প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০
জেলাব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার নামে নৈরাজ্য
লাইসেন্সহীন ক্লিনিক ও ভুয়া শেয়ার ব্যবসায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা

চাঁদপুর জেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলোর অধিকাংশেরই নেই লাইসেন্স। আবার লাইসেন্স থাকলেও শর্তের ২০ শতাংশও বাস্তবে নেই। নেই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ নার্স, নেই ডিগ্রিধারী প্যাথলজিস্ট। ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে নেই। অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এসব নিয়ে কোনো মাথা ঘামাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে বছরের পর বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী হচ্ছে নিরীহ জনগণ।
|আরো খবর
কাগজপত্র ও লাইসেন্সহীন পরিচালনা : অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক/ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ক্লিয়ারেন্স ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থার ন্যূনতম উপস্থিতি ছাড়াই তারা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে অবাধে চলছে এদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট : হাসপাতাল/ক্লিনিকগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি ডাক্তারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও বাস্তবে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক পাওয়া যায় না। জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের সামলাচ্ছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অপেশাদার ও অপ্রশিক্ষিত কর্মীরা। একইভাবে প্যাথলজির পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিভাগে নেই কোনো অভিজ্ঞ বা সনদপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান। ফলে ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের, যার মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে।
শেয়ার বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ : লাইসেন্সহীনতা ও অব্যবস্থাপনার বাইরেও অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ। হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলে শেয়ার বিক্রির নামে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অসাধু চক্র। পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরত না দিয়ে চলছে টালবাহানা। এসব নিয়ে নিয়মিতভাবে বসছে সালিস ও দেন-দরবার; তবে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
প্রশাসনের নীরবতা ও ভুক্তভোগীদের দাবি: অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও সময়ে-সময়ে লোকদেখানো অভিযানের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী চক্রগুলো পার পেয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, অসাধু চক্রটির খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলাজুড়ে পরিচালিত এসব ভুয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনা করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরের সচেতন নাগরিকরা। একই সাথে ভুয়া শেয়ার বিক্রির প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি উঠেছে।
এসব বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। যেটুকু জনবল রয়েছে, সেটুকু দিয়েই আমরা সক্ষমতা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।"
ডিসিকে /এমজেডএইচ








