শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬

কোন রাত সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত নাকি ক্বদরের রাত?

মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী
কোন রাত সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত নাকি ক্বদরের রাত?

বিশ্ব বিখ্যাত ফকীহ ইমাম তাহাবী (র.) ইমাম শাওয়াফে (র.)-এর কওল নকল করে লিখেন-‘‘নিশ্চয়ই ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম রাত হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এঁর রাত্রি বা রাসূলুল্লাহ (দ.) এঁর শুভাগমনের রাত্র (১২ রবিউল আউয়াল), তারপর হলো শব-ই-কদরের রাত্রি।’’

আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৪২৬ পৃ : মারকাযে আহলে সুন্নাহ বি বারকাতে রেযা, গুজরাট হতে প্রকাশিত। হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ইমাম হযরত ইমাম তাহাবী (র.) (২২৯- ৩২১ হিজরী) তিনি বলেছেন,

অর্থ: রাতসমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছে-পবিত্র মীলাদুন্নবী (দ.) এর রাত, অতঃপর লাইলাতুল কদরের রাত, অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত, অতঃপর আরাফার রাত, অতঃপর জুমুয়ার রাত, অতঃপর ১৫ শাবানের রাত, অতঃপর দুই ঈদের রাত।”

তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৯/ ১৯৪, সূরা ক্বদরের তাফসীরে। ইমাম শিহাবুদ্দিন আল কাস্তালানী (র.) [৮৫১-৯২৩ হিঃ] বলেন-

”রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর বেলাদত তথা এ ধরণীতে শুভাগমন রাতে হয়েছে বলা হলে প্রশ্ন দাঁড়ায় যে- দুটো রাতের মধ্যে কোনটি বেশি মর্যাদাসম্পন্ন - কদরের রাত (যা’তে কুরআন অবতীর্ণ হয়), নাকি রাসূলুল্লাহ (দ.)-এর ধরাধামে শুভাগমনের রাত? রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর বেলাদতের রাত এ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতর ৩টি কারণে। তা হলো- ১) নবী করীম (দ.) এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন মওলিদের রাতে, অথচ কদরের রাত (পরবর্তীকালে) তাঁকে মঞ্জুর করা হয়। অতএব, মহানবী (দ.)-এঁর আবির্ভাব, তাঁকে যা মঞ্জুর করা হয়েছে তার চেয়েও শ্রেয়তর। তাই মওলিদের রাত অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন।

২) কদরের রাত যদি ফেরেশতাদের অবতীর্ণ হবার কারণে মর্যাদাসম্পন্ন হয়, তাহলে মওলিদের রাত মহানবী (দ.) এ ধরণীতে প্রেরিত হবার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। রাসূলুল্লাহ (দ.) ফেরেশতাদের চেয়েও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, আর তাই মওলিদের রাতই শ্রেষ্ঠতর।

৩) কদরের রাতের বদৌলতে উম্মতে মোহাম্মদীকে বিশিষ্টতা দেয়া হয়েছে; অথচ মওলিদের রাতের মাধ্যমে সকল সৃষ্টিকে ফযিলাহ দেয়া হয়েছে। কেননা, মহানবী (দ.)-কে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্যে রহমত করে পাঠানো হয়েছে (আল-কুরআন ২১:১০৭)। অতএব, এই রহমত সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্যে সার্বিক।”

ইমাম কুস্তালানী : ‘আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া’, ১ম খণ্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা, ইমাম যুরকানী মালেকী : শরহে মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া’, ১ম খণ্ড, ২৫৫-২৫৬ পৃষ্ঠা।

উস্তাদুল মুহাদ্দিসিন ইমাম আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (৯৫৮-১০৫২ হিঃ) বলেন, “মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত্রি শবে কদর হতে যে উত্তম তাতে সন্দেহের অবকাশ মাত্র নেই। কেননা মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত হলো আল্লাহর হাবিব (দ.) এঁর দুনিয়াতে আবির্ভূত হওয়ার রাত্রি, আর শবে ক্বদর হুজুর (দ.) কে আল্লাহ তা’য়ালা দান করেছেন।

ইমাম আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীঃ মাসাবাতা বিস সুন্নাহঃ ৭৭/৭৮ পৃষ্ঠা। হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (র.) [১১৯৮-১২৫২ হিঃ] বর্ননা করেন, অর্থ: রাত সমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছে :- পবিত্র মীলাদুন্নবী (দ.) এর রাত, - অতঃপর লাইলাতুল কদরের রাত, অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত, অতঃপর আরাফার রাত, অতঃপর জুমুয়ার রাত, অতঃপর ১৫ শাবানের রাত, অতঃপর ঈদের রাত।”

ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (র.) : রদ্দুল মুহতার আলা আল দুররুল মুখতার (হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব) : ৮/২৮৫ (শামেলা) , পুরাতন ছাপা ৫০৫ পৃষ্ঠা। ইমাম ইউসূফ নাবহানী (র.) উল্লেখ করেন, বিশ্ব বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা তাহাবী (র.) ইমাম শাফেঈ (র.) এর কওল নকল করে বলেন, “নিশ্চয়ই ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম রাত হলো- ১) রাসূল (দ.) এর জন্মদিনের রাত্র অর্থাৎ মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত্র (১২ রবিউল আউয়াল), ২) তারপর হলো শবে-ই-কদরের রাত্র। ৩) তারপর হলো মিরাজের রাত্র (২৭ শে রজব) ৪) তারপর উত্তম রাত্র হলাে লাইলাতুল আরাফা (৯ই জিলহজ্জ) ৫) তারপর হলাে জুমার রাত্র

৬) তারপর হলাে ১৫ই শাবানের রাত্র (শবে বরাত) এবং ৭) তারপর দুই ঈদের রাত্র।

শায়খ ইউসুফ নাবহানীঃ জাওয়াহিরুল বিহারঃ ৩/৪২৬ পৃ:। ইমাম শায়খ ইউসুফ বিন ইসমাঈল নাবহানী (র.) লিখেন-

-‘‘শবে ক্বদর হতে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর রাত উত্তম।’’আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী : আনওয়ারে মুহাম্মাদিয়াহ, ২৮পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।

খতিব : হযরত মাদ্দাহ খাঁ (র.) জামে মসজিদ, আলীগঞ্জ, হাজীগঞ্জ।

ত সেখানে ফিরিয়ে আনেন। অতঃপর তিনি দুই পা ধৌত করেন। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ১১৮) সূত্র : ঢাকা পোস্ট।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়