শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১১:১৯

হিংসুটে বাম হাত

অনলাইন ডেস্ক
হিংসুটে বাম হাত

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাদ্য’র টিচার আসেন। তিনি ঘড়ি ধরে এক ঘন্টা পড়ান। আর আধঘন্টা বাদ্যের মন ভালো করার জন্যে গল্প করেন। বাদ্য ক্লাস টু-তে পড়ে। তার স্কুলের নাম শিশু নিকেতন বিদ্যালয়। সকাল আটটা থেকে এগারটা ক্লাস। তারপর ছুটি। এরমধ্যে সাড়ে নয়টায় টিফিন। বাদ্য বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা একঘন্টা খেলে। পাড়ার বন্ধুদের সাথে। ওর বন্ধুরা কেউ থ্রিতে পড়ে, কেউ পড়ে ওয়ানে। কিন্তু খেলতে গেলে ওরা সবাই সমান। সন্ধ্যা ছয়টায় টিচার আসেন। বাদ্য’র টিচারের নাম কাব্য। সেদিন খুব বৃষ্টি। তাই পড়াতে গিয়ে টিচার তেমন একটা মন বসাতে পারছিলেন না। মিনিট দশেক পড়িয়ে বাকি সময়টা গল্প বলার জন্যে তিনি রেখে দিলেন। বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে গল্প শুরু হয়ে গেলো।

গল্পটা হলো ডান হাত আর বাম হাতের। ডান হাতের সবাই প্রশংসা করে। কারও কাছ থেকে কিছু নিতে গেলে ডান হাতে নিতে হয়। হাতে হাত মিলাতে গেলে মানে হ্যান্ডশেক করতে গেলেও ডান হাতে করে। বাম হাতের কোনো কদর নেই। বাম হাত তাই তক্কে তক্কে থাকে, কীভাবে ডান হাতকে বিপদে ফেলা যায়। সুযোগ আসে ধীরে ধীরে। বাম হাত ডান হাতকে একচোট নেওয়ার জন্যে বুদ্ধি কষে। একদিন সে তার ষড়যন্ত্রে সফল হয়। বাম হাত ডান হাতের আঙুলগুলোকে ভুল বোঝাতে থাকে। মিথ্যে বলে আঙুলগুলোকে ডান হাতের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে। এই ডান হাতের পাঁচটা আঙুল। সবার যেমন থাকে তেমনই। এতদিন তাদের মধ্যে মিল ছিল খুব। তাই যে কোনো কাজ তারা পাঁচজনে মিলে সহজে করে ফেলতো। কিন্তু গত কদিন থেকে তাদের সেই মিল আর নেই। তারা প্রতিদিন ঝগড়ায় জড়িয়ে থাকে। বুড়ো আঙুলের কথা মধ্যমা শোনে না। তর্জনী শোনে না অনামিকার কথা। কনিষ্ঠা নিজে নিজের মতো চলে। তাদের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা নেই। ফলে ডান হাত খিদে লাগলেও শৃঙ্খলার অভাবে গ্রাস ধরতে পারে না। আবার মধ্যমার অসহযোগিতায় মুঠি করা সম্ভব হচ্ছে না হাতের পক্ষে। ফলে দিন দিন আহারের অভাবে হাত দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু তবুও তাদের একতা ফিরে আসে না।

একদিন সকালের কথা। সেদিন খুব ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। বাতাসের তোড় ছিলো খুব। এখানে সেখানে কড়্ কড়্ কড়াৎ করে বাজ পড়ছে। পিলে চমকানো সে আওয়াজ। এর মধ্যে বাম হাত ও ডান হাত একসাথে গেলো বাইরে। কিছু সদাইপাতি কেনা দরকার। ঘর থেকে বের হয়ে গলির দোকানে যেতে হবে তাদের। গেট হতে বের হয়ে পথে যেই নামলো, অমনি মড়্ মড়্ মড়াৎ করে গাছের একটা ডাল ভেঙে পড়লো একেবারে বাম হাতের ওপর। বাম হাত আর সে ডাল সরাতে পারছে না। গল্প মনোযোগ দিয়ে এতটুকু শোনার পর বাদ্য বলে উঠলো, তারপর কী হলো বাম হাতের? কাব্য বললেন, বলছি বলছি।

ডালের নিচে বাম হাত চাপা পড়ে গেছে। খুব ব্যথা বোধ হচ্ছে। বাম হাতের এই বিপদে ডান হাত এগিয়ে এলো মানবিকতা নিয়ে। এক ঝটকায় টান দিয়ে ডান হাত ডালটি সরিয়ে দিলো। বাম হাত বেঁচে গেলো পঙ্গু হওয়া থেকে। ডাল-চাপা থেকে বাম হাত মুক্ত হয়েই ডান হাতকে জড়িয়ে ধরলো। চোখে জল এসে গেলো তার। এ জল খুশির। এতদিন সে ডান হাতকে ভাবতো প্রতিদ্বন্দ্বী। মনে করতো, তার সব প্রাপ্তি কেড়ে নিচ্ছে ডান হাত। কিন্তু আজ বুঝলো, ডান হাত শক্তিশালী বলেই বাম হাত আজ বেঁচে গেছে। আসলে বিপদেই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। একতায় থাকলে বিপদকে জয় করা যায়। আর ডান হাতে দেখালো, শত্রুতার জবাবে শত্রুতা দিয়ে বিরোধ অবসান হয় না। মিত্রতা দিয়েই শত্রুতার অবসান ঘটানো সহজ।

কাব্যের গল্প শেষ হতে না হতেই বৃষ্টি থেমে গেলো। কাব্যকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে দিতে বাদ্য বুঝতে পারলো, জগত হচ্ছে বন্ধুতার, বৈরিতার নয়। ভালো বন্ধু মানুষের শক্তি-সাহস বাড়িয়ে দেয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়