শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১১:১৭

চা-পাতার শহর সিলেট ভ্রমন

সাদিয়া মজুমদার
চা-পাতার শহর সিলেট ভ্রমন

যাত্রা শুরু চাঁদপুর সদর বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে। আমরা মূলত ৪ বান্ধুবী মিলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় লন্ডন সিলেট যাবো ঘুরতে। সকাল ৬ টায় ছেড়ে যাওয়া একতা সততা বাসে উঠে গেলাম আমরা ৪ বান্ধবী। বাসের টিকেট আগে থেকে কাটা ছিলো তাই টিকেট বা সিট খুঁজে পেতে আমাদের কোনো রকম সমস্যা হয়নি। আমাদের সিট গুলো ছিলো বাসের ঠিক মাঝ বরাবর। আমরা ৪ জন যে যার সিটে বসে পরলাম। বাস ছেড়ে দেওয়ার ১০ মিনিট আগে বাসের কন্ট্রাকটার সবার উদ্দেশ্য বললো আমরা আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যাবো সবাই হ্যাপি ট্রাভেল করার জন্য প্রস্তুতি নেন।এই বলে আমাদের বাস ছেড়ে দিলো সকাল ৬ টা ১০ মিনিটে। সিলেট ম্ শহরে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৮-৯ ঘন্টা বিকাল ৪-৫ টার মধ্যে আমরা পৌঁছে যাবো আমাদের গন্তব্য স্থানে। চাঁদপুর থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার। বাস নিজ গন্তব্যে ছুটছে এবং আমরা কিছুক্ষণের জন্য বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি। আমাদের ঘুম ভাঙ্গে প্রায় ৯ টা বাজে। আমার ভাইয়ার মোবাইল কলের আওয়াজ শুনে।আমরা তখন প্রায় কুমিল্লা বিশ্বরোড চলে গেছি। ভাইয়া আমাকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে মনি তোরা কতটুকু আসছিস। আমি বলি ভাইয়া আমরা কুমিল্লা চলে আসছি। তখন ভাইয়া বললো আচ্ছা তাহলে রাখি সাবধানে আসিস,পরে আমি ভাইয়ার কল কেটে দিয়ে আমার সাথের গুলো কে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম।

ওহ্ আমাদের তো পরিচয় টা এখনো দেওয়া হয়নি ওরা ঘুম থেকে উঠতে উঠতে আমি বরং আমাদের পরিচয় টা আপনাদের দিয়ে দেই।,আমি সাদিয়া বাবা মায়ের আদরের ছোট মেয়ে।আর আমার বান্ধবী রা একজন সীমা, একজন মিমি আর অন্যজন সালমা,আমরা সবাই এবার এসএসসি পরীক্ষা দিছি ২০২৫ ব্যাচে। পরিক্ষার পর সব বান্ধবী রা মিলে প্ল্যান করছি সিলেট ঘুরতে যাবো,যেই কথা সেই কাজ সবাই সবার ফ্যামেলি কে রাজি করিয়ে চলে যাচ্ছি সিলেট ভ্রমণ করতে, আপনারা কি মনে করেছেন আমরা ৪ বান্ধবী একাই যাচ্ছি সিলেট, উহু আমরা মূলত যাচ্ছি আমার ভাইয়ার বাসায়, আমার ভাইয়া চাকরি সূত্রে বর্তমানে সিলেট জেলা কোম্পানি গঞ্জ থানায় কর্মরত আছে আমরা ওখানেই যাবো,চাঁদপুর থেকে আমার ছোট ভাইয়া আমাদের গাড়িতে তুলে দিছে সিলেট বাস্ট্যান্ড থেকে বড় ভাইয়া আমাদের রিসিভ করবে,শুধু বাসেই আমরা একা যাবো,চাঁদপুর টু সিলেট ডাইরেক্ট বাস হওয়াতে আমার ছোট ভাইয়া নির্ভয়ে৷ বাসে তুলে দিছে।

আচ্ছা এবার আমাদের গল্পে ফিরে যাওয়া যাক,সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে আমাদের বাস এসে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ১৫ মিনিট এর জন্য বিরতি দিছে সকাল এর নাস্তা করার জন্য, এক এক করে আমি সালমা, মিমি, সীমা বাস থেকে নামলাম ওখানে একটা রেস্টুরেন্ট এর সামনে,আমরা রেস্টুরেন্ট এর মধ্যে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসলাম নাস্তা করার জন্য,ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করলো আপু কি অর্ডার করতে চাচ্ছেন আপনারা, আমি সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম এই তোরা কে কি খাবি,সবাই বললো হালকা কিছু নাস্তা অর্ডার দে, পরে আমি মেনু কার্ড দেখে ওয়েটার কে বললাম ভাইয়া আমাদের জন্য ৪ টা পরোটা ২ ভাজি এবং ৪ টা চা পাঠান,ওনি বললো আচ্ছা আপু,প্রায় ২ মিনিট পর আমাদের সামনে নাস্তা চলে এলো আমরা নাস্তা শেষ করে, নাস্তার বিল পরিশোধ করে,বাসে খাওয়ার জন্য কিছু চিপস, জুস আইটেম নিয়ে বাসে উঠে পরলাম,৩-৪ মিনিট এর মধ্যে বাস ছেড়ে দিলো।বাস নিজ গন্তব্যে ছুটছে এবং আমরা চার বান্ধবী ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ নিয়ে মজা করতেছি,লাইফে ফাস্ট টাইম সিলেট যাচ্ছি, অনেক এক্সাইটেড আমরা। এই আনন্দে আমরা মজ্দাুষ্টামি করতেছি গান শুনতেছি,এর মধ্যে ছোট ভাইয়া কল দিছে বলে বাস কতটুকু গেছে আমি বলি ভাইয়া আমরা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পার হয়ে গেছি, তারপর বড় ভাইয়া কল দিছে ভাইয়া জিজ্ঞেস করে বোন কতটুকু আসছিস আমি বলছি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পার হয়ে গেছি,ভাইয়া বলে আচ্ছা তাহলে সাবধানে আসিস,আমি আচ্ছা বলে ফোন কেটে দিয়ে আবার আমরা ৪ বান্ধবী মজা করতে শুরু করছি,আমরা দুষ্টুমি করতে করতে কুমিল্লা জেলা পাড় হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আমাদের গাড়ি ঢুকে গেছে, ঘড়িতে তখন বাজে বেলা ১১:৩০ মিনিট, আবার ভাইয়া কল দিছে জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় আছি আমি বলছি ভাইয়া আমরা এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আছি। তখন ভাইয়া বলে তাহলে আর বেশি সময় লাগবে না তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগবে, আমি আচ্ছা বলে ফোন কেটে দিলাম। বাস চলতেছে আমি একটু ফেসবুকে ঢুকলাম ঢুকে দেখি সিলেট সাদা পাথরের ভিডিও তখন আমি সালমা মিমি সীমাকে ভিডিওটা দেখিয়ে বললাম এই যে দেখ সাদা পাথর কত সুন্দর আমরা প্রথমে সাদা পাথর ঘুরতে যাবো আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা সবাই কথা বলতে বলতে আমাদের হালকা খিদা লেগে গেছে,টক কিছু খেতে মন চাচ্ছে তখন বাসে চানাচুর ওয়ালা মামা উঠলো বললো এই কে কে খাবেন চানাচুর চানাচুর ঝাল দিয়া, তখন আমি বললাম এই যে মামা এখানে আসেন ওনি আমার সামনে এসে বলল জ্বি মামা কন কি খাবেন? আমি বললাম মামা ঝাল দিয়ে একটু লেবু বেশি দিয়ে আমাদের চারটা চানাচুর বানানি দেন, তখন মামা বলল আচ্ছা মামা দাঁড়ান একটু দিতাছি আমি বললাম আচ্ছা ঝাল একটু বেশি দিয়েন,কয় আইচ্ছা। তারপর আমাদের চানাচুর দিলো আমরা খেতে খেতে আবার গল্প শুরু করলাম, গল্প করতে করতে এক পর্যায়ে আমাদের এখন স্পিড ক্যান খেতে ইচ্ছে করতেছে, তো সামনে একটা দোকান পাই সেখান থেকে আমরা স্পিড ক্যান কিনে খাই। ভাইয়া আমাকে মেসেজ দিয়ে বলল সাদিয়া তোরা কতটুকু আসছিস, আমি বললাম এখন আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই আছি, ভাইয়া বলল আমি একটা কাজের শহরে যাবো এখন আমি ওখানেই থাকবো তোদের আসতে বেশি সময় লাগবে না গাড়ি থেকে নেমে আমাকে কল দিস আমি থাকবো ওখানে তোদের নিয়ে বাসায় আসবো,আমি আচ্ছা বলে রিপ্লাই দিলাম।বাসে প্রায় ঘন্টাখানেক জ্যামে বসে ছিলাম একই জায়গায়। এভাবে চলতে থাকে সময়, আর আমরা অপেক্ষা করতে থাকি। অবশেষে এউ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমরা সিলেট বাস স্টেশন নামলাম, যেখানে আমাদের বাস স্ট্যান্ড বোঝানোর কথা ছিল বিকেল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে সেখানে জ্যামের কারণে আমরা সিলেট বাসস্ট্যান্ডে পৌছালাম সন্ধ্যা সাতটা বাজে। আমরা বাসস্ট্যান্ড নেমেই দেখি ভাইয়া আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ভাইয়া থাকে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ, এখন কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার জন্য আমাদের বাসে উঠতে হবে। সিলেট বাসস্ট্যান্ড থেকে কোম্পানীগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড একটু সামনে পাঁচ মিনিটের রাস্তা জায়গার নাম আম্বরখানা ওখানে গেলাম গিয়ে দেখি মাত্র একটা বাস আছে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে লাস্ট বার ছেড়ে যায় আমাদের সাদা পাথরের বাসে উঠে কোম্পানীগঞ্জ যেতে হবে। বাস ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে আমরা বাস কাউন্টারে আসি, ভাইয়া আমাদের পাঁচ জনের জন্য পাঁচ টা টিকেট কেটে নেয়, আমরা বাসে উঠার দুই মিনিটের মধ্যে বাস ছেড়ে দেয়। বাস চলতেছে নিজ গতিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট রাস্তা পাড়ি দিয়ে আমরা এসে পৌছালাম ভাইয়ার বাসায়, বাসায় এসে আমরা চারজন ফ্রেশ হতে চলে গেলাম, ফ্রেশ হয়ে এসে ছোট ভাইয়াকে ফোন দিয়ে জানালাম আমরা ঠিকঠাক মত বাসায় এসে পৌঁছেছি, ঘড়ির কাঁটা প্রায় রাত নয়টার দিকে ভাবি টেবিলে খাবার দিল আমরা সবাই খেয়ে রেস্ট করতে চলে গেলাম, সারাদিন অনেক জার্নি করছি। আমরা সবাই ঘুমিয়ে গেলাম, সকালে ভাবির থাকে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে, ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে দেখি সকাল দশটা বাজে, বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলাম, নাস্তার টেবিলে ভাইয়া বলে আজ প্রথম কোথায় যাবি সাদা পাথর নাকি চা বাগান, আমরা বললাম আজকে আমরা সাদা পাথর যাবো কালকে চা বাগানে যাবে,ভাইয়া বলল ঠিক আছে দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে থাকিস তোরা আমি সিএনজি নিয়ে আসবো, আমি আচ্ছা বলে নাস্তা করার দিকে মনযোগ দিলাম।নাস্তা করা শেষে ভাইয়া ডিউটিতে চলে গেছে ভাবি আমাদেরকে গোসল করে রেডি হতে বলে রান্নাঘরে চলে গেছে। আমি মিমি সালমা সীমা রুমে বসে একটু মোবাইল দেখতেছিলাম, ফোন দেখতে দেখতে দেখি ১১ঃ৩০ বাজে আমরা তাড়াতাড়ি চলে এসেছি গোসল করতে, গোসল করে বের হয়ে আমরা ছাদে চলে গেছি চুল শুকানোর জন্য, আমরা শীতের মাঝামাঝি সময় গেছিলাম সিলেট তখন হালকা হালকা শীত পড়ে। প্রায় ঘন্টাপ্রায় ঘন্টা খানিক পরে ছাদ থেকে নেমে সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে রেডি হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম সাদা পাথর যাওয়ার উদ্দেশ্যে, প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে আমরা ভোলাগঞ্জ হয়ে ১০ নম্বর নৌকা ঘাট বা সাদা পাথর ঘাটে এসে নৌকা ভাড়া করে চলে যাই সাদা পাথর। আমরা সাদা পাথর এসে নৌকা থেকে নেমে ঘুরাঘুরি শুরু করি। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের পাথর, পাথরের মাঝ দিয়ে বয়ে আসে ঝর্ণার পানি, অনেকেই পানির মধ্যে নেমে গোসল করতেছে পাশে দেখা যায় ইন্ডিয়ার বর্ডার ইন্ডিয়ার মেঠো রাস্তা, গাড়ি,মানুষের বাড়ি সব মিলে জায়গাটা অসম্ভব রকমের সুন্দর, আমরা সুন্দর থেকে একটা জায়গায় চলে যাই ফটোশুট করার জন্য কখনো নিজেদের ছবি তুলি তো কখনো প্রকৃতির ছবি তুলি, আবার কখনো পাথরের উপর দিয়ে বয়ে আসা পানির ভিডিও করি, পানি নিয়ে দুষ্টুমি করি, প্রায় ২-৩ ঘন্টা ঘুরাঘুরি করার পর আমরা নৌকা পার হয়ে চলে আসি ভোলাগঞ্জ বাজারে, তারপর ভোলাগঞ্জ মার্কেট ঘুরে ঘুরে দেখি আর কিছু কেনাকাটা করি, কেনাকাটার ঘুরাঘুরি শেষ করে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে সন্ধ্যার নাস্তা করে বাসায় চলে আসি, বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নেই,রাত ১০:৩০ মিনিটে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যাই,সিলেটে দ্বিতীয় দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে কিছুক্ষণ আমরা চার বান্ধবী মিলে রুমের বেলকনিতে বসে আড্ডা দেই ঘন্টা খানিক,আড্ডা দেওয়ার পর গোসল করে রেডি হয়ে বসে থাকি ভাইয়ার অপেক্ষায় ভাইয়া ১০ মিনিট পর গাড়ি নিয়ে আসে, আর আমরা চা - পাতা বাগান ঘুরার উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হয়ে যাই।আমরা প্রায় ১২ টার দিকে সিলেট মালনীছড়া চা বাগান এসে পৌঁছাযই, দুই পাশে পাহাড়ের মধ্যে চা পাতা গাছ আর মাঝখান দিয়ে রাস্তা উফফফ অনেক সুন্দর, আমরা তো প্রকৃতির এতো সৌন্দর্য দেখে ফিদা,সবাই মিলে ছবি তোলা ভিডিও করা এসব করতে করতে অনেক আনন্দ পেয়েছি, চা-পাতা তোলা শ্রমিকদের সাথে চা পাতা তুলছি ভিডিও করছি একপর্যায়ে চা-পাতা বাগানে হাঁটতে হাঁটতে দেখা পেলাম কিছু রাবার গাছ এর উচু পাহাড়ের উপর রাবার বাগান,উচু পাহাড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চা বাগান এর সৌন্দর্য দেখতেছি। আর পাহাড়ের নিচে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি চা-পাতা বাগানে কাজ করা শ্রমিকরা কত সুন্দর করে ছোট্ট একটা বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে। এগুলো দেখতে অনেক ভালো লাগছিলো,চা-পাতা বাগানের পাশে থাকা ঘর-বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা চা এর দোকান দিয়ে বসে আছে কিছু পুরুষ এবং মহিলা, দোকানের সামনে বসে আমরা সবাই চা খেলাম,ওখানে থাকা লোকজনদের সাথে কিছু সময় আড্ডা দিলাম,চা বাগান ঘুরাঘুরি শেষ করে আমরা চলে গেলাম একটা রেস্টুরেন্টে তখন প্রায় তিনটা ত্রিশ বাজে দুপুরে খাবার খেয়ে আমরা চলে গেলাম সিলেট হযরত শাহজালাল (র:) মাজারে। মাজারে গিয়ে ঝাকে ঝাকে অনেকগুলো কবুতর দেখলাম পুকুর ভর্তি বিশাল বড় বড় মাগুর মাছ, ওখানে কিছু সময় থেকে মাজার গেটের সামনে এসে দোকান থেকে কিছু কেনাকাটা করলাম তারপর আমরা সবার বাসায় চলে আসি সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে, রাত ৮:৩০ মিনিটে আমাদের বাস ধরতে হবে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে।দধ বাসায় এসে হালকা নাস্তা করে ব্যাগ গুছিয়ে ৭:৩০ মিনিটের মধ্যে ভাবির থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম সিলেট বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্য, ভাইয়া আমাদেরকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসবে, আমাদের আগে থেকে বাসের টিকিট কাটা ছিল। রাত আটটা দশ মিনিটে আমার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছাই ভাইয়া আমাদের কিছু হালকা নাস্তা কিনে দিছে বাসে খাওয়ার জন্য। আমরা চারজন ভাইয়ার থেকে বিদায় নিয়ে বাসে উঠে যাই প্রায় পাঁচ মিনিট পর বাস ছেড়ে দেয়। আমরা সবাই সিলেট শহরকে বিদায় জানিয়ে ঘুমিয়ে যাই। রাত দুইটায় বাস হালকা বিরতি দেয় আমরা বাস থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে বাসে উঠে যাই।বাস চলতেছে নিজ গন্তব্যে ভোর ৬ টায় আমরা এসে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌছাই।ভাইয়া আমাদের কে বাসস্ট্যান্ড থেকে রিসিভ করে বাসায় নিয়ে আমাদের অনেক মজা এবং আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটছে সিলেট ৩ দিনের ট্যুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়