প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৫
পাঠক ফোরামের কবিতা

মো. হানিফ মাহমুদ বাবা আমার প্রথম হিরো
বাবা হলো, আমার জীবনের শীতলতম ছায়া,
মুখে শাসন, বুকে যার অন্তহীন মায়া।
আমার কাছে, বাবা মানে কঠোর নিরাপত্তা
বাবা, সে তো সবার জীবনে অকৃত্রিম এক সত্তা!
আমার জীবনে, বাবার শ্রম আর ত্যাগ যে অমূল্য,
এ ধরার কোনো ধন-সম্পদ, নয় কো তার তুল্য।
আমার কাছে, বাবা ছিল শিক্ষার এক প্রতিষ্ঠান
হেথায় তিনি জীবনযুদ্ধে জয়ের মন্ত্র শেখান।
প্রতিদিন কত কষ্ট করে, রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে!
আমাদেরকে না খাওয়ায়ে, খাওনিকো তুমি নিজে।
ভালোবাসা শুধু দিয়েছো মোদের, চাওনি কোনো প্রতিদান
যতদিন বাঁচি, এই হৃদয়ে রবে তুমি অম্লান।বাবা তোমায় ভালোবাসি, পারিনি কখনো বলতে,
তুমি আমার সাথেই আছো, প্রতিটি পথ চলতে।
না ফেরার দেশে তুমি আজ, পাবো না তোমায় আরো!
বাবা, তুমি ছিলে এই ভুবনে, আমার প্রথম হিরো।
মনির হোসেন খান
মানুষআমি মানুষের ভিড়ে মানুষ খুঁজি
মানুষের দেখা পেলাম না আজও
পঞ্চান্ন বছর কেটে গেলো তবুও
মানুষের দেখা পেলাম না।খান বাড়ির চৌকাঠ পেড়িয়ে ভূইয়াদের বাড়িতে গেলাম
দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এ বাড়ি সে বাড়ি পেড়িয়ে শেষে চৌধুরীদের বাড়ির উঠোনে গিয়ে পৌঁছুলাম
সেখানেও মানুষ কোথায়?আমি মানুষ খুঁজে-ফিরি কাজীদের মাঝিদের হাজিদের ভিড়ে তবুও কোথায়ও পাচ্ছি না খুঁজে মানুষের দেখা।
যানবাহন আর হোটেল রেস্তোরাঁয় সেমিনারে বা সিম্পোজিয়ামে, মিছিলে কিংবা বক্তৃতায়
পথে-ঘাটে-মাঠে-প্রান্তরে, হাটে বাজারে
আমি মানুষই খুঁজে ফিরি কিন্তু
কিন্তু হায় মানুষ কোথায়?আমি মানুষ খুঁজে-ফিরি দিবালোকে আলো-আঁধারিতে
বর্ণে ও রক্তে সাদাতে-কালাতে-হলুদ কিংবা নীলে
পাইনি দেখা একটি মানুষের আজও।পঞ্চান্নটি বছর পেড়িয়ে গেলো আজও মানুষ খুঁজে ফিরি
এ পাড়ায় ও পাড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয়
জনসমাবেশে মানুষের ভিড়ে আজও আমি মানুষই খুঁজি
এ মানুষ খোঁজার খেলায় আজ আমি বড্ড ক্লান্ত অবসন্ন
তাই তো এখন আর আমি মানুষের মাঝে মানুষ খুঁজি না
এখন আমি একপাল পশুদের দিকেই তাকিয়ে রই
যদি এই পশুদের ভিড়েই
অন্তত একটি মানুষের দেখা পেয়ে যাই।ছবি-৫২
আশরাফ চঞ্চল
স্পর্শময়ীতুমি এসে আচানক
স্পর্শ দিলে ঠোঁট প্রদেশে,
দেহ মানচিত্রের অলিতে-গলিতে...!তারপর ঝড় বইলো
পা থেকে মাথা অবধি।
প্রতিটি রোমকূপের গোড়ায়,
শিরা-উপশিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে
স্পর্শের নান্দনিক ছোঁয়ায়
যেন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল
অদাহ্য আগুনের লেলিহান শিখাপিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে
লবণ সমুদ্রে ডুব দিলাম...
ডুব দিতেই থাকলাম...
দিতেই থাকলাম!মুহাম্মদ কাউছার আলম রবি
মেঘ পাহাড়ের রেলগাড়িঝিকঝিকানি ট্রেনের শব্দ, জানালাতে হাওয়া, মেঘলা আকাশ মাথায় নিয়ে পাহাড় পানে যাওয়া।
সবুজ মাঠের বুকটি চিরে ছুটছে রেলের গাড়ি, উদ্দেশ্য আজ চন্দ্রনাথ আর খৈয়াছড়া পাড়ি।
চারিপাশেতে চেনা-অচেনা লোকের কোলাহল, সবার চোখে আনন্দেরই ভাসছে খুশির ঢল।
বর্ষা রানী আলতো করে ছুঁয়ে দিল মন, কদম ফুলের মিষ্টি সুবাসে মাতাল সমীরণ।
গাছের শাখায় ফুটল কদম, বর্ষারই ওই দূত, পাহাড়-নদীর মিতালী আজ লাগছে অদ্ভুত!
ঝরনাধারার শব্দ শোনা যায় ওই দূর-দূরান্তে, ক্লান্তি ভুলে মন মেতেছে অজানাকে জানতে।
মেঘ-পাহাড়ের এই মেলবন্ধন, বর্ষার এই ক্ষণ, স্মৃতির পাতায় অমলিন রবে এই তো আয়োজন।
রেলগাড়িতে বসেই কাটে দারুণ খুশির বেলা, প্রকৃতি আজ সাজল যেন রঙের মধুর মেলা!
তানজিদ কোতয়াল কোটি প্রাণের শপথ
কে বলেছে থেমে গেছে বজ্রের ভাষা আজ?
আমরা তরুণ হৃদয়ে জ্বলে অগ্নিরই সমাজ।
ঘুমন্ত চেতনার দূর করি প্রলয়ের ডাক,
সত্যের পথে দাঁড়াবো মোরা—ভাঙব সকল ফাঁক।এই মাটির কণায় কণায় পূর্বপুরুষের গান,
ত্যাগের অক্ষরে লেখা তাদের পরিচয়-প্রমাণ।
ভয়কে ধ্বংস করি আজ, অন্যায় হবে ক্ষয়,
জাগ্রত জাতির পদধ্বনিতে কাঁপবে অন্ধসময়।তরুণ তুমি ঝড়ের ভাষা, তুমি আলোর সৈনিক,
তোমার কর্মেই উঠবে গড়ে স্বপ্নের নতুন দিগন্ত।
কলম তোমার বজ্র হোক জ্ঞান হোক ঢাল,
দেশ গড়ার শপথ নিয়ে এগিয়ে চলো কাল।বাংলার আকাশ সাক্ষী থাক এই হোক ঘোষণা,
ন্যায়ের পথে অটল থাকাই আমাদের চিরপ্রার্থনা।
রক্তে লেখা এই দেশ, প্রাণে তারই টান,
বাংলাদেশের জয়ধ্বনিতে জাগুক কোটি প্রাণ।








