প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫
পাঠক ফোরামের কবিতা
আবু ইউসুফ
অদৃশ্য ক্ষত
তুমি ছিলে ফুলের নির্যাসে, দেখা যায় না, শুধু গন্ধে টের পাই।
ভেবেছি ছুঁয়েছি, হাত খুলে দেখি মুঠো ভর্তি শূন্যতা।
কখনো পুরো পাইনি,
পেয়েছি শুধু ছায়ার আভাস।
তুমি হেসেছ, আর ভেবেছি এই হাসি আমার জন্য।
এই ভুল বুঝা সুন্দর রহস্য।
আজ বুঝি, ফুল কারো হয় না, সে শুধু কিছুক্ষণ সুবাস দিয়ে ঝরে যায়।
তুমিও তাই, থাকলে না রেখে গেলে অদৃশ্য ক্ষত।
সেই ক্ষতে গন্ধ লেগে আছে, কেউ দেখে না শুধু পুড়ি।
লোকে জিজ্ঞেস করে, কী হারিয়েছ?
একটা গন্ধ, যার নাম নেই।
সেই নির্যাসটুকু বুকে নিয়ে ঘুরি,
যদি ফুলটা ফিরে আসে।
ফুলেরা ফিরে না, ফিরে আসে স্মৃতি।
সেই স্মৃতিতেই, প্রতিদিন একটু একটু করে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।
ছবি-২৩
আরিফুল ইসলাম শান্ত
কফিন
মোড়লদের নজরে
বুনো লতাগুল্মসহ
পুব হতে পশ্চিম সবই
ভ্রু কুঞ্চিত করলেই
বজ্রের মত-হামলে পড়ে
শ্বেতচামড়ার শুয়োর।
ঘড়ির কঁাটা হয়ে নিয়তি
লক্ষিন্দরের সুরক্ষিত-বাঙ্কারে
বিষ ঢালে-ফণাধর সাপ।
একটি লকলকে দড়ি ঝুলছে
লাল রুমালের অপেক্ষায়
বহুকালের ক্লান্তির ঘুম
নীরব কান্নার পদাঘাত।
সুসজ্জিত মঞ্চের অপেক্ষা
ট্রিগারে চাপলেই
নিভে যাবে-সমস্ত আলো
পরম মমতায় পেঁৗছে শেষ গৃহে।
কুয়াশার বুক চিরে
জেগে ওঠে নতুন চোখ
আরেকটি স্যঁাতসেঁতে কফিন।
ছবি-২৩
এম আর এম শোভন
পাপের পৃথিবী
শান্তির পৃথিবীতে অশান্তির পাপ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে,
জীবনের মানে কি বলোÑ
অন্ধকার আগুনের ছাপ।
না বুঝে কিংবা না জেনে,
পাপের পৃথিবীতে আমরা সবাই।
অসচেতনতার কালো ছায়ায়,
মানবতা আজ নীরবে হাসে।
লোভ-লালসার এই মোহজালে,
ভুল পথে আজ ছুটছে জীবন।
পাপের পসরা সাজিয়ে জগৎ,
হারিয়ে ফেলেছে আপন ভুবন।
সকল পাপের স্তূপ জমে আজ,
হৃদয় হয়েছে মলিন ও কালো।
পাপের অন্ধকারে পথ হারিয়ে,
কে ফিরিয়ে আনবে বলো আলো?
ছবি-২৩
মনির হোসেন খান
ছোট
আমি ছোট টাকায়Ñ হাতে নয়,
আমি ছোট পাতেÑ ভাতে নয়
আমি ছোট পাতায়Ñ খাতায় নয়।
আমি ছোট যোগ্যতায়Ñ ভব্যতায় নয়,
আমি ছোট আতেলেÑ আক্কেলে নয়।
আমি ছোট ওজনেÑ স্বজনে নয়,
আমি ছোট বস্তায়Ñ রাস্তায় নয়,
আমি ছোট হলুদেও লালেÑ সাদাতে নয়।
আমি ছোট পাল্লাতে মাল্লাতে
লম্বায় নয়।
আমি ছোট তোমাদের চোখেÑ
অন্যের মুখে নয়।
আমি ছোট, খুবই ছোট ধনেতে জনেতেÑ
মনেতে নয়।
ছবি-২৩
সামিরা মেহনাজ নুসরাত
বাস্তব বড় কঠিন
বাবার সিংহাসনে ছিলাম এতদিন দিব্বি খেয়ে বসে,
তাই অংকটা দেখিনি কখনো ভালোভাবে কষে।
মার কথায় করতাম পড়াশোনা
ঠিক সময়ে,
পড়াশোনা শেষ করতে গিয়ে হলাম
একদিন বড় যে।
বাবার সিংহাসন পেরিয়ে এলাম নিজের করিডোরে
বাস্তব যে এত কঠিন বুঝিনি তা আগে।
বাবার মুখে শুনতাম আগে
বাস্তব বড় কঠিন,
তাই বাস্তবকে ইচ্ছে হতো
দেখি প্রতিদিন।
বাস্তবের কাছে এসে সবই এলো মেলো,
বাস্তব যে এত কঠিন, এত দিনে তা জানা হলো।
ছবি-২৩
শাহিন খান
স্বাধীনতার নির্বাসন
পৃথিবী এখন পরিণত হচ্ছে ধ্বংসাত্মক আবহে,
সাইরেনের শব্দে ঘুম ভাঙে শেয়ালদের।
পৃথিবী এখন থমকে আছে আবদ্ধ গুহায়,
একদল শালিকছানা দীর্ঘকাল বন্দি।
আগামীর পৃথিবীতে নামবে রূক্ষ শিলাবৃষ্টি,
একদল হরিণী কিছুতেই নিজেকে শুষ্ক রাখতে পারবে না।
একমাত্র সেইসব মাংসাশী প্রাণী,
যারা প্রতিনিয়ত ভক্ষণ করে হরিণের মাংসÑ
তারাই হয়তো রক্ষা পাবে।
পৃথিবী এখন থমকে আছে ময়ূরীর পেখমে,
একদল পতঙ্গ নিত্য চেষ্টা করে
সেই পেখমের সৌন্দর্যে আশ্রয় খুঁজতে।
অথচ প্রতিবারই ফিরে আসে শূন্য ডানায়,
দিন কাটায় মৃত্যুবৃক্ষের ছায়াতলে।
আর যারা সফল হয়ে ঠঁাই পায় ময়ূরীর পেখমে,
তারাও একদিন হারিয়ে ফেলে মুক্ত আকাশের ঠিকানা;
কেউ বঞ্চনার, কেউ প্রাপ্তির শিকলেÑ
উভয়েই বন্দি, শুধু বন্দিত্বের নাম আলাদা।
আমি এমন এক পৃথিবীতে হঁাটু গেড়ে আছি,
যেখানে প্রহর থেকে শেষান্ত অবধি শুধু ধেঁায়া;
চারদিকে সাইরেনের আর্তনাদ,
আর দিগন্তজুড়ে জ্বলছে লেলিহান আগুন।







