সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১২:১৯

খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন

অনলাইন ডেস্ক
খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন

(চুয়ান্নতম পর্ব)

আমার লেখক জীবন ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ :

সম্প্রতি সতের জুন দুহাজার ছাব্বিশ তারিখে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকাটি তার বত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে তেত্রিশতম বছরে পদার্পণ করেছে। চাঁদপুর কণ্ঠকে এ উছিলায় অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার শতবর্ষ পরমায়ু কামনা করছি। ঊনিশশো চুরানব্বই সালে সাপ্তাহিক পত্রিকারূপে জন্ম নেওয়া সংবাদপত্রটি ঊনিশশো আটানব্বই সালের ষোলো ডিসেম্বর দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করে। বিজয় দিবস সংখ্যা দিয়ে সূচিত দৈনিকটির যাত্রায় তাই মিশে আছে লাল-সবুজের আঘ্রাণ। চাঁদপুর কণ্ঠ ও আমার জন্মজনপদের ভিন্নতার কারণে শুরু হতে তার সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারলেও দুহাজার দশ হতে আমি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের লেখকে পরিণত হই। এর আগে দুহাজার আট সালের এগারো জুলাইতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর রোটারী ভবনে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদযাপনে বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করি। সেই সংবাদের অংশ হিসেবে পরদিন বারো জুলাই প্রথমবারের মতো দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ আমার নাম ও আংশিক পরিচিতি ধারণ করে। এ প্রসঙ্গে দুঃখের সাথে বলতে হয়, সেদিন আমি যখন পৃথিবীর জনসংখ্যা সাত বিলিয়ন হওয়া নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলাম, তখন বাসস্ট্যান্ডের মালেক খন্দকারের ভবনস্থিত আমার চারতলার বাসায় চোর ঢুকে ইচ্ছেমতো ঘাঁটাঘাঁটি করে যায়। তখন আমার পত্নী ও সদ্য বছরোত্তীর্ণ পুত্র মাতুলালয়ে বার্ষিক জ্ঞাতি দর্শনে গিয়েছিলো। এই ফাঁকে খালি বাসায় তস্করেরা উৎসব করে যায় বিনা বাধায়। একই অনুষ্ঠানে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আগের দিন তাঁর কার্যালয়ে বৈদ্যুতিক পাখার ঘূর্ণায়মান অবস্থায় ভূপাতিত হওয়ার ভয়ানক সংবাদ শ্রোতাদের অবহিত করেন। এ দুটো ঘটনায় কোনো কাকতাল আছে কি না তা কোনো জ্যোতিষী বলতে পারবেন। কিন্তু ওনার বক্তব্য শুনে আমি যখন সমবেদনায় আর্দ্র ছিলাম তখন আমার বাসাতে চলছিলো এই তাণ্ডব। বাসায় ফিরে আমি চুরি হয়েছে এই কষ্টে নিস্তেজ না হয়ে ছেলের মাকে কীভাবে জবাবদিহি করবো সেই আতঙ্কে নিরুদিত হয়ে গিয়েছিলাম।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় দুহাজার দশ সালের অক্টোবরে সোমবারের (পাক্ষিক) সাহিত্য পাতায়। তখনকার বিভাগীয় সম্পাদক মিজানুর রহমান রানা কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনটি আমার চোখে পড়ায় আমি একটু আগ্রহী হয়ে উঠি। কেননা জীবনানন্দ দাশ আমার অন্যতম প্রিয় কবি। ঊনিশশো নব্বই সালে বইমেলা থেকে মলাটের নান্দনিকতা দেখে আমি জীবনানন্দ দাশের কবিতা সমগ্রটা কিনে ফেলি। বইয়ের মলাটে শীতল পাটির মোটিফ আঁকা ছিলো। নব্বইয়ের দশকের শেষে এবং দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষের দশকের শুরুতে নতুন করে জীবনানন্দ অধ্যয়নের হিড়িক পড়ে যায়। আমাদের পাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উঠতি কবি আরিফ রহমান ভাইয়ের মুখে শুনতাম কেবল মহীনের ঘোড়াগুলোর কথা। তখন আমারও জীবনানন্দের চর্চা শুরু হয়। কিন্তু অন্ত্যমিলের কবিতা পড়ে অভ্যস্ত হওয়া মননে জীবনানন্দের খাঁটি বাংলা ভাষার অমিল কবিতাগুলো আমাকে খুব একটা স্বস্তি দেয়নি প্রথম প্রথম। দু-চারবার পড়ার পর মনে হলো, এ তো কবিতা নয় যেন কেউ একজন সামনে বসে আলাপচারিতা করছে আমার সাথে। এভাবে জীবনানন্দের সাথে নিরজনে আলাপ করতে করতে একান্তে পরিচয় হয়ে যায় নাটোরের বনলতা সেনের সঙ্গে। তারও আগে ক্লাস সেভেনে পরিচিত হই ভিঞ্চির মোনালিসার সাথে। ফলে দুটো চরিত্রকে জেনে ওঠার কারণে আমার কাছে তখন বনলতাকে মনে হলো কবিতার মোনালিসার মতো। মোনালিসার হাসির মতোই পাখির নীড়চোখা বনলতা সেন যেন আমি যেদিকে যাই সেদিকেই চেয়ে থাকে। ঠিক শৈশবে মাথার ওপরে চাঁদকে নিয়ে ঘোরার মতো। আমি যেদিকেই যাই, চাঁদও সেদিকে সঙ্গ নেয়। বিজ্ঞাপনে আবিষ্ট হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, বনলতা সেনের ওপর একটা লেখা দিবো। প্রায় পনেরশো শব্দের একটা পাঠ পর্যালোচনা হাতে লিখে পাঠালাম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের দপ্তরে। শিরোনাম দিলাম ‘কবিতার মোনালিসা’ নামে। শুরু হলো আমার চাঁদপুর কণ্ঠে লেখক হিসেবে যাত্রা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমার কাছে সেই লেখার কোনো কপি আর নেই। ফলে আমার কোনো প্রবন্ধের বইয়ে সেই পাঠোত্তর আলোচনাটি গ্রন্থিত হয়নি।

যদিও দুহাজার পাঁচ সালের ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় এবং তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালীন আমার লেখা ছড়া প্রথম ছাপার হরফ পায়, তবুও চট্টগ্রাম হতে চাঁদপুরে প্রাণান্তরিত হয়ে এই প্রথম আমার লেখকসত্তা সকলের কাছে উন্মোচিত হলো। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি লেখালেখির ব্যস্ততা ক্রমে ক্রমে আমার জীবনের যাপনকে উদযাপন ও উৎসবে পরিণত করে তোলে। ধীরে ধীরে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের অধিকাংশ পাতায় আমার অনুপ্রবেশ ঘটে। সাহিত্য পাতার পরে যুক্ত হলাম চিকিৎসাঙ্গনের লেখক হিসেবে। এ পাতায় লেখক সংখ্যা আশানুরূপ না থাকায় প্রতি সংখ্যাতেই না লিখলে বিভাগীয় সম্পাদক বেকায়দায় পড়ে যেতো। প্রথম প্রথম বিভাগীয় সম্পাদক ছিলো সোহাঈদ জিয়া। এরপর তা বর্তায় আল আমিনের কাঁধে। প্রায় ষোলো বছর ধরে একটানা লেখা এ পাতায় এখন আমি ভুগি বিষয় সংকটে। তাই কী বিষয়ে লিখবো, কোন্ বিষয়ে লেখা হয়নি কিংবা কোনো লেখা পুনরুৎপাদন হচ্ছে কি না তা ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। কেউ বিষয় নির্বাচন করে দিলে লেখা তৈরি করা সহজ হয়ে যায়। চিকিৎসাঙ্গনে লেখার পরে যুক্ত হলাম সংস্কৃতি অঙ্গনে। তবে এ পাতাটা অনিয়মিত হওয়ায় লেখার তেমন চাপ থাকে না। সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রকাশিত আমার প্রথম লেখাটি ছিলো লালনের ওপরে। সংস্কৃতি অঙ্গনে লেখা আমার দুটো বেদনাদায়ক স্মৃতিতর্পণ ছিলো প্রয়াত সুরজিৎ চক্রবর্তী এবং স্বপন সেনগুপ্ত দাদার ওপর। সাফল্যে আনন্দদায়ক লেখা লিখেছিলাম শিল্পী মৌমিতা আচার্যীকে কেন্দ্র করে। দুয়েকটা মঞ্চ নাটকেরও সমালোচনা লেখা হয়ে গেছে। ফরিদের অনুরোধে অগ্রজ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজয় দাকে উল্লেখ করে অগ্রজের কাছে অনুজের খোলা চিঠিও লিখেছি। সংস্কৃতি অঙ্গনে গোলাম মোস্তফার দায়িত্বে আমার একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকারও ছাপা হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে এ বছর আমার নাতনি সম্পর্কের কৃতী শিল্পী অদিতি ঘোষের রবীন্দ্র সংগীতে কৃতিত্বের সংবাদও সংস্কৃতি অঙ্গনে আমি লিখেছি। সোহাঈদ খান জিয়ার পীড়াপীড়িতে শিশুকণ্ঠেও লেখা দিতে থাকি। যেদিন শিশুকণ্ঠে লেখার ঘাটতি পড়ে সেদিন জিয়ার কাতর ফোন পাই, দাদা শিশুকণ্ঠের জন্যে কিছু জমা থাকলে দেন। গল্প, ছড়া, শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস দিয়ে শিশুকণ্ঠের সাথেও আছি একই সময় ধরে। মজার বিষয় হলো, একই সংখ্যায় আমার লেখার পাশাপাশি আমার ছোট ছেলে প্রখরেরও করোনা বিষয়ে একটা ছড়া ছাপা হয়েছে। শিশুকণ্ঠে একযোগে না হলেও বিভিন্ন সংখ্যায় আমরা পিতাপুত্র তিনজনেরই লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আর একই পত্রিকায় আমাদের পরিবারের চারজন লিখিয়েই কিছু না কিছু লিখেছে। তাদের মা মুক্তা পীযূষের লেখা বিভিন্ন ক্রোড়পত্র, নারীকণ্ঠ, সংস্কৃতি অঙ্গন এবং উপসম্পাদকীয়তে মাঝে মাঝেই প্রকাশিত হয়েছে এবং হয়। আমার লেখকসত্তাকে পাঠক ফোরামও ধারণ করেছে দুয়েকটা সংখ্যায়। বিশেষ দিবসে কিছু কিছু উপসম্পাদকীয় আমি লিখেছি চাঁদপুর কণ্ঠে। এরমধ্যে বুদ্ধপূর্ণিমা, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী তো আছেই। বাংলা ভাষার ইতরীকরণ, চিকিৎসকদের সংকট বিষয়েও কিছু উপসম্পাদকীয় লেখা হয়েছে। আবার উপদেষ্টা হিসেবে কিছু কিছু সংখ্যার সম্পাদকীয় কলাম লেখারও দায়িত্ব কাঁধে বর্তেছে এবং বর্তায়। ভাষার মাস ও শোকের মাসে ধারাবাহিক কলামও লেখা হয়েছে পত্রিকাটিতে। ‘বিতর্কায়ন’ নামে বিতর্ক বিষয়ক ক্রোড়পত্রে বিতর্ক-সাহিত্যও লিখতে হয়েছে প্রতি সংখ্যায় একটানা। এই সাহিত্য-সম্ভার নিয়েই পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার সনাতনী বিতর্কের আকরগ্রন্থ ‘বিতর্ক-সমগ্র’। বিশেষ প্রতিবেদকের দায়িত্ব নিয়ে ছড়া-সম্রাট সুকুমার বড়ুয়ার প্রয়াণের সংবাদও আমি পরিবেশন করেছি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে। আমার এক সময়ের বাড়িঅলা, শিউলী ভিলার কর্ণধার, রোটারিয়ান ও প্রকৌশলী জনাব জয়নাল সাহেবের ওপরে তাঁর বাগান নির্মাণপ্রীতি ও দক্ষতা নিয়ে একটা সচিত্র বিশেষ প্রতিবেদনও আমার দ্বারা চাঁদপুর কণ্ঠে লিখিত হয়েছে। চৌধুরী ইয়াছিন ইকরামের জ্বালায় ক্রীড়াকণ্ঠে লিখেছি অনেক সংখ্যায়। এতে ধারাবাহিকভাবে দাবা ও টেবিল টেনিসের ওপর আমার আলোচনা ছাপা হয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহীতা হিসেবে প্রয়াত খন্দকার মুজিবের ওপরে আমার নেওয়া মুনীর ভাইয়ের মতামতও পত্রস্থ হয়েছে ক্রীড়াকণ্ঠে, যার প্রশ্ন পরিকল্পিত হয়েছিলো প্রধান সম্পাদক কর্তৃক। নারী ফুটবল দলের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধান সম্পাদকের অ্যাসাইনমেন্টের লেখাও লিখেছি কয়েকটা। সাথে ক্রিকেট বিষয়ক লেখা তো ছিলোই।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ অকুণ্ঠ আগ্রহে ছাপিয়েছে আমার গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও ছড়া। সবচেয়ে বেশি লেখা হয়েছে সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা। এর মাঝে কয়েকটি ক্রোড়পত্রও আমি সম্পাদনা করেছি।

বিশেষ করে রোটারী, মোহনবাঁশি ছড়া উৎসব, প্রথম চাঁদপুর জেলা সাহিত্য সম্মেলন, চরিত্র গঠন আন্দোলনের শতবর্ষ ইত্যাদি। কবি সৌম্য সালেকের সাথে আমার কয়েকটি সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে নজরুল-জীবনানন্দ বিতর্কের একাডেমিক উত্তর-প্রতিউত্তর চলতে থাকে। ধারাবাহিক গল্প লিখেছি তছলিম ভাই, ফরিদ ও রণির গল্পের জবাবে, যার শিরোনাম ছিলো ‘আলেয়ার বিয়েতে চারজন যুবক’ নামে। লেখক ও প্রকৌশলী দেলোয়ার ভাইয়ের জীবন হতে নেওয়া কাহিনী নিয়ে ‘ভ্রান্ত বিপ্লবীর চারদিন’ শিরোনামে একাধিক পর্বে একটা ধারাবাহিক গল্পও লিখেছি। সৌম্য সালেক, জাহিদ নয়ন, মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, লায়ন মাহমুদ হাসান, ইলিয়াস ফারুকী, হাসান আলীসহ অনেকের বইয়ের আলোচনা লিখেছি নির্মোহ হয়ে। আমার ‘সায়নালোকে এক জীবনের সন্ধ্যায়’ বইটির আলোচনা লিখেছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আজিম ভাই। তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এএইচএম আহসানউল্লাহ।

সাংবাদিক কাউসারের আয়োজনে করোনাকালে চাঁদপুর কণ্ঠ অনলাইনে চালু হয় আমার কণ্ঠে ও আমার লিখিত ছড়ায় ‘ছড়া কলাম’। বেশ ক’টি পর্ব ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়েছিলো। এছাড়াও নামে-বেনামে অনেক সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিও লিখেছি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে। আরও একটা বিষয় আমার লেখা হয়েছে। তা হলো বাণী। অনেক ক্রোড়পত্রের প্রধান অতিথি, উদ্বোধক কিংবা সভাপ্রধানের বাণীও আমার হাতে লেখা। যদিও এগুলোতে লেখকের নাম থাকে না। কিছু কিছু ক্রোড়পত্রে আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু স্মারক ছড়া বা স্বাগতমমূলক ছড়া লেখা হয়েছে। ফরিদের ‘শিক্ষাঙ্গন ‘ ও ‘সুচিন্তা’ পাতায় বেশি না লিখলেও কমও লেখা হয়নি।

আমার লেখকসত্তায় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সবচেয়ে বড়ো অবদান হলো আমাকে দিয়ে ‘খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন’ লিখিয়ে নেওয়া। দুহাজার তেইশ সালের দশ অক্টোবর প্রথম কিস্তির লেখা দিয়ে শুরু হওয়া ধারাবাহিক এখনও চলছে। একটু দেরি হলেই প্রধান সম্পাদক মহোদয়ের তাগাদা পাই। তিনি মনে করিয়ে দেন সস্নেহে পরবর্তী কিস্তির জন্যে। এর মাঝে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ত্রিশ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত হয় স্মারকগ্রন্থ ‘বিরামহীন তিরিশ’। এতেও আমার একটা লেখা স্থান পেয়েছে। ফরিদের সম্পাদনায় বের হওয়া ঈদ সংখ্যাতেও আমি ছিলাম লেখকরূপে। তিরিশ বছর পূর্তিতে চাঁদপুর কণ্ঠের সর্বোচ্চ লেখক হিসেবে তিনজনের মধ্যে আমিও সম্মাননাপ্রাপ্ত হই। তেমনি এবারও বত্রিশতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাকে সব্যসাচী লেখক হিসেবে সম্মানিত করা হয়। চাঁদপুর কণ্ঠের এই মূল্যায়নে আমি কৃতজ্ঞ ও ঋণী। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়