প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১২:২৩
মনের ঘুণপোকা জীবনের শত্রু
যা অনিবার্য তা আমাদের মেনে নেয়া সহজ হয় না, তবু মেনে নিতে হয়, তারপরও পরনিন্দা, পরচর্চা, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, মানুষ ঠকানো এই অপাংক্তেয় বিষয়গুলো আমরা আমাদের মূল কাজের পাশেই রেখে দেই!
ঘুণে ধরা এই মানসিকতা আমাদের বিন্দুবিসর্গ উপকারে আসে না, বরং পরোক্ষভাবে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই।
আমাদের তৃষ্ণা থাকে, ক্ষুধা থাকে, বিশেষ করে লোভ থাকে প্রচণ্ড! যে যার, ভেতর বাইরের ব্যবধান পরখ করলেই বুঝতে পারবো যে, কী কর্তব্য ছিলো আর কী কর্তব্য কাজ করে চলেছি আমরা।
আমাদের জীবনটাও অপরিশোধিত তেলের মতো। পরিশোধন করতে লাগে, না হলে কাজে তো আসেই না বরং উল্টো হয়ে যায় যাবতীয় অর্জন আর বিবেকের পথ চলা।
মনের ঘুণপোকা জীবনের শত্রু, একটা সংসারের পিলার নড়বড়ে করে দিতে পারে, একটা সমাজে অবক্ষয় ডেকে আনতে পারে, আর একটা রাষ্ট্রকে পারে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে।
ভালো হয়ে যাবার কোনো মলম বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না, বৃক্ষেও ধরতে শুনিনি এমন কোন ফল, যা খেলে মনমৃত্তিকার জমিন উর্বর হয়।
যে কোনো পরিসংখ্যানে মানুষ আজ শুধু নিডি! শুধু স্বার্থপরতা! বিবেক আছে কাজে লাগে না! আক্কেল আছে, অথচ বেআক্কেল হয়ে বসে আছে!
মানুষ ঠকিয়ে এক গোত্রের মানুষ উপরে ওঠার সিঁড়ি খোঁজে! আর যদি এক্কেবারেই উপরে চলে যায়, তাহলে তো বালাম খাতার মুখোমুখি হতে হবে মালিক রব্বানার কাছে।
আমাদের হাতে সময়ের শিকল, আজ যা করছি, আগামী তার জন্যে অপেক্ষা করছে। সময় তার পুরস্কার দিতে কাউকে ঠকায় না, বরং সময় তা নিজ হাতেই তুলে দেয়। মানচিত্র হয়তো পরিবর্তন হয়ে যায়, ইতিহাস নয়।
এমন অনেক মানুষ দেখেছি, মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে জানে না, শুধু নিজে সম্মান খুঁজে বেড়ায়! এ এক অসুস্থ কালচারে ছেয়ে আছে ভিটেমাটি ঘর! আমরা গোড়ায় সমাধান না খুঁজে আগায় সমাধান খুঁজে বেড়াই!
অনিবার্য হলো রোগব্যাধি, অনিবার্য হলো কর্মফল, অনিবার্য হলো মৃত্যু। আমাদের সবার হাতে রিটার্ন টিকেট আছে, কে কোন্ পথে কখন উপরে চলে যাবো কেউ তা জানি না।
কতো ঘটনায় চোখে জল আসে, কতো ঘটনায় ঘৃণায় বুকটা ভরে ওঠে, নির্বোধের পাহাড় জমে আছে দিকে দিকে!
কায়মনে করজোড়ে বলি, ‘হে প্রভু একটু আলোর রশ্মি দেখাও’। একটা খবর দেখলাম, চ্যানেল আই অনলাইন পোর্টালে, ২৪ দিনের শিশুকে পঙ্গু করে ভিক্ষায় নামানোর চেষ্টা!! উল্লেখ করলে হয়তো এমন হাজারো ঘটনা উল্লেখ করা যায়।
মনের স্বাধীনতা মানে অন্যের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়। এখন কেউ বলতে-ই পারেন, আমার মাছ আমি মাথায় কাটবো না লেজে কাটবো, তাতে কার কী, এমনটা হলে যা খু্শি তা আপনি করেন, কিন্তু কারো ক্ষতি কইরেন না।
অসঙ্গতি, অনাচার, বিদ্বেষ, ঈর্ষা, লোভ, মানুষ ঠকানো--এগুলো সব একি বৃক্ষের ফল। ভালোর ধারাবাহিকতা বেশি প্রয়োজন, পরিতাপের বিষয়, খারাপের ধারাবাহিকতা আমার কাছে একটু বেশি ঠেকে। ভালো হবার সুযোগ তৈরি করে দিতে হয়, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির যেমন দায়িত্ব, সমাজপতিরও তেমন দায়িত্ব আর রাষ্ট্রের তো আছেই। আমাদের কারোরই এই মূল্যবান জীবন, লিল্লা খাতের নয়।
তবুও কারো না কারো ভুলে কারো না কারো অবহেলায় কারো না কারো অদক্ষতায় জীবন চলে যাচ্ছে খরচার খাতায়!
খারাপ মনের চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়িত করে হয়তো মুখ লুকানোর চেষ্টা করা যায়, কিন্তু আপনমনের বৈধ সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না। ক্ষতিসাধন করে আত্মতৃপ্তি! এটা অনিবার্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। ভালো চিন্তা ভালো কর্ম ছাড়া, আর কোনো কিছু-রি স্থায়িত্ব নেই। মানুষকে চিনবার কোনো উপায় জানা নেই, তবে নিজেকে চিনবার উপায় আছে, ঐ যে বলে না, রূপের মাঝে স্বরূপ তেমার।
আমি যা বললাম, লোকে বলবে--এগুলো নীতিবাক্যের অহেতুক প্রলাপ, যা কাগজ সর্বস্ব। যাই হোক ক্ষমা চেয়ে নিলাম সবার কাছে ফালতু বয়ানের জন্যে। বরাবরের মতো সবার সুস্থ জীবন এবং মঙ্গল কামনা করি।
রচনাকাল : ০১.০৪.২০২৬।





