলকার ছিলেন। মৃত্যুকালে তারা তিন পুত্র আ. মতিন পাটোয়ারী, আ. মান্নান পাটোয়ারী ও আ. হান্নান পাটোয়ারী এবং তিন কন্যা তাজু বেগম ও আমেনা বেগমকে ওয়ারিশ রেখে যান। প্রত্যেক পুত্র পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ০.২০৪০ একর এবং প্রত্যেক কন্যা ০.১০২০ একর ভূমির মালিক ও দখলকার হন।
বর্ণিত আ. মান্নান পাটোয়ারী পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ০.২০৪০ একর ভূমির মালিক ও দখলকার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকালে তিনি দু পুত্র মোশারেফ হোসেন ও রাকিব হোসেন, দু কন্যা সামিয়া আক্তার ও রাবেয়া আক্তার এবং স্ত্রী জরিনা বেগমকে ওয়ারিশ রেখে যান। এতে প্রত্যেক পুত্র ০.০৫৯৫ একর, প্রত্যেক কন্যা ০.০২৯৮ একর এবং স্ত্রী ০.০২৫৫ একর ভূমির মালিক ও দখলকার হয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন।
সামিয়া আক্তার তার ০.০২৯৮ একর ভূমির মালিক হয়ে বোনের অংশসহ একাই মোট ০.০৫৯৬ একরসহ কতিপয় সম্পত্তি ভোগদখল করে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। মামলার ১ ও ২নং প্রতিপক্ষ মিথ্যা ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে ৩নং প্রতিপক্ষের প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে নালিশি ভূমি বন্ধক রাখেন। পরবর্তীকালে ৩নং প্রতিপক্ষের প্রতিষ্ঠান সামিয়ার ভূমি নিলামের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বেআইনিভাবে বিক্রির ঘোষণা দিলে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
প্রার্থী নালিশি ভূমি ভোগদখলে থাকাবস্থায় প্রতিপক্ষগণ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রার্থীর মালিকানাধীন ও দখলীয় তফসিল বর্ণিত নালিশি ভূমি থেকে বেদখল করার পাঁয়তারা করে এবং উক্ত ভূমি বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। নালিশি ভূমিতে প্রতিপক্ষদের কোনো মালিকানা বা দখল নেই। তারা দখলহীন তৃতীয় ব্যক্তি হয়েও উক্ত সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রির হুমকি দিয়ে আসছে।
গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সামিয়াকে একা পেয়ে তার দখলকৃত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করলে তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। উক্ত সম্পত্তি থেকে সামিয়াকে বেদখল করা এবং টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করা হয়।
নালিশি ভূমির হাল ৬২৯ দাগে মোট ০.০৭ একর জমি রয়েছে। যার উত্তরে মতিন পাটোয়ারী, দক্ষিণে এজমালি পুকুর, পশ্চিমে নুরুল আমিন এবং পূর্বে হারুন পাটোয়ারী।








